জে এস সি বাংলা ১ম পত্র তৈলচিত্রের ভূত গল্পের বহুনির্বাচনী ও সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

0
61

অষ্টম শ্রেণির বাংলা ১ম পত্র তৈলচিত্রের ভূত গদ্যের

বহুনির্বাচনী ও সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

তৈলচিত্রের ভূত মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

১. ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পটি লিখেছেন কে?

ক. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

খ. কাজী নজরুল ইসলাম

গ. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়✔

ঘ. আবুল মনসুর আহমদ

২. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?

ক. ১৯০৫

খ. ১৯০৭

গ. ১৯০৮✔

ঘ. ১৯১০

৩. ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পে ভূতের ওপর বিশ্বাস নেই — কোন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?

ক. পরাশর ডাক্তারের✔

খ. নরেন ডাক্তারের

গ. গণেশ ডাক্তারের

ঘ. নগেন ডাক্তারের

৪. রাতের অন্ধকারে তৈলচিত্র বেশি তেজি হয়ে ওঠে, কারণ তখন —

  1. বেশি বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়
  2. অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ থাকে

iii. কোনো মানুষ থাকে না

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i✔

খ. i ও ii

গ. ii ও iii

ঘ. i, ii ও iii

৫. মামার তৈলচিত্রে অশরীরী আত্মা প্রবেশ করেছে নগেনের এমন ধারণার কারণ —

  1. কুসংস্কারাচ্ছন্ন মন
  2. বিদ্যুৎ সম্পর্কে অজ্ঞতা

iii. মামার প্রতি ভক্তি

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. I

খ. i ও ii✔

গ. ii ও iii

ঘ. i, ii ও iii

৬. নগেনের পরাশর ডাক্তারের নিকট আসার কারণ —

  1. উদ্বিগ্নতা ও ভয় থেকে মুক্তি
  2. রোগের ওষুধ নেওয়া

iii. সাহায্যপ্রাপ্তি

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. I

খ. i ও ii

গ. ii ও iii

ঘ. i, ii ও iii✔

৭. মামার তৈলচিত্রটি ছিল কোথায়?

ক. নগেনের ঘরে

খ. পরাশর ডাক্তারের ঘরে

গ. লাইব্রেরি ঘরে✔

ঘ. মামির ঘরে

৮. নগেনের মামা কত বছরের মধ্যে লাইব্রেরির পেছনে একটি পয়সাও খরচ করেনি?

ক. ২৫ বছর

খ. ২৭ বছর

গ. ৩০ বছর

ঘ. ৩২ বছর✔

৯. ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পে ভূতের উৎপাত মূলত কোথা থেকে?

ক. অন্ধকার থেকে

খ. আলো থেকে✔

গ. ফ্রেম থেকে

ঘ. তৈলচিত্র থেকে

১০. ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পে লেখক কোনটিকে প্রকাশ করতে চেয়েছেন?

ক. মামার অভিজাত্যকে

খ. নগেনের ভূতে বিশ্বাসকে

গ. বিজ্ঞানের যুক্তিবাদীতাকে✔

ঘ. মানুষের কুসংস্কারকে

১১. আদিলের তিন দিন ধরে গায়ে জ্বর। ডাক্তার এসে তার কপালে হাত দিয়ে জ্বর পরীক্ষা করে দেখল। উদ্দীপকের জ্বর পরীক্ষা ও গল্পে আঙুলের ডগা পরীক্ষা করা কিসের নমুনা?

ক. রোগনির্ণয়ের✔

খ. উপসর্গ নির্ণয়ের

গ. রোগনিরাময়ের

ঘ. সহানুভূতির

১২. আরমান সাহেব একজন কলেজশিক্ষক। তিনি ছাত্রদের যেকোনো সমস্যার সমাধানে সহযোগিতা করেন। উদ্দীপকের চরিত্রটির সাথে গল্পে কার মিল পাওয়া যায়?

ক. নগেন

খ. মামা

গ. পরেশ✔

ঘ. ডাক্তার

১৩. ‘তুমি কোন দেশি ছেলে?’ — এখানে লেখক কোন বিষয়টি ফুটিয়ে তুলেছেন?

ক. অশিক্ষাকে

খ. অজ্ঞতাকে✔

গ. অজানাকে

ঘ. বুদ্ধিহীনতাকে

১৪. ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পটির মধ্যে লেখক কিসের প্রচেষ্টা করেছেন?

ক. কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গড়তে✔

খ. কুসংস্কারবিরোধী আন্দোলন করতে

গ. মানুষকে শিক্ষা দিতে

ঘ. ভালোবাসতে

১৫. ‘তৈলচিত্রের ভূত’ ছোটগল্পটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?

ক. মোসলেম ভারত

খ. সমকাল

গ. ইত্তেফাক

ঘ. মৌচাক✔

১৬. কত সালে মৌচাক পত্রিকায় তৈলচিত্রের ভূত প্রকাশিত হয়?

ক. ১৯৪১ সালে✔

খ. ১৯৪২ সালে

গ. ১৯৪৪ সালে

ঘ. ১৯৪৩ সালে

১৭. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় খ্যাতিমান কী হিসেবে?

ক. কবি ও গল্পকার

খ. কবি ও ঔপন্যাসিক

গ. ঔপন্যাসিক ও ছোটগল্পকার✔

ঘ. ঔপন্যাসিক ও নাট্যকার

১৮. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কত খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?

ক. ১৯৫৪✔

খ. ১৯৫৬

গ. ১৯৫৮

ঘ. ১৯৬০

১৯. নগেন কার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করত?

ক. মাসির

খ. পিসির

গ. মামার✔

ঘ. দাদার

২০. নগেন প্রায়ই তার মামাকে জমের বাড়ি পাঠাত কেন?

ক. পড়ার খরচ না দেওয়ায়

খ. ভালো ব্যবহার না করায়

গ. বিরক্তির ভাব প্রকাশ করায়

ঘ. অনাদর–অবহেলা করায়✔

১. নগেন কার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করত?

ক মাসির

খ পিসির

গ মামার✔

ঘ দাদার

২. নগেনের সাথে পরাশর ডাক্তারের প্রথম দেখা হয় কখন?

ক ২ মাস আগে✔

খ ৩ মাস আগে

গ ৪ মাস আগে

ঘ ৫ মাস আগে

৩. নগেন প্রায়ই তার মামাকে যমের বাড়ি পাঠাত কেন?

ক পড়ার খরচ না দেয়ায়

খ ভালো ব্যবহার না করায়

গ বিরক্তির ভাব প্রকাশ করায়

ঘ অনাদর অবহেলা করায়✔

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

আদনান সন্ধ্যাবেলা হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরছিল। একসময় মনে হলো তার পেছনে পেছনে কেউ হাঁটছে। সে পেছনে ফিরে তাকায় কিন্তু কিছুই দেখতে পায় না। ফলে সে ভয়ে কাঁপছিল। এমন সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে সে জোরে চিৎকার দিয়ে ওঠে। তার মা বাতি নিয়ে ছুটে এসে দেখেন আদনানের পায়ের জুতার তলে পেরেক গাঁথা একটা কাঠি। এতক্ষণে আদনান ভয়ের কারণ খুঁজে পায়।

৪. উদ্দীপকের আদনান-এর সাথে ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের নগেনের সাদৃশ্যের কারণ-

ক তাদের বয়স কম

খ তারা অন্ধকারকে ভয় করত

গ তারা ভীষণ ভিতু ছিল✔

ঘ তারা ভূত দেখেছিল

৫. এরূপ সাদৃশ্যের মূলে কোনটি বিদ্যমান?

ক বাস্তবজ্ঞানের অভাব✔

খ প্রকৃত শিক্ষা না পাওয়া

গ মানসিক বিকাশ না হওয়া

ঘ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারা

৬. তৈলচিত্রের ভূত গল্পে প্রকাশ পেয়েছে নগেনের-

  1. অজ্ঞানতা
  2. বিচারবুদ্ধিহীনতা

iii. কুসংস্কারাচ্ছন্নতা

নিচের কোনটি সঠিক?

ক i ও ii

খ i ও iii

গ ii ও iii

ঘ i, i ও iii✔

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৭ ও ৮ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :

শনিবারে গজার মাছ খেলে অমঙ্গল হয়। বাড়ি থেকে বের হবার সময় খালি কলস দেখলে যাত্রা শুভ হয় না।

৭. উদ্দীপকটি ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের কার চিন্তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ?

ক পরেশ

খ নগেন✔

গ পরাশর ডাক্তার

ঘ নগেনের মামা

৮. উক্ত সাদৃশ্যের ভিত্তি-

  1. বিচারবুদ্ধির অভাব
  2. কুসংস্কারে বিশ্বাস

iii. বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের অভাব

নিচের কোনটি সঠিক?

ক i ও ii

খ i ও iii

গ ii ও iii

ঘ i, ii ও iii✔

৯. ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের মুখ্য উদ্দেশ্য কী?

ক ভৌতিক পরিবেশ সৃষ্টি

খ আলোকিক ঘটনার সমাবেশ

গ শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক করা✔

ঘ পাঠকদের নিছক আনন্দ দান

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ১০ ও ১১ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :

“ইলিয়াস মাঝে মাঝে রাতে ভয়ে জেগে ওঠে। তার মনে হয় ভূতে তাকে তাড়া করছে। সে কাউকে বলে না। দিন দিন আরো ভয় বাড়ছে এবং শরীর খারাপ হচ্ছে।

১০. “তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের আলোকে ইলিয়াসের ভয় পাওয়ার কারণ-

ক শিক্ষার অভাব

খ মানসিক বিপর্যয়

গ ভীতিকর মানসিকতা

ঘ বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের অভাব✔

১১. উক্ত অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায়-

  1. বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন
  2. আধুনিক চেতনা ধারণ

iii. কুসংস্কার মুক্ত হওয়া

নিচের কোনটি সঠিক?

ক i ও ii

খ i ও iii

গ ii ও iii

ঘ i, ii ও iii

১২. তৈলচিত্র থেকে কি যেন তার ভিতর থেকে কাঁপিয়ে তুলেছিল?

ক বিদ্যুৎ✔

খ ভূত প্রেত

গ এসিড

ঘ অশরীরী আত্মা

১৩. পরাশর ডাক্তার রাত কয়টায় নগেনদের বাড়িতে আসেন?

ক ১০টায়

খ ১১টায়

গ ১২টায়✔

ঘ ১টায়

১৪. ‘প্রাগৈতিহাসিক’ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোন জাতীয় রচনা?

ক উপন্যাস

খ নাটক

গ ছোটগল্প✔

ঘ কাব্য

১৫. ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পে লেখক নগেন চরিত্রের মধ্যে কীসের স্বরূপ ব্যাখ্যা করেছেন?

ক ভূত বিশ্বাসের

খ কুসংস্কারের✔

গ কাল্পনিকতার

ঘ বিজ্ঞান বুদ্ধির

১৬. ‘পরেশ তোমার মামার উপযুক্ত ছেলেই বটে’- পরাশর ডাক্তারের এ কথায় রয়েছে-

  1. উপহাস
  2. তাচ্ছিল্য

iii. প্রতিহিংসা

নিচের কোনটি সঠিক?

ক i ও ii✔

খ i ও iii

গ ii ও iii

ঘ i, ii ও iii

নিচের অংশটুকু পড় এবং ১৭ ও ১৮ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :

সন্ধ্যারাতে অন্ধকারে কলপাড়ে গিয়ে দড়ির ওপর পা পড়ায় চিৎকার দিয়ে ওঠে বানেছা। বড়ভাই দৌড়ে এসে পায়ের নিচ থেকে টেনে বের করা দড়ি দেখিয়ে বলে- সাপ কই, এ তো দড়ি।

১৭. উদ্দীপকের বানেছা ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের কোন চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে?

ক নগেন✔

খ পরেশ

গ মামা

ঘ পরাশর ডাক্তার

১৮. উক্ত প্রতিনিধিত্বের কারণ-

  1. অন্ধবিশ্বাস
  2. অন্তঃসারশূন্যতা

iii. বিচারবুদ্ধিহীনতা

নিচের কোনটি সঠিক?

ক i ও i

খ i ও iii

গ ii ও iii

ঘ i, ii ও iii

১৯. নগেনের বর্ণিত কাহিনীকে পরাশর ডাক্তার চমকপ্রদ অবিশ্বাস্য কাহিনী বলেছেন কেন?

ক বাস্তবতাবর্জিত✔

খ কল্পকাহিনী বলে

গ ভৌতিক বলে

ঘ অলৌকিক বলে

২০. নিচের কোনটি পরাশর ডাক্তারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?

ক সাহসী ও ন্যায়পরায়ণ

খ বুদ্ধিমান ও আধুনিক✔

গ জ্ঞানী ও সৎ

ঘ নম্র ও বিনয়ী

২১. পরাশর ডাক্তার পড়ে গেলেন কেন?

ক বিদ্যুতের ধাক্কায়✔

খ পা হড়কে

গ ভূতের ধাক্কায়

ঘ দুর্বলতার কারণে

২২. ‘মরলে তো মানুষ সব জানতে পারে’-এটি কার উক্তি?

ক ডাক্তারের

খ দরবেশের

গ আত্মার

ঘ নগেনের✔

২৩. রাত বারোটায় পরাশর ডাক্তার নগেনকে কোথায় অপেক্ষা করতে বললেন?

ক বাইরের ঘরে✔

খ বাড়ির সামনে

গ লাইব্রেরিতে

ঘ নিজ কক্ষে

২৪. ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পটিতে কোন মাসের উল্লেখ আছে?

ক বৈশাখ

খ জ্যৈষ্ঠ

গ ফাল্গুন

ঘ চৈত্র✔

২৫. ‘ভর্ৎসনা’ অর্থ কী?

ক কান্না

খ তিরস্কার✔

গ হাসি

ঘ উৎসাহ

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ২৬ ও ২৭নং প্রশ্নের উত্তর দাও :

আজ সানির জেএসসি পরীক্ষা। মা তাকে সকালে কলা ও ডিম খেতে দিল না।

২৬. মায়ের ধারণাটি ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের কার চিন্তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ?

ক পরেশ

খ পরাশর ডাক্তার

গ নগেন✔

ঘ মামা

২৭. উক্ত সাদৃশ্যের ভিত্তি-

  1. কুসংস্কারে বিশ্বাস
  2. বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের অভাব

iii. বিচারবুদ্ধির অভাব

নিচের কোনটি সঠিক?

ক i ও ii

খ i ও iii

গ ii ও iii

ঘ i, ii ও iii✔

২৮. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কত সালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন? (জ্ঞান)

ক ১৯৪৩

খ ১৯৫৬✔

গ ১৯৬০

ঘ ১৯৬৫

২৯. ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ উপন্যাসটির লেখক কে? (জ্ঞান)

ক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

খ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়✔

গ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

ঘ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

৩০. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন? (জ্ঞান)

ক ১৯০৭

খ ১৯০৮✔

গ ১৯০৯

ঘ ১৯১০

৩১. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কোথায় জন্মগ্রহণ করেন? (জ্ঞান)

ক চব্বিশ পরগনায়

খ সাঁওতাল পরগনার দুমকায়✔

গ রাজশাহীর চারঘাটে

ঘ সিলেটের শ্রীমঙ্গলে

৩২. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিশোর উপযোগী গল্পের সংখ্যা কতটি? (জ্ঞান)

ক ২৩

খ ২৫

গ ২৬

ঘ ২৭✔

৩৩. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৈতৃক নিবাস কোনটি? (জ্ঞান)

ক শাহবাজপুর

খ জয়দেবপুর

গ বিক্রমপুর✔

ঘ শ্রীপুর

৩৪. ‘পদ্মানদীর মাঝি’- কী ধরনের রচনা? (অনুধাবন)

ক উপন্যাস✔

খ ভ্রমণকাহিনী

গ রম্যরচনা

ঘ নাটক

৩৫. ‘প্রাগৈতিহাসিক’ গল্পের রচয়িতা কে? (জ্ঞান)

ক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়✔

খ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

গ আবু জাফর শামসুদ্দিন

ঘ শওকত ওসমান

৩৬. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সরীসৃপ’ কোন ধরনের রচনা? (অনুধাবন)

ক কাব্যগ্রন্থ

খ ছোটগল্প✔

গ নাটক

ঘ প্রবন্ধ

৩৭. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মাঝির ছেলে’ কোন ধরনের রচনা? (অনুধাবন)

ক কিশোর-উপন্যাস✔

খ কিশোর-উপযোগী ছোটগল্প

গ ভ্রমণকাহিনী

ঘ রম্যরচনা

মূলপাঠ

৩৮. কে চোরের মতো নিঃশব্দে ঘরে ঢুকে টেবিল ঘেঁষে দাঁড়াল? (জ্ঞান)

ক নগেন✔

খ পরাশর ডাক্তার

গ দাদামশায়

ঘ দিদিমা

৩৯. কে মুখ না তুলেই নগেনকে বসতে বললেন? (জ্ঞান)

ক দাদামশায়

খ নিরঞ্জন

গ পরাশর ডাক্তার✔

ঘ দিদিমা

৪০. ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পে কার চাউনি একটু উদ্ভ্রান্ত ছিল? (জ্ঞান)

ক দিদিমার

খ নগেনের✔

গ পরাশর ডাক্তারের

ঘ নগেনের মামার

৪১. নগেন কোথায় থেকে কলেজে পড়ে? (জ্ঞান)

ক মামাবাড়ি✔

খ দাদাবাড়ি

গ মাসির বাড়ি

ঘ পরাশর ডাক্তারের বাড়ি

৪২. নগেনের মামা কেমন ছিলেন? (অনুধাবন)

ক কৃপণ✔

খ উদার

গ উগ্র মেজাজি

ঘ ভদ্র ও নম্র

৪৩. কার জন্য শ্রদ্ধা-ভক্তিতে নগেনের মন ভরে গেল? (জ্ঞান)

ক মামার জন্য✔

খ পরাশর ডাক্তারের জন্য

গ দিদিমার জন্য

ঘ পরেশের জন্য

৪৪. নগেন মরিয়া হয়ে কখন বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ল? (জ্ঞান)

ক রাত একটায়

খ রাত দুইটায়

গ রাত তিনটায়✔

ঘ রাত সাড়ে তিনটায়

৪৫. লাইব্রেরিটি কোন আমলের ছিল? (জ্ঞান)

ক নগেনের বাবার আমলের

খ নগেনের বড় ভাইয়ের আমলের

গ নগেনের দাদামশায়ের আমলের✔

ঘ নগেনের মামাদের আমলের

৪৬. লাইব্রেরির আলমারির ভেতরগুলোতে কী ছিল? (জ্ঞান)

ক মামার প্রয়োজনীয় বই

খ অদরকারি বাজে বই✔

গ জরুরি বইপত্র

ঘ দাদামশায়ের বিভিন্ন ফাইল

৪৭. লাইব্রেরির দেয়ালে কয়টি বড় বড় তৈলচিত্র ছিল? (জ্ঞান)

ক ২

খ ৩✔

গ ৪

ঘ ৫

৪৮. লাইব্রেরির দেয়ালে টানানো ক্যালেন্ডারে ইংরেজি কোন মাসের তারিখ লেখা কাগজের ফলক ঝুলছিল? (জ্ঞান)

ক জানুয়ারির

খ মার্চের

গ ডিসেম্বরের✔

ঘ সেপ্টেম্বরের

৪৯. অন্ধকারে নগেন কার তৈলচিত্রের সামনে এগিয়ে গেল? (জ্ঞান)

ক দাদামশায়ের

খ মামার✔

গ দিদিমার

ঘ মায়ের

৫০. কখন নগেনের জ্ঞান ফিরল? (জ্ঞান)

ক ভোর রাতে

খ সকালে✔

গ শেষ রাতে

ঘ দুপুরে

৫১. নগেনের মামার তৈলচিত্রটি কীসের ফ্রেমে বাঁধানো ছিল? (জ্ঞান)

ক কাঠের

খ রুপার✔

গ সোনার

ঘ তামার

৫২. নগেনকে কে একটা আস্ত গর্দভ বলল? (জ্ঞান)

ক মামা

খ দাদামশায়

গ পরাশর ডাক্তার✔

ঘ দিদিমা

৫৩. নগেনের মামার ছবির সঙ্গে কয়টি ইলেকট্রিক বাল্ব লাগান হয়েছিল? (জ্ঞান)

ক ১

খ ২✔

গ ৩

ঘ ৪

৫৪. ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হয়েছিল কে? (জ্ঞান)

ক নগেন

খ পরেশ✔

গ সুজিত

ঘ সুরঞ্জিত

৫৫. বিদ্যুৎ কোন তার দিয়ে বেশি চলাচল করে থাকে? (জ্ঞান)

ক তামার তার✔

খ প্লাস্টিকের তার

গ পিতলের তার

ঘ রাবারের তার

৫৬. নগেনের মামা কত বছরের মধ্যে লাইব্রেরির পেছনে একটি পয়সাও খরচ করেনি? (জ্ঞান)

ক ২৫

খ ২৭

গ ৩০✔

ঘ ৩২

৫৭. পরলোকগত মামার জন্য নগেনের মনে শ্রদ্ধা-ভক্তি বৃদ্ধি পেল কেন? (অনুধাবন)

ক  মামা নিজের ছেলের মতো তাকে ভালোবাসত জেনে✔

খ  মামা নিজের সব সম্পদ তাকে দিয়েছে জেনে

গ  মামা তার জন্য জমি দিয়েছিল জেনে

ঘ  মামা তার লেখাপড়া চালানোর সুযোগ দিয়েছে জেনে

৫৮. নগেন রাত তিনটায় মরিয়া হয়ে বিছানা ছাড়ল কেন? (অনুধাবন)

ক মামার তৈলচিত্রের পায়ে মাথা ঠেকিয়ে মনকে শান্ত করার জন্য✔

খ ভূতের ভয় পেয়ে বাড়ির সবাইকে ডাকার জন্য

গ মামার তৈলচিত্রে মালা পরানোর জন্য

ঘ পরাশর ডাক্তারের কাছে সব ঘটনা জানানোর জন্য

৫৯. নগেন রাত্রিবেলায় লাইব্রেরিতে ঢোকার সময় আলো বন্ধ রাখল কেন? (অনুধাবন)

ক চোর বুঝে ফেলবে এ ভয়ে

খ কারো ঘুম ভেঙে যাওয়ার ভয়ে✔

গ মামি বুঝে ফেলবে এ ভয়ে

ঘ বাড়ির সকলে রাগ করবে এ ভয়ে

তৈলচিত্রের ভূত গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

প্রশ্ন ১। একটু থেমে পরাশর ডাক্তার আবার কী বললেন?

উত্তর: একটু থেমে পরাশর ডাক্তার আবার বললেন- ভূত বলে কিছুই নেই নগেন।

প্রশ্ন ২। ‘উইল’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: উইল শব্দের অর্থ হচ্ছে শেষ ইচ্ছাপত্র।

প্রশ্ন ৩। তৈলচিত্র কী?

উত্তর: ‘তৈলচিত্র’ হলো তেলরঙে আঁকা ছবি।

প্রশ্ন ৪। কিছু পয়সা বাঁচানোর জন্য পরেশ বাপের ছবিতে কী এনে ছেড়েছে?

উত্তর: কিছু পয়সা বাঁচানোর জন্য পরেশ বাপের ছবিতে ভূত এনে ছেড়েছে।

প্রশ্ন ৫। নগেনের ঘুম আসছিল না কেন?

উত্তর: মামাকে সারা জীবন ভক্তি আর ভালোবাসার ভান করে ঠকিয়েছে ভেবে অনুতপ্ত হওয়ায় নগেনের ঘুম আসছিল না।

প্রশ্ন ৬। পরাশর ডাক্তার কোথায় বসে চিঠি লিখেছিলেন?

উত্তর: পরাশর ডাক্তার নিজের প্রকাণ্ড লাইব্রেরিতে বসে চিঠি লিখেছিলেন।

প্রশ্ন ৭। ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?

উত্তর: ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পটি ‘মৌচাক’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ।

প্রশ্ন ৮। লাইব্রেরির দেয়ালে কয়টি তৈলচিত্র ছিল?

উত্তর: লাইব্রেরির দেয়ালে তিনটি তৈলচিত্র ছিল।

প্রশ্ন ৯। ‘ভূত’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: ভূত শব্দের অর্থ হলো- প্রেতাত্মা।

প্রশ্ন ১০। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু সাল কত?

উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু সাল ১৯৫৬।

প্রশ্ন ১১। নগেনদের বাড়ির লাইব্রেরিটি কার আমলের?

উত্তর: নগেনদের বাড়ির লাইব্রেরিটি নগেনের দাদামশায়ের আমলের।

প্রশ্ন ১২। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিশোর-উপযোগী গল্পের সংখ্যা কত?

উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিশোর-উপযোগী গল্পের সংখ্যা ২৭।

প্রশ্ন ১৩। ‘তৈলচিত্রের ভূত’ কোন জাতীয় রচনা?

উত্তর: ‘তৈলচিত্রের ভূত’ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি কিশোর- উপযোগী ছোটগল্প ।

প্রশ্ন ১৪। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম কত সালে?

উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

প্রশ্ন ১৫। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মাঝির ছেলে’ কী ধরনের রচনা?

উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মাঝির ছেলে’ একটি কিশোর উপন্যাস।

প্রশ্ন ১৬। নগেনের মামার গায়ে কিসের পাঞ্জাবি ছিল?

উত্তর: নগেনের মামার গায়ে মটকার পাঞ্জাবি ছিল।

প্রশ্ন ১৭। লাইব্রেরির দেয়ালে কয়টি তৈলচিত্র ছিল?

উত্তর: লাইব্রেরির দেয়ালে তিনটি তৈলচিত্র ছিল।

প্রশ্ন ১৮। ‘মটকা’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: ‘মটকা’ শব্দের অর্থ- রেশমের মোটা কাপড়।

প্রশ্ন ১৯। উইল কী?

উত্তর: ‘উইল’ হচ্ছে- শেষ ইচ্ছাপত্র।

প্রশ্ন ২০। ‘উদ্ভ্রান্ত’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: ‘উদ্ভ্রান্ত’ শব্দের অর্থ- বিহ্বল, দিশেহারা, হতজ্ঞান ।

প্রশ্ন ২১। নগেন কোথায় থেকে কলেজে পড়ে?

উত্তর: নগেন তার মামাবাড়িতে থেকে কলেজে পড়ে।

প্রশ্ন ২২। নগেনের মামা কী রকম লোক ছিলেন?

উত্তর: নগেনের মামা কৃপণ লোক ছিলেন।

প্রশ্ন ২৩। নগেন তার মামাকে মনে মনে প্রায়ই কোথায় পাঠাত?

উত্তর: যমের বাড়ি ।

প্রশ্ন ২৪। নগেনের মামা শেষ সময়ে নগেনের জন্য কী করেছেন?

উত্তর: নগেনের নামে টাকা উইল করেছেন।

প্রশ্ন ২৫। পাগল সহজে কী টের পায় না?

উত্তর: পাগল সহজে টের পায় না যে সে পাগল হয়ে গেছে।

প্রশ্ন ২৬। নগেন মরিয়া হয়ে ডাক্তারকে কী জিজ্ঞেস করেছিল?

উত্তর: সত্যই প্রেতাত্মা আছে কিনা।

প্রশ্ন ২৭। নগেনের কাহিনি কেমন ছিল?

উত্তর: নগেনের কাহিনি ছিল অবিশ্বাস্য আর চমকপ্রদ।

প্রশ্ন ২৮। নগেন কোনোদিনও কী কল্পনা করতে পারেনি?

উত্তর: মামার অকৃত্রিম উদারতা।

প্রশ্ন ২৯। নগেন তার মামাকে কীভাবে ঠকিয়েছিল?

উত্তর: নগেন তার মামাকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার ভান করে ঠকিয়েছিল ।

প্রশ্ন ৩০। নগেন তার মৃত মামাকে কীভাবে ভক্তিশ্রদ্ধা করতে চেয়েছিল?

উত্তর: নগেন তার মৃত মামার তৈলচিত্রের পায়ে মাথা ঠেকিয়ে ভক্তিশ্রদ্ধা করতে চেয়েছিল।

তৈলচিত্রের ভূত গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

প্রশ্ন ১ : রফিক সাহেব শীতের ছুটিতে ভাগ্নি সাহানাকে নিয়ে গ্রামে বেড়াতে যান। রাতের আকাশ দেখার জন্য তারা খোলা মাঠে যান। অদূরেই দেখতে পান মাঠের মধ্যে হঠাৎ এক প্রকার আলো জ্বলে ওঠে তা সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। ওটা কিসের আলো তা জানতে চাইলে সাহানার মামা বলেন, ভূতের! সাহানা ভয় পেয়ে তার মামাকে জড়িয়ে ধরে। মামা তখন তাকে বুঝিয়ে বলেন যে, খোলা মাঠের মাটিতে এক প্রকার গ্যাস থাকে- যা বাতাসের সংস্পর্শে এলে জ্বলে ওঠে। সাহানা বিষয়টা বুঝতে পেরে স্বাভাবিক হয়।

ক. ‘তৈলচিত্রের ভূত’ কোন জাতীয় রচনা? ১

খ. নগেনকে ভর্ৎসনা করলেন কেন? ২

গ.উদ্দীপকের সাহানা আর ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের নগেনের বিশেষ মিল কোথায়?- ব্যাখ্যা কর। ৩

ঘ. “রফিক সাহেব আর ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের পরাশর ডাক্তার উভয়কে আধুনিক মানসিকতার অধিকারী বলা যায়?”- উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর। ৪

উত্তর

ক. ‘তৈলচিত্রের ভূত’ কিশোর উপযোগী একটি ছোটগল্প।

খ. নগেনের বোকমির কারণে পরাশর ডাক্তার নগেনকে ভর্ৎসনা করলেন।

নগেন তার মামার তৈলচিত্রে হাত দিয়ে বৈদ্যুতিক শক খাওয়ার পর কোনো রকম যুক্তি দিয়ে বিচার না করে সে এটাকে ভূতের কাজ মনে করে। সে পরাশর ডাক্তারের কাছে এর সমাধানের জন্য যায়। কিন্তু তৈলচিত্রটি যে রুপার ফ্রেমে বাঁধা এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ আছে তা সে বলে না। পরাশর ডাক্তার রাতের অন্ধকারে তৈলচিত্রটি স্পর্শ করলে তিনিও বৈদ্যুতিক শক খান। তখন তিনি সামান্য বৈদ্যুতিক শক না বোঝার জন্য এবং রুপার ফ্রেম ও বৈদ্যুতিক সংযোগের কথা না বলার জন্য নগেনকে ভর্ৎসনা করেন।

গ. অশরীরী শক্তির ওপর বিশ্বাস এবং তা থেকে উত্তরণের দিক থেকে উদ্দীপকের সাহানা আর ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের নগেন চরিত্রের মিল রয়েছে।

‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পে নগেন তার মামার ছবিতে হাত দিয়ে বৈদ্যুতিক শক খেয়েছিল। বিষয়টি সম্পর্কে তার মনে ভ্রান্ত ধারণা ছিল। তাই সে ধরেই নিয়েছিল মামার মৃত্যুর পর তার প্রেতাত্মা তাকে ভয় দেখাচ্ছে। অবশেষে পরাশর ডাক্তারের সহায়তায় তার এ ভ্রান্তি দূর হয়।

উদ্দীপকে রাতে মাঠে ঘুরতে গিয়ে মামার কথায় বিভ্রান্ত হয়ে সাহানা ভয় পেয়েছে। ভূতের কথাকে সত্যি ভেবে নিয়ে সে ভয়ে মামাকে জড়িয়ে ধরে। তবে শেষ পর্যন্ত তার মামার কথাতেই সে ভুল বুঝতে পেরে স্বাভাবিক হয়েছে। যেমনটি নগেনের ক্ষেত্রেও ঘটেছে। সাহানার মামা এবং গল্পের পরাশর ডাক্তার বৈজ্ঞানিক যুক্তি দিয়ে সমস্যার কারণ তুলে ধরেছেন, ফলে সাহানা ও নগেন সঠিক ধারণা পেয়েছে। এদিক থেকে উদ্দীপকের সাহানা ও ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পে নগেনের মধ্যে বিশেষ মিল লক্ষ করা যায়।

ঘ. বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তা-চেতনার দিক থেকে উদ্দীপকের রফিক সাহেব এবং ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের পরাশর ডাক্তারকে আধুনিক মানসিকতার মানুষ বলা যায়।

‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পে নগেন ভূতের ভয় পেয়ে পরাশর ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়। তিনি তাকে ভয়ের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে অবহিত করেন। ফলে নগেন শঙ্কামুক্ত হয়। উদ্দীপকের সাহানা ভূতের ভয় পেলে তার মামা তাকে মাঠে আগুন জ্বলে উঠার প্রকৃত কারণ ব্যাখ্যা করেন। এতে সাহানা আশ্বস্ত হয় এবং তার ভূতের ভয় কেটে যায়।

উদ্দীপকের রফিক সাহেব ও ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের পরাশর ডাক্তার উভয়ই যুক্তিবাদি মানুষ। পরাশর ডাক্তার নগেনকে তার মামার ছবিতে কেন বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। রফিক সাহেবও সাহানার ক্ষেত্রে একই কাজ করেন। আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে ভূত-প্রেতের মতো কাল্পনিক কোনো বিষয়ে বিশ্বাস করা রফিক সাহেব কিংবা পরাশর ডাক্তারের চরিত্রে নেই। তারা বৈজ্ঞানিক যুক্তি দিয়ে এসব ঘটনা বিচার করেছেন।

প্রশ্ন ২ : বৈশাখ মাসের খাঁ-খাঁ দুপুরে গ্রামের বড় তেঁতুলগাছের নিচে পাতা কুড়াতে যায় আসমানী। প্রচ- গরমে হঠাৎ সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। ওই পথে বাড়ি ফেরা হাটুরে আমজাদ মিয়ার মাধ্যমে পুরো গ্রামে এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামবাসীর সঙ্গে সঙ্গে আসমানীর বাবাও ভাবেন তেঁতুলগাছের নিচে যাওয়ায় ভূতে আসমানীর এই অবস্থা করেছে। তাই মেয়ের সুস্থতার জন্য কবিরাজ ডেকে আনেন আসমানীর বাবা।

ক. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম কত সালে? ১

খ. মামার তৈলচিত্রে প্রণাম করার কথা নগেনের মনে হল কেন? ২

গ. উদ্দীপকের আসমানী ও ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের নগেনের সাদৃশ্য কোথায়? ব্যাখ্যা কর। ৩

ঘ. ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের মূল বিষয় উপস্থাপনে উদ্দীপকটি সহায়ক হয়েছে কি? তোমার যৌক্তিক মতামত দাও। ৪

উত্তর-ক : মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন ১৯০৮ সালে।

উত্তর-খ : মামার উদারতার পরিচয় পেয়ে নিজের ভুল বুঝতে পেরে মামার তৈলচিত্রে প্রণাম করার কথা মনে হয় নগেনের।

বড়লোক কৃপণ মামার ব্যবহারে নগেন সন্তুষ্ট ছিল না। কিন্তু মামার মৃত্যুর পর সে জানতে পারে মামা তাকে অনেক টাকা উইল করে গেছেন। এ কারণে মামার প্রতি তার ভক্তি জন্মায়। তাই মামার তৈলচিত্রে প্রণাম করার কথা তার মনে হয়।

উত্তর-গ : উদ্দীপকে আসমানী কুসংস্কারের শিকার ও ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের নগেন উভয়েই কুসংস্কারে বিশ্বাসী। তাদের সাদৃশ্য মূলত এখানেই।

‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পে নগেন জীবিতাবস্থায় তার মামাকে কখনই মন থেকে শ্রদ্ধা বা ভক্তি করেনি। এ কারণে তার মনে এক ধরনের অপরাধবোধ কাজ করছিল। মামার ছবিতে হাত দেয়ার পর তার সে অপরাধবোধের শঙ্কাও বিশ্বাসে পরিণত হয়। শক খাওয়ার ফলে নগেনের মনে হয় মৃত্যুর পর মামা তার মনের আসল ব্যাপারটি টের পেয়েছেন। মামার ভূত নামক অশরীরী অস্তিত্ব তাকে ভীত করে তোলে।

উদ্দীপকে বৈশাখের দুপুর বেলা পাতা কুড়াতে যায় আসমানী। রোদের তাপ সহ্য করতে না পেরে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। ওই পথ দিয়েই ফিরছিল আমজাদ মিয়া; তার মুখে শুনে সবাই বিশ্বাস করতে শুরু করে আসমানীকে ভূতে ধরেছে। অর্থাৎ আসমানী প্রচলিত কুসংস্কারের শিকার হয়েছে। দেখা যায়, গল্পের নগেন ও উদ্দীপকের আসমানীর সাদৃশ্য হল তারা একজন কুসংস্কারে বিশ্বাসী এবং অন্যজন কুসংস্কারের শিকার হয়েছে।

উত্তর-ঘ : উদ্দীপকে ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের কিয়দাংশের প্রতিফলন ঘটেছে। তবে গল্পের মূল বিষয়টি উপস্থাপনে      উদ্দীপকটি সম্পূর্ণ সহায়ক হয়েছে বলে আমি মনে করি না।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের মধ্যে আমরা দুটি বিষয় লক্ষ করি- কুসংস্কারের প্রভাব ও বিজ্ঞানমনস্কতার ছাপ। একদিকে গল্পের নগেন যেমন কুসংস্কারে আচ্ছন্ন হয়ে ভূতের ভয়কে সত্যি বলে মনে করেছে। অন্যদিকে পরাশর ডাক্তার তার যুক্তিবোধ দিয়ে নগেনের মনের ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছেন। ফলে বিজ্ঞান ও কুসংস্কারের দ্বন্দ্বে বিজ্ঞান জয়লাভ করেছে।

উদ্দীপকের আসমানীও গল্পের নগেনের মতো কুসংস্কারের শিকার। দুপুরের রোদের তাপ সহ্য করতে না পেরে সে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল। কিন্তু আমজাদ মিয়া বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে না দেখে তাকে অন্য রূপ দিয়েছে। ফলে আসমানীকে কেন্দ্র করে ভূতের ভয়ের বিষয়টি সামাজিক সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা কুসংস্কারের নামান্তর।

উভয় বিষয় পর্যালোচনায় বলা যায়, উদ্দীপকে শুধু কুসংস্কারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু তাকে যুক্তি দিয়ে বিচার করা হয়নি। কিন্তু গল্পে কুসংস্কারের বিষয়টি তুলে ধরা হলেও সেখানে যুক্তি দিয়ে সমাধান করা হয়েছে। ফলে কুসংস্কার ও বৈজ্ঞানিক চিন্তাকে আমরা পাশাপাশি দেখতে পাই। তাই দেখা যায়, তৈলচিত্রের ভূত গল্পের মূল বিষয় উপস্থাপনে উদ্দীপকটি সম্পূর্ণ সহায়ক নয়।

প্রশ্ন ৩ : কৃষক গণি মিয়ার বড় ছেলে ফটিক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। গণি মিয়া কবিরাজের কাছ থেকে পানি পড়া এনে খাওয়া এবং তাবিজ দরজায় ঝুলিয়ে রাখেন। বাড়ির সবাইকে সাবধান করে বলেন খোঁড়া কোনো প্রাণী দেখলে যেন তাড়িয়ে দেওয়া হয়। তার ধারণা ডেঙ্গু জ্বর খোঁড়া প্রাণীর রূপ ধরে বাড়িতে আসে। কিন্তু গণি মিয়ার অষ্টম শ্রেণিতে পড়া ছোট ছেলে রবিন বাবার ধারণা ভুল প্রমাণ করতে তার বিজ্ঞান বইয়ের ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশার উদাহরণ দেয়।

ক. নগেনের মামার গায়ে কীসের পাঞ্জাবি ছিল? ১

খ. নগেন তার মামার তৈলচিত্রে প্রণাম করতে গেল কেন? ২

গ. উদ্দীপকের গণি মিয়ার ধারণাটি ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের যে দিকটি ফুটিয়ে তুলেছে তা ব্যাখ্যা কর। ৩

ঘ. তুমি কি মনে কর রবিন পরাশর ডাক্তারের যথার্থ প্রতিনিধি? উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও। ৪

উত্তর- ক : নগেনের মামার গায়ে মটকার (রেশমের মোটা কাপড়) পাঞ্জাবি ছিল।

উত্তর- খ : সারাজীবন মামাকে অশ্রদ্ধা করার আত্মগ্লানি কমাতে নগেন মামার তৈলচিত্রে প্রণাম করতে যায়।

নগেন মনে করত তার মামা তাকে ভালোবাসেন না। কিন্তু মামার মৃত্যুর পর সে জানতে পারে মামাতো ভাইদের সমান সম্পত্তি মামা তার নামে লিখে দিয়েছেন। নগেনকে নিজের ছেলেদের মতোই ভালোবাসতেন জেনে পরলোকগত মামার জন্য আন্তরিক শ্রদ্ধা-ভক্তিতে তার মন ভরে ওঠে। আত্মগ্লানি দূর করতে নগেন তাই মামার তৈলচিত্রে প্রণাম করতে যায়।

উত্তর- গ : উদ্দীপকের গণি মিয়ার ধারণাটি ‘ তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের নগেনের ভূত বিশ্বাসের দিকটিকে ফুটিয়ে তুলেছে।

‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পে মামার মৃত্যুর পর নগেনের মনে হয় সারাজীবন ভক্তি-শ্রদ্ধার ভান করে মামাকে ঠকিয়েছে আর তাই তৈলচিত্রে প্রণাম করে সে আত্মগ্লানি কমাতে চায় নগেন। এজন্য শ্রাদ্ধের দিন রাত্রে মামার তৈলচিত্রের পায়ের কাছে আন্দাজে স্পর্শ করলে বৈদ্যুতিক শক খেয়ে জ্ঞান হারায়। মামার অশরীরী আত্মা এ কাজ করছে বলে নগেন মনে করে।

উদ্দীপকে কৃষক গণি মিয়ার বড় ছেলে ফটিক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। গণি মিয়া কবিরাজের কাছ থেকে পানি পড়া এনে ছেলেকে খাওয়ান। তাবিজ এনে দরজায় ঝুলিয়ে রাখেন, বাড়ির সকলকে বলেন, খোঁড়া কোনো প্রাণী দেখলে যেন তাড়িয়ে দেয়। তার ধারণা ডেঙ্গু জ্বর খোঁড়া প্রাণীর রূপ ধরে বাড়িতে প্রবেশ করে। ‘ তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের নগেন যেমন বৈদ্যুতিক শক খেয়ে তাকে মামার অশরীরী শক্তি বা প্রেতাত্মা মনে করেছে, তেমনি উদ্দীপকের গণি মিয়াও কুসংস্কারে বিশ্বাসী হয়ে খোঁড়া প্রাণীকে ডেঙ্গু জ্বরের বাহক ভেবেছেন। এক্ষেত্রে উদ্দীপকের গণি মিয়ার ধারণাটি ‘ তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের নগেনের ভূতে বিশ্বাসের দিকটিকেই ফুটিয়ে তুলেছে।

উত্তর- ঘ : আমি মনে করি বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ হিসেবে রবিন পরাশর ডাক্তারের যথার্থ প্রতিনিধি।

‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পে পরাশর ডাক্তার একজন বিজ্ঞানমনস্ক ও বাস্তবজ্ঞানসম্পন্ন মানুষ। নগেন বৈদ্যুতিক শক খাওয়ার ঘটনাটিকে অদৃশ্য শক্তির কাজ বলে ধরে নিলে পরাশর ডাক্তার বিষয়টি যাচাই করে এর বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা দেন।

উদ্দীপকে কৃষক গণি মিয়ার বড় ছেলে ফটিক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। গণি মিয়া কবিরাজের কাছ থেকে পানি পড়া আনেন, তাবিজ এনে দরজায় ঝুলিয়ে দেন। সবাইকে বলেন কোনো খোঁড়া প্রাণী দেখলে যেন তাড়িয়ে দেয়। তার ধারণা খোঁড়া প্রাণীর রূপ ধরে ডেঙ্গু জ্বর বাড়িতে ঢোকে। কিন্তু গণি মিয়ার অষ্টম শ্রেণিতে পড়া ছোট ছেলে রবিন বাবার ভুল বুঝতে পারে। সে তার বিজ্ঞান বইয়ের ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশার উদাহরণ দিয়ে বাবার ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে।

‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পে বিজ্ঞানমনস্ক পরাশর ডাক্তার নগেনের ভূতের ভয়ের রহস্য উন্মোচন করে দেন। পরাশর ডাক্তার বিজ্ঞানসম্মত বিচারবুদ্ধির মাধ্যমে নগেনের বিশ^াস ও কুসংস্কারকে ভিত্তিহীন প্রমাণ করেছেন। অন্যদিকে উদ্দীপকে কৃষক গণি মিয়ার অন্ধবিশ্বাস ভুল প্রমাণ করে কুসংস্কারের বিপক্ষে বিজ্ঞানের প্রমাণ দিয়েছে রবিন। একজন ডাক্তার আরেকজন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র হলেও রবিনকে পরাশর ডাক্তারের যথার্থ প্রতিনিধি বলে আমার মনে হয়েছে।

Download From Google Drive

Download

আরো পড়ুনঃ-

Download From Yandex

Download