এইচএসসি বাংলা লালসালু উপন্যাসের বহুনির্বাচনী, জ্ঞানমূলক ও সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

0
43

এইচএসসি বাংলা লালসালু উপন্যাসের বহুনির্বাচনী,

জ্ঞানমূলক ও সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

লালসালু উপন্যাসের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর

১.‘কী মিঞা? তোমার দিলে কি ময়লা আছে?’— উক্তিটি কার?

ক. মজিদের

খ. মোদাব্বেরের

গ. পির সাহেবের

ঘ. খালেক ব্যাপারীর

সঠিক উত্তর : ক

২. ‘লালসালু’ উপন্যাসে অশীতিপর বৃদ্ধ কে?

ক. পির সাহেব

খ. আক্কাসের বাপ

গ. সলেমনের বাপ

ঘ. তাহের-কাদেরের বাপ

সঠিক উত্তর : গ

৩. ‘তোমার দাড়ি কই মিঞা?’ কাকে বলা হয়েছে?

ক. আক্কাস

খ. তাহের

গ. কাদের

ঘ. ধলা মিঞা

সঠিক উত্তর : ক

৪. তানি বুঝি দুলার বাপ।— জমিলা কার সম্পর্কে এ উক্তি করেছেন?

ক. মোদাব্বের মিঞা

খ. খালেক ব্যাপারী

গ. মতলুব মিঞা

ঘ. মজিদ

সঠিক উত্তর : ঘ

৫. মজিদ কীভাবে তাঁর প্রভাব প্রতিষ্ঠা করে?

ক. অলৌকিক ক্ষমতাবলে

খ. সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে

গ. অঢেল অর্থ ও প্রতিপত্তির জোরে

ঘ. সবাইকে অন্ধবিশ্বাসে আচ্ছন্ন করে

সঠিক উত্তর : ঘ

৬. ‘লালসালু’ উপন্যাসের শেষ বাক্য কোনটি?

ক. নাফরমানি করিও না

খ. মুহূর্তের মধ্যে কেয়ামত হবে

গ. খোদার উপর তোয়াক্কল রাখো

ঘ. বিশ্বাসের পাথরে যেন খোদাই সে চোখ

সঠিক উত্তর : ঘ

৭. দেশে দেশে পিরদের সফর শুরু হয় কখন?

ক. ধানের মৌসুমে

খ. দুর্ভিক্ষের সময়

গ. গায়েবি নির্দেশ পেলে

ঘ. মুরিদদের আহ্বান পেলে

সঠিক উত্তর : ক

৮. ‘লালসালু’ উপন্যাসে অবিশ্রান্ত ঢোলক বেজে চলে কোথায়?

ক. মতিগঞ্জে

খ. গারো পাহাড়ে

গ. ডোমপাড়ায়

ঘ. আউয়ালপুরে

সঠিক উত্তর : গ

৯. ‘বতোর দিন’ কিসের সঙ্গে সম্পর্কিত?

ক. ঈদ

খ. পূজা

গ. চাষাবাদ

ঘ. বিয়ে

সঠিক উত্তর : গ

১০. ‘বুঠাজমি’ কী?

ক. নিষ্ফলা জমি

খ. উর্বরা জমি

গ. ধানি জমি

ঘ. অনুর্বর জমি

সঠিক উত্তর : ক

১১. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?

ক. ১৯২০ সালে

খ. ১৯২২ সালে

গ. ১৯২৪ সালে

ঘ. ১৯২৭ সালে

সঠিক উত্তর : খ

১২. ‘চাঁদের অমাবস্যা’ কার লেখা?

ক. শামসুর রাহমান

খ. শওকত ওসমান

গ. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

ঘ. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

সঠিক উত্তর : ঘ

১৩. উপন্যাস-এর আক্ষরিক অর্থ কী?

ক. বিশেষরূপে উত্থাপন

খ. ঘটনার বিশদ বিবরণ

গ. চরিত্রের ধারাবাহিক বিন্যাস

ঘ. ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

সঠিক উত্তর : ক

১৪. ‘লালসালু’ উপন্যাসের বিষয়বস্তু কোনটি?

ক. অতিপ্রাকৃতিক ঘটনা

খ. সাধারণ মানুষের জীবন

গ. গ্রামীণ মানুষের অন্ধত্ব

ঘ. সামাজিক বাস্তবতা

সঠিক উত্তর : ঘ

১৫. ‘লালসালু’ কোন ধরনের উপন্যাস?

ক. সামাজিক

খ. আঞ্চলিক

গ. ঐতিহাসিক

ঘ. রোমান্টিক

সঠিক উত্তর : ক

১৬. ‘লালসালু’ উপন্যাসের উপজীব্য কী?

ক. গ্রামীণ সমাজ

খ. ধর্মব্যবসা

গ. শ্রেণিদ্বন্দ্ব

ঘ. অস্তিত্বের সংকট

সঠিক উত্তর : খ

১৭. ‘লালসালু’ উপন্যাসে কার নিজেকে শিকড়ছাড়া বৃক্ষ মনে হয়?

ক. খালেক ব্যাপারীর

খ. মজিদের

গ. মতলুব খাঁর

ঘ. ধলা মিয়ার

সঠিক উত্তর : খ

১৮. ‘তাদের দিল সাচ্চা, খাঁটি সোনার মতো।’—কাদের?

ক. মতিগঞ্জের মানুষের

খ. গারো পাহাড়ের লোকদের

গ. মহব্বত নগরের মানুষদের

ঘ. মধুপুরের অধিবাসীদের

সঠিক উত্তর : খ

১৯. মজিদ বারবার আড়চোখে আমেনা বিবির দিকে তাকাচ্ছিল কেন?

ক. রূপের মোহে

খ. ভীতি সৃষ্টি করতে

গ. কড়া শাসনে রাখতে

ঘ. মনোভাব বুঝতে

সঠিক উত্তর : ক

২০. খালেক ব্যাপারীর প্রথম স্ত্রীর নাম কী?

ক. আমেনা

খ. জমিলা

গ. ফাতেমা

ঘ. রহিমা

সঠিক উত্তর : ক

২১. মজিদের মন অন্ধকার হয়ে আসে কেন?

ক. পির সাহেবের আগমনে

খ. জমিলাকে শাসন করতে ব্যর্থ হলে

গ. আমেনা বিবি অবিশ্বাস করায়

ঘ. মাজারে সালু কাপড়ের বিবর্ণতা দেখে

সঠিক উত্তর : খ

২২. ‘লালসালু’ উপন্যাসে বিদ্রোহী চরিত্র হিসেবে কার আবির্ভাব ঘটে?

ক. রহিমার

খ. আমেনার

গ. জমিলার

ঘ. হাসুনির মা

সঠিক উত্তর : গ

২৩. ‘লালসালু’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কোনটি?

ক. মজিদ

খ. মোদাচ্ছের পির

গ. তাহের

ঘ. খালেক ব্যাপারী

সঠিক উত্তর : ক

২৪. মজিদের কী খাওয়ার অভ্যাস ছিল?

ক. হুক্কা

খ. বিড়ি

গ. সিগারেট

ঘ. পান

সঠিক উত্তর : ক

২৫. ‘লালসালু’ উপন্যাসে উল্লিখিত ‘খোদার এলামে বুক ভরে না’ কেন?

ক. কুসংস্কারের জন্য

খ. স্বার্থপরতার জন্য

গ. শিক্ষাহীনতার জন্য

ঘ. তলায় পেটশূন্য বলে

সঠিক উত্তর : ঘ

২৬. ‘তাই তারা ছোটে, ছোটে’— কেন ছোটে?

ক. জীবিকার সন্ধানে

খ. মাছ ধরার জন্য

গ. লেখাপড়া করার জন্য

ঘ. পিরের কাছে যাওয়ার জন্য

সঠিক উত্তর : ক

২৭. ‘লালসালু’ উপন্যাসে কে গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চায়?

ক. মজিদ

খ. জমিলা

গ. আক্কাস

ঘ. মোদাব্বের

সঠিক উত্তর : গ

২৮. কোন সড়কের ওপর এক অপরিচিত লোক মোনাজাতের ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে?

ক. মতিগঞ্জ সড়কে

খ. মহব্বতনগর সড়কে

গ. মধুপুর সড়কে

ঘ. পাহাড়গামী সড়কে

সঠিক উত্তর : ক

২৯. ‘তা এই মতলব হইল কেন?’—বদ মতলবটা কী?

ক. স্কুল প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা

খ. মাজার উচ্ছেদের প্রচেষ্টা

গ. মসজিদ উচ্ছেদের প্রচেষ্টা

ঘ. রাস্তাঘাট বানানোর প্রচেষ্টা

সঠিক উত্তর : ক

৩০. ‘লালসালু’ উপন্যাসের নায়িকা চরিত্র কোনটি?

ক. জমিলা

খ. রহিমা

গ. হাসুনির মা

ঘ. আমেনা

সঠিক উত্তর : ক

৩১. ‘ধান দিয়া কী হইব, মানুষের জান যদি না থাকে?’ — উক্তিটি কার?

ক. আমেনা বিবির

খ. জমিলার

গ. রহিমার

ঘ. হাসুনির মায়ের

সঠিক উত্তর : গ

৩২. আমেনাকে তালাক দেওয়ার পরামর্শ দেন কে?

ক. তানু বিবি

খ. ধলা মিয়া

গ. মজিদ

ঘ. চেয়ারম্যান

সঠিক উত্তর : গ

৩৩. মজিদ খালেক ব্যাপারীকে কী পরামর্শ দেয়?

ক. আমেনাকে তালাক দেওয়ার

খ. মাজার ভেঙে ফেলার

গ. মক্তব পাকা দালান করার

ঘ. মসজিদ নির্মাণ করার

সঠিক উত্তর : ক

৩৪. ‘দশ কথায় রা নেই, রক্তে রাগ নেই’ — উক্তিটিতে রহিমা চরিত্রের কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে?

ক. শান্ত নিরীহ ভাব

খ. অভিমানী ভাব

গ. কর্তব্যহীনতা

ঘ. স্বামীর প্রতি আনুগত্য

সঠিক উত্তর : ঘ

৩৫. ‘আসলে সে ঠান্ডা ভীতু মানুষ’। — কার কথা বলা হয়েছে?

ক. জমিলা

খ. মজিদ

গ. রহিমা

ঘ. ব্যাপারী

সঠিক উত্তর : গ

৩৬. মহব্বতনগরের সামাজিক নেতৃত্ব কার হাতে ছিল?

ক. মজিদের

খ. খালেক ব্যাপারীর

গ. আক্কাস আলির

ঘ. মোদাচ্ছের পিরের

সঠিক উত্তর : খ

৩৭. ‘লালসালু’ উপন্যাসে মাঠের ধান নষ্ট হয়ে যায় কেন?

ক. ঝোড়ো বৃষ্টি হলে

খ. ঘন বৃষ্টি হলে

গ. শিলাবৃষ্টি হলে

ঘ. কালবৈশাখীতে

সঠিক উত্তর : গ

৩৮. ‘বেগানা’ শব্দের অর্থ কী?

ক. অনাত্মীয়

খ. বেপর্দা

গ. আত্মীয়

ঘ. পর্দানশীন

সঠিক উত্তর : ক

৩৯. উপন্যাসের বর্ণনায় ‘লালসালু’ উপন্যাসে মহব্বতনগরে নবাগত লোকটির কোটরাগত চোখে কী ছিল?

ক. ক্ষোভ

খ. আগুন

গ. রাগ

ঘ. প্রতিহিংসার আগুন

সঠিক উত্তর : খ

৪০. তাহের-কাদেরের বাপ নিরুদ্দেশ হয়েছিল কেন?

ক. অপমানের কারণে

খ. স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে

গ. মনের বৈরাগ্যে

ঘ. দারিদ্র্যের কারণে

সঠিক উত্তর : ক

লালসালু উপন্যাসের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

১. আমেনা বিবি মাজারের মধ্যে কেন মূর্ছা গিয়েছিল?

উত্তর: শারীরিক দুর্বলতায়।

২. রহিমা মাজারে আমেনা বিবির দৃশ্যগুলো কিভাবে দেখেছেন?

উত্তর: বেড়ার ফুটো দিয়ে।

৩. মোদাব্বের মিয়ার ছেলের নাম কি?

উত্তর: আক্কাস।

৪. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ কোন ইংরেজি পত্রিকার সাব- এডিটর ছিলেন?

উত্তর: ‘দি স্টেটস্ম্যান’।

৫. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ কত সালে বাংলাদেশ বেতারের বার্তা সম্পাদক হিসেবে যোগদান করেন?

উত্তর: ১৯৪৭ সালে। (লালসালু উপন্যাসের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর)

৬. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ এর মৃত্যু তারিখ কত?

উত্তর: ১০/১০/১৯৭১ সালে।

৭. খালেক ব্যাপারীর গলায় শিশুর ভাব আসে কেন?

উত্তর: সন্দেহে।

৮. আমেনা বিবি কেমন প্রকৃতির মানুষ?

উত্তর: স্বামী ভীরু।

৯. কোন গাছ গাছ দেখে আমেনা বিবি বুঝত যে স্বামীর বাড়িতে পৌঁছেছে?

উত্তর: তালগাছ। (লালসালু উপন্যাসের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর)

১০. “বেত্তমিজ এর মতো কথা কইস না” উক্তিটি কার সম্পর্কে করা হয়েছিল?

উত্তর: আক্কাস।

১১. মহব্বতনগর গ্রামের বড় মসজিদ নির্মাণে বারো আনা ব্যয় কে বহন করতে চেয়েছিল?

উত্তর: খালেক ব্যাপারী।

১২. মজিদ আক্কাসকে দমাতে চাওয়ায় তার চরিত্রে কি উম্মোচিত হয়েছে?

উত্তর: শোষণ।

১৩. ‘পুলক’ শব্দের অর্থ কি?

উত্তর: আনন্দ।

১৪. বঙ্কিমচন্দ্র রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’ কত সালে প্রকাশিত হয়েছিলো?

উত্তর: ১৮৬৫ সালে।

১৫. ‘লালসালু’ উপন্যাসের উর্দু অনুবাদ কী নামে প্রকাশিত হয়েছিলো?

উত্তর: ‘লালসালু’ উপন্যাসের উর্দু অনুবাদ Lal Shalu নামে প্রকাশিত হয়েছিলো।

১৬. ‘লালসালু’ উপন্যাসের উর্দু অনুবাদ কোথা থেকে কবে প্রকাশিত হয়েছিলো?

উত্তর: ‘লালসালু’ উপন্যাসের উর্দু অনুবাদ ১৯৬০ সালে করাচি থেকে প্রকাশিত হয়েছিলো।

১৭. ‘লালসালু’ উপন্যাসের উর্দু অনুবাদ কে প্রকাশ করেছেন?

উত্তর: ‘লালসালু’ উপন্যাসের উর্দু অনুবাদ করেছেন কলিমুল্লাহ।

১৮. উপন্যাসের আক্ষরিক অর্থ কী?

উত্তর: উপযুক্ত বা বিশেষ রূপে স্থাপন।

১৯. ‘উপন্যাস’এর ইংরেজি প্রতিশব্দ কী?

উত্তর: ‘উপন্যাস’এর ইংরেজি প্রতিশব্দ : ‘Novel’. (লালসালু উপন্যাসের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর)

২০. ‘Novel” শব্দের আভিধানিক অর্থ কী?

উত্তর: “Novel” শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো: a fictitious prose narrative or tale presenting a picture of real-life of the men and women portrayed.

২১. কোন শতকে বাংলা উপন্যাস লেখার সূচনা ঘটে?

উত্তর: উনিশ শতকে।

২২. প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্ম নাম কী ছিল?

উত্তর: টেকচাঁদ ঠাকুর।

২৩. প্যারীচাঁদ মিত্রের উপন্যাস ধর্মী রচনা ‘আলালের ঘরের দুলাল’ কত সালে প্রকাশিত হয়েছিলো?

উত্তর: ১৮৫৮ সালে।

২৫. ‘লালসালু’ উপন্যাস কত সালে প্রকাশিত হয়েছিলো?

উত্তর: ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়েছিলো। (লালসালু উপন্যাসের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর)

 

 

 

লালসালু উপন্যাসের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

লালসালু উপন্যাসের সৃজনশীল প্রশ্নঃ ০১

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং সৃজনশীল প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

ওয়াসিকা গ্রামের এক দুরন্ত মেয়ে। বন্ধুদের সঙ্গে ছুটোছুটি করা, অবাধে সাঁতার কাটা তার আনন্দের কাজ। তার বাবা অভাবের তাড়নায় ওয়াসিকাকে পাশের গ্রামের এক বুড়ো লোকের সাথে বিয়ে দিয়ে দিলেন। লোকটি গ্রামের মাতব্বর। তাকে সবাই একাব্বর মুন্সি বলে ডাকে। মুন্সির কথা গ্রামের সবাই মানলেও চঞ্চল ও স্বাধীনচেতা ওয়াসিকা তার কথা মানে না।

ক. ধলা মিয়া কেমন ধরনের মানুষ ছিল?

খ. ‘সজোরে নড়তে থাকা পাখাটার পানে তাকিয়ে সে মূর্তিবৎ বসে থাকে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

গ. ওয়াসিকা ‘লালসালু’ উপন্যাসের জমিলার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ- ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকের একাব্বর মুন্সি ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদ চরিত্রের সামগ্রিক দিক ধারণ করেনি- মূল্যায়ন কর।

১ নং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরঃ

ক. জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ ধলা মিয়া নির্বোধ এবং অলস প্রকৃতির মানুষ ছিল।

খ. অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ প্রশ্নোক্ত বাক্যটি দ্বারা অপমানিত, ঈর্ষাকাতর মজিদের নির্লিপ্ত ভাবের কথা বোঝানো হয়েছে।

✍ আওয়ালপুর গ্রামে নতুন এক পীরের আবির্ভাব ঘটে। সে গ্রাম তখন লোকে লোকারণ্য। পীরের কীর্তিকলাপ দেখতে মজিদও সেখানে যায় কিন্তু বেঁটে হওয়ার কারণে সে পীরের মুখ দেখতে পায় না, শুধু পাখা নাড়ানো দেখে। সবাই পীরকে নিয়ে ব্যস্ত, মজিদকে কেউ সমীহ করে না; এমনকি তাকে যারা চেনে তারাও না। এতে মজিদ অপমান বোধ করে। ওপরন্তু যখন মতলুব মিয়া পীরের গুণাগুণ ব্যাখ্যা করে এবং তা শুনে লোকজন ডুকরে কেঁদে ওঠে তখন মজিদ সজোরে নড়তে থাকা পাখাটার পানে তাকিয়ে মুর্তিবৎ হয়ে বসে থাকে।

গ. প্রয়োগমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ ওয়াসিকা লালসালু উপন্যাসের জমিলার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

✍ আমাদের সমাজ নানারকম কুসংস্কার এবং অন্ধবিশ্বাসের নাগপাশে আবদ্ধ হয়ে অন্ধকারে তলিয়ে যেতে বসেছে। মানুষকে অবমূল্যায়ন, প্রগতিশীল চেতনার অভাব, অশিক্ষা, দারিদ্র্য ইত্যাদি সমাজের এই অসংগতির জন্য দায়ী, যা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

✍ উদ্দীপকে দেখা যায় ওয়াসিকা নামের দুরন্ত এক কিশোরীর স্বপ্নালু জীবনকে দারিদ্র্য এবং নারীর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা কীভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। সে বন্ধুদের সাথে ছোটাছুটি করত, আনন্দফুর্তি করত, অথচ তাকে বিয়ে দেওয়া হয় এক বৃদ্ধের সাথে, যা ওয়াসিকা কিছুতেই মেনে নিতে পারে না। গ্রামের লোকজন তার স্বামীকে মানলেও ওয়াসিকা তার কথা মানে না। এমনই একটি চরিত্র ‘লালসালু’ উপন্যাসের জমিলা। সেও দুরন্ত কিশোরী। কিন্তু নারীলোলুপ ভণ্ডপীর মজিদের লালসার শিকার হয়ে তাকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়। গ্রামের সবাই মজিদকে ভয়-ভক্তি করলেও জমিলা ভয় পায় না। প্রায়ই তার কথার অবাধ্য হয়। উভয় চরিত্রের সাদৃশ্য এখানেই।

ঘ. উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ উদ্দীপকের একাব্বর মুন্সি ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদ চরিত্রের সামগ্রিক দিক ধারণ করেনি। মন্তব্যটি যথার্থ।

✍ সমাজে এমন কিছু মানুষ বাস করে যারা তাদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য যেকোনো হীন কাজ করতে দ্বিধাবোধ করে না। প্রয়োজনে তারা ধর্মকেও নিজেরে স্বার্থে ব্যবহার করে। এ ধরনের মানুষের উপস্থিতি এবং কর্মকাণ্ডের জন্য আমাদের সমাজ তথা জীবনযাত্রা এতটা পিছিয়ে।

✍ ‘লালসালু’ উপন্যাসে ‘মজিদ’ চরিত্রটির মাধ্যমে সমাজের মুখোশধারী এবং ধর্মের নামে ব্যবসা করা মানুষের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। মজিদ একজন ভণ্ড, মিথ্যাবাদী, নারীলোলুপ, হীনচেতা মানুষের প্রতিমূর্তি। সে নিজের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য পারে না এমন কোনো কাজ নেই। নিজের প্রয়োজনে সে ধর্ম এবং মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে কাজে লাগায়। সে এককথায় বহুমুখী নেতিবাচক চরিত্রের অধিকারী। অপরদিকে উদ্দীপটিতে একাব্বর মুন্সি শুধু মজিদ চরিত্রের নারীর প্রতি দুর্বলতা ও ক্ষমতাশালী ভাবটি তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে।

✍ উদ্দীপকের একাব্বর মুন্সি গ্রামের মাতব্বর। সবাই তাকে মান্য করে। তার কথা অনুযায়ী গ্রামের অনেক কিছু নির্ধারিত হয়। কিন্তু সে বিয়ে করে তার মেয়ের বয়সী ওয়াসিকাকে, যা ‘লালসালু’ উপন্যাসে মজিদের জমিলাকে বিয়ে করার বিষয়টি মনে করিয়ে দেয়। এই একটি বৈশিষ্ট্য ছাড়া একাব্বর মুন্সি চরিত্র উপন্যাসের মজিদ চরিত্রের অন্য কোনো বৈশিষ্ট্যকে ধারণ করেনি। তাই বলা যায়, প্রশ্নের মন্তব্য যথার্থ।

লালসালু উপন্যাসের সৃজনশীল প্রশ্নঃ ০২

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং সৃজনশীল প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

মফিজ আলীর কোনো স্থির পেশা ছিল না। তার বাবা আরজ আলী ভূমিহীন কৃষক ছিল। ছেলেকে তিনি কলেজে পড়ানোর জন্য ঢাকায় পাঠিয়েছিলেন। ঢাকায় গিয়ে মফিজ পড়ালেখা বাদ দিয়ে বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে। কথায় কথায় বলে আল্লাহ বলে কেউ নেই। এক সময় তার বাবা টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেয়। দেখতে দেখতে তার চাকরির বয়সও শেষ হয়ে যায়। তারপর সে ফিরে আসে তার গ্রামে। মফিজ আলীর বর্তমান নাম হযরত শাহ সুফী মফীজ আলী ফরিদপুরী (র)। কামেল পীর হিসেবে তার খ্যাতি এখনও দেশ জোড়া।

ক.  সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?

খ.  ‘তাই তারা ছোটে, ছোটে।’ কেন ছোটে?

গ.  উদ্দীপকের মফিজ আলীর সাথে মজিদের তুলনামূলক আলোচনা কর।

ঘ. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ‘লালসালু’ উপন্যাসে মজিদ চরিত্রের মধ্য দিয়ে কী ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন তা ব্যাখ্যা কর।

২ নং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরঃ

ক. জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট তারিখে জন্মগ্রহণ করেন।

খ. অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ অভাবের তাড়না থেকে মানুষ ছোটে।

✍ শস্যহীন জনবহুল এলাকা। ঘরে খাবার নেই। ভাগাভাগি, লুটতরাজ আর স্থান বিশেষে খুনখারাবিও চলে। কিন্তু তাতেও কুলায় না। অভাব যেন তাদেরকে ছায়ার মতো সব সময় ঘিরে থাকে,  রাহুর মতো তাদেরকে গ্রাস করতে চায়। কিন্তু মানুষ যে ‘অমৃতস্য পুত্রাঃ’ অমৃতের সন্তান, সে যে কোনো কিছুর কাছেই হার মানতে নারাজ। যখন কোনো আশাই অবশিষ্ট নেই তখনও সে আশা করে। সেই আশায় ভর করে শস্যহীন জনপদের মানুষ ছোটে, নিরন্তর ছুটে চলে। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’ উপন্যাসে মজিদ এমনই এক ভাগ্যান্বেষণী আশাবাদী মানুষ।

গ. প্রয়োগমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ উদ্দীপকের মফিজ আলী এবং ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদ চরিত্রে মিল ও অমিল দুটি দিকই লক্ষ করা যায়। মিলের মধ্যে দুজনই ধর্মকে পুঁজি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেছে। দুজনই জানে গ্রামের মানুষ হয় ধর্মান্ধ, নতুনা ধর্মভীরু অথবা ধর্মপ্রাণ কিন্তু ধর্মকে মুক্তদৃষ্টিতে দেখবার মানুষ সেখানে কম। মানুষের মাঝে পাপ ও পরকালের ভয় ঢুকিয়ে দিয়ে মজিদ ও মফিজ দুজনেই নিজেদের আখের ভালোই গুছিয়ে নিয়েছিল।

✍ উদ্দীপকের মফিজ আলীর সাথে ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদের অমিলও কম নয়। খুব খেয়াল করলে স্পষ্ট হবে যে মফিজ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি ভণ্ড, শঠ, প্রবঞ্চক, প্রতারক। গারো পাহাড়ে মজিদ অনেক কষ্ট করে জীবন অতিবাহিত করেছে। যখন সে আর পারছিল না, তখনই সে ভিন্ন পথ বেছে নেয়-আমরা বলতে পারি, ভিন্ন পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়। গারো পাহাড়ে যে জীবন ও জীবিকার সাথে মজিদ সংশ্লিষ্ট ছিল, তা যদি সুখদায়ক না হলেও অন্তত সহনীয়ও হতো, তাহলে মজিদ সম্ভবত ভণ্ডামির আশ্রয় নিতো না। জীবন তার কাছে অসহনীয় হয়ে উঠেছিল বলেই সে ভণ্ডামির আশ্রয় নেয়।

✍ উদ্দীপকের মফিজ আপাদমস্তক ভণ্ড, ইতর, শঠ, প্রবঞ্চক। ঢাকায় গিয়ে বাম রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে আঁতেল বনে যাওয়া কৃষকপুত্র মফিজ একদা আল্লাহ খোদার অস্তিতেই বিশ্বাস করতো না, সেই মফিজই চাকরির বয়স ফুরিয়ে যাওয়ার কারণে আর কোনো উপায় না দেখে গ্রামে চলে আসে এবং পীর সেজে বসে। নাম বদলে রাখে হযরত শাহ সুফী মফীজ আলী ফরিদপুরী (রঃ)। ভণ্ডামি আর কাকে বলে! ‘লালসালু’র মজিদের প্রতি পাঠকের করুণা জাগলেও জাগতে পারে, কিন্তু উদ্দীপকের মফিজ আলীর প্রতি যে ঘৃণা জাগে- এতে কোনো সন্দেহ নেই।

ঘ. উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ‘লালসালু’ উপন্যাসে মজিদ চরিত্রের মধ্য দিয়ে মানুষের অস্তিত্বের সঙ্কটকে আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।

✍ অস্তিত্ববাদী কথাশিল্পী হিসেবে বাংলা সাহিত্যে তাঁর আসন অনেক ওপরে। তিনি লক্ষ করেছিলেন, মানুষ অর্থশাসিত সমাজের সৃষ্টি হলেও সে মূলত আবদ্ধ থাকে তার নিজেরই দেয়ালে। অস্তিত্বের জন্যে মানুষ কখনও দেয়াল ভেঙে বেরিয়ে পড়ে আবার নিজেই জড়িয়ে পড়ে স্বয়ংসৃষ্ট নতুন কোনো দেয়ালে। অস্তিত্ববাদী কথাশিল্পী সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ মজিদ চরিত্রটির ভেতর দিয়ে মানবচরিত্রের চিরন্তন এই বৈশিষ্ট্যের দিকে ইঙ্গিত করেছেন।

✍ মজিদ অভাবগ্রস্ত জনপদের বাসিন্দা। জীবন-জীবিকার তাগিদেই সে একদা ছুটে বের হয়েছিল গারো পাহাড়ের কোনো অঞ্চলে। জীবন সেখানে কঠিন থাকার কারণে সে নাটকীয়ভাবে মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশ করে- বলা যায় পালিয়ে চলে আসে। মহব্বতনগরের ধর্মভীরু মানুষদের বশীভূত করে, মোদাচ্ছের পীরের মাজারের আড়ালে সেই বনে যায় সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী; এমনকি গ্রামের মোড়ল খালেক ব্যাপারীও তার করায়ত্ত। মজিদের ঘর-বাড়ি হলো, জমি-জমা হলো, পছন্দমতো বিয়েও করে সে। পার্শ্ববর্তী গ্রাম আওয়ালপুরে আরেক পীর সাহেবের আমদানি ঘটলে সে হটিয়ে দেয়; আধুনিক যুবক আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও সে পণ্ড করে দেয় সুকৌশলে।

✍ বলাবাহুল্য, নিজের অস্তিত্বের সঙ্কটকে অনেক আগেই কাটিয়ে উঠেছিল মজিদ, ভেঙেছিল নিজের দেয়াল কিন্তু সে এবার অন্যের অস্তিত্বের জন্যে হুমকি হয়ে উঠে জমিলাকে বিয়ে করে। এটি মজিদের দ্বিতীয় পর্ব, বলা যায়, নিজেই জড়িয়ে পড়ে স্বয়ংসৃষ্ট দেয়ালে। প্রথম পর্বে যে মজিদ কুশলী সেনাপতি, দ্বিতীয় পর্বে সে মজিদকেই পাওয়া যায় পরাজিত সৈনিকের বেশে। গোষ্ঠীবদ্ধ সমাজে মানুষের এই রূপ ও রূপান্তর মজিদের মধ্যে বহুকৌণিকভাবে রূপায়িত হয়েছে।

লালসালু উপন্যাসের সৃজনশীল প্রশ্নঃ ০৩

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং সৃজনশীল প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

কাশেম মুন্সি মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে যখন চাকরি নিয়েছিল পনেরো বছর আগে, তখনও সে বিয়ে করেনি। ইতোমধ্যে সে বিয়ে করেছে, তিন কন্যা এবং দুটি পুত্রের পিতা হয়েছে কিন্তু বেতন বেড়ে মাত্র দুই হাজার টাকা হয়েছে। সামান্য টাকায় তার সংসার চলে না। কাশেম মুন্সি তাই বাড়তি আয়ের জন্যে গরিব মানুষকে ‘পানিপড়া’ দেয়, যদিও সে জানে এতে কোনো কাজ হয় না এবং এটা অনৈসলামিক কাজ; তবু সে এটা করে। কাজটা করতে তার খারাপ লাগে, তবু সে করে।

ক.  মতলুব খাঁ কে?

খ.  ‘মজিদ ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। যোগসূত্র হচ্ছে রহিমা।’- কেন?

গ.  উদ্দীপকের কাশেম মুন্সি চরিত্রটির সাথে মজিদ চরিত্রের মিল-অমিল কোথায়?

ঘ. ‘লালসালু’ উপন্যাস পাঠ করে মজিদ চরিত্রটি সম্পর্কে তোমার কি ধরনের প্রতিক্রিয়া জেগেছে?

৩ নং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরঃ

ক. জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ মতলুব খাঁ হচ্ছে ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট।

খ. অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ ‘মজিদ ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। যোগসূত্র হচ্ছে রহিমা।’- কথাটি দিয়ে মহব্বতনগর গ্রামের নারীসমাজে রহিমার গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে।

✍ মজিদ পুরুষ। ইসলামে নারী-পুরুষের মধ্যে পর্দাপ্রথা শরিয়তসম্মত। মজিদ এটি মেনে চলে। মহব্বতনগর গ্রামের এবং আশপাশের গ্রামের মানুষ তার কাছে যখন তখন ছুটে আসতে পারে, জানতে পারে কিন্তু নারীসমাজ মজিদের সামনে চাইলেই ছুটে আসতে পারে না। প্রকৃতিগত কারণেই নারীর আবেগ বেশি এবং তা প্রকাশ করার তাড়নাও প্রবল কিন্তু মহব্বতনগর গ্রামে নারীর আবেগ পরিস্ফুটনের কোনো সরাসরি পথ নেই, মজিদের কাছে পৌঁছাবার সরাসরি পথ নেই, যোগসূত্র হচ্ছে রহিমা। মহব্বতনগর গ্রামে রহিমার কদরও কম নয়। মজিদের স্ত্রী হিসেবে তার গুরুত্ব ও সম্মান সমাজে স্বীকৃত। মজিদ যদি মোদাচ্ছের পীরের মাজারের খাদেম হয়ে থাকে তাহলে রহিমা হচ্ছে তার আদর্শ সেবিকা।

গ. প্রয়োগমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ উদ্দীপকের কাশেম মুন্সি চরিত্রটির সাথে ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদ চরিত্রটির মিল এবং অমিল দুটি দিকই লক্ষ করা যাবে।

✍ প্রথমে মিলের দিক আলোচনা করা হবে পরে দৃষ্টিপাত করা হবে অমিলের জায়গায়। মিল এই যে, দুজনই ধর্মকে পুঁজি করে জীবন নির্বাহ করার পথ বেছে নিয়েছে। মজিদ মহব্বতনগর গ্রামের মানুষকে হাতের মুঠোয় বন্দী করেছে ধর্মের দোহাই দিয়ে, তথাকথিত মোদাচ্ছের পীরের মাজার লালসালু-কাপড় দিয়ে ঢেকে দিয়েছে সমাজের চোখ-কান-মুখ। কাশেম মুন্সিও পানিপড়া দিয়ে তার সাংসারিক ব্যয় নির্বাহ করে। দুজনই ধর্ম ব্যবসায়ী; গ্রামের সহজ সরল মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে তারা প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসেছে।

✍ এবার দৃষ্টিপাত করা যাক অমিলের ক্ষেত্রগুলোয়। মজিদ একটা পর্যায় পর্যন্ত কাশেম মুন্সির মতোই গণ্য, যখন সে অস্তিত্বের সঙ্কটে পড়ে গারো পাহাড় থেকে মহব্বতনগর গ্রামে চলে আসে। কিন্তু গ্রামে সে যখন বাড়াবাড়ি শুরু করে দেয়, তখন সে আর উদ্দীপকের কাশেম মুন্সি এক রকম ধর্ম ব্যবসায়ী থাকে না। কাশেম মুন্সিকে পাঠক মমতা, করুণার চোখে দেখতে পারে আবার নাও দেখতে পারে কিন্তু মজিদকে দেখে আপাদমস্তক ভণ্ড হিসেবেই। কাশেম মুন্সির পানিপড়া দিতে খারাপ লাগে, সে জানে যে এটা অনৈসলামিক কাজ, তবু বেঁচে থাকার তাগিদে তাকে কাজটা করতেই হয়। কিন্তু মজিদের সে প্রয়োজন ছিল না। অর্থনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে কাশেম মুন্সি হয়তো সমালোচিত হতে পারে কিন্তু মজিদ অবিসংবাদিতভাবে নীচ, ইতর।

ঘ. উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ একজন অস্তিত্ববাদী কথাশিল্পী। মানুষের অস্তিত্বের সঙ্কট এবং তা উত্তীর্ণ হয়ে অন্যকে সঙ্কটে ফেলার যে ধারাবাহিক জৈব প্রবৃত্তি মানুষের মধ্যে প্রবহমান, মজিদ চরিত্রটির মধ্য দিয়ে তিনি তা চমৎকারভাবে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। তাই ‘লালসালু’ উপন্যাসটি পাঠ করার সময় মজিদ চরিত্রটি সম্পর্কে আমার ধারণা এক জায়গায় স্থির থাকে নি বরং তা বারবার বদল হয়েছে।

✍ মজিদ সম্পর্কে আমার চারটি প্রতিক্রিয়া হয়েছে। প্রথম প্রতিক্রিয়াটি হচ্ছে: করুণা। মজিদ যখন গারো পাহাড়ে মানবেতর জীবনযাপন করতো, জীবনের সঙ্গে লড়াই করতে করতে সে যখন পর্যুদস্ত, ক্লান্ত, পরাজিত সৈনিক-তখন তার জন্যে আমার রীতিমতো করুণা হলো। এটি উপন্যাসের একদম প্রথম পর্যায়।

✍ উপন্যাসের মাঝামাঝি পর্যায়ে তার প্রতি প্রবল ঘৃণা জাগে যখন সে তার ভণ্ডামি দিয়ে গোটা এলাকা করায়ত্ত করে ফেলে, জমিলার মতো একটি কিশোরী মেয়েকে বিয়ে করে তার ওপর অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। বাঁধভাঙ্গা ঘৃণায় আমি উদ্বেল হই মজিদ নামক এই ধর্ম ব্যবসায়ীর ওপর।

✍ উপন্যাসের শেষে মজিদের প্রতি আমার প্রবল বিতৃষ্ণা জাগে, তার অসহায়তা আমি উপভোগ করি। কিশোরী বধূ জমিলাকে কোনো ভাবেই বাগে আনতে না পেরে রণক্লান্ত, পরাজিত, বিধ্বস্ত মজিদ তার প্রথমা স্ত্রী রহিমাকে যখন বলে, “বিবি কারে বিয়া করলাম? তুমি কী বদদোয়া দিছিলা নি?” তখন আমি রীতিমতো উপভোগ করি এবং আমার আত্মতৃপ্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে ওঠে যখন তার অনুগত প্রথম স্ত্রী রহিমাও তার অবাধ্য হয়ে নির্লিপ্ত কণ্ঠে বলে, “ধান দিয়ে কী হইব, মানুষের জান যদি না থাকে? আপনে ওরে নিয়া আসেন ভিতরে।”

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা সহপাঠ গাইড

লালসালু উপন্যাসের সৃজনশীল প্রশ্নঃ ০৪

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং সৃজনশীল প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

বিধবা, নিঃসন্তান জয়তুন বেগমের সংসার আর চলছিল না। একদিন মাঝরাতে তিনি চিৎকার করে ঘুম থেকে জেগে উঠলেন এবং তারপর থেকেই তার সব আচরণ অস্বাভাবিক। দয়ারামপুর গ্রামের মানুষ বলাবলি করছে, স্বপ্নে তিনি এক বুজুর্গ ব্যক্তির কামিয়াবি হাসিল করেছেন। সবাই তার কাছে পানিপড়া আনতে যায়। জয়তুন বেগমের আয় রোজগার মাশাল্লা মন্দ নয়।

ক.  ‘সালু’ শব্দের অর্থ কী?

খ.  হাসুনির মা দ্বিতীয় বিয়ে করতে অনাগ্রহী কেন?

গ.  মজিদ এবং উদ্দীপকের জয়তুন বেগমের তুলনামূলক আলোচনা কর।

ঘ. উদ্দীপকের উল্লিখিত জয়তুন বেগম চরিত্রটি বিশ্লেষণ কর।

৪ নং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরঃ

ক. জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ ‘সালু’ শব্দের অর্থ লাল রঙের কাপড়।

খ. অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ হাসুনির মার দ্বিতীয় বিয়েতে অনাগ্রহী থাকার কারণ বিচিত্র। তার দাম্পত্য জীবনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাটি নিশ্চয়ই খুবই তিক্ত ছিল- দারিদ্র্যলাঞ্ছিত, সুবিধাবঞ্চিত, অশিক্ষিত সমাজে যেমনটি হয়ে থাকে।

✍ স্বামীর স্ত্রীটিকে একটি প্রয়োজনীয় প্রাণী হিসেবেই ঘরে আসে এবং তাকে দিয়ে ষোল আনা খাটিয়ে নেয়। কাজে কর্মে একটু এদিক সেদিক ঘটলেই অমানুষিক নির্যাতন-মানসিক তো বটেই, অনেক সময় শারীরিকভাবেও। শ্বশুরবাড়ির মানুষদের সম্পর্কে হাসুনির মায়ের বক্তব্য: “অরা মুনিষ্যি না।” রহিমা যখন তাকে জিজ্ঞাসা করে, সে আবার বিয়ে করবে কিনা, সে তখন বলে, “দিলে চায় না বুবু।” তার বৃদ্ধ বাবা-মা সারাদিন যেভাবে অকথ্য ভাষায় ঝগড়াঝাটি করে, তা-ও হাসুনির মার মনে বিয়ে সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করেছে।

গ. প্রয়োগমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদ এবং উদ্দীপকের জয়তুন বেগম চরিত্র দুটির মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করলে আমরা মিল এবং অমিল দুটি দিকই দেখবো। প্রথমে আমরা মিলের দিকে দৃষ্টিপাত করতে চাই, পরে অমিল অংশ আলোকপাত করবো। মিলের কথা যদি বলতে হয়, তাহলে বলতে হবে, দুজনই ধর্ম ব্যবসায়ী। মজিদ এবং জয়তুন বেগম- দুজনই অশিক্ষিত মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছে। মজিদ আয়ত্তে এনেছে মহব্বতনগর গ্রামের মানুষদের। এই কাজটা সে করেছে সুকৌশলে, ধীরে ধীরে। অপরদিকে জয়তুন বেগম নিয়ন্ত্রণে এনেছে দয়ারামপুর গ্রামের ধর্মপ্রাণ মানুষদের। মিলের মধ্যে দুজনই ধর্মজীবী এবং তাদের উত্থান হয়েছে নাটকীয়ভাবে।

✍ অমিলের কথা আসলে প্রথমেই যে দিকটি স্পষ্ট হয়ে উঠে, সেটা হলো মজিদের ক্রমবর্ধমান লোলুপতার পাশে জয়তুন বেগমের অসহায় রূপটি। মজিদ স্পষ্টতই নিপীড়ক, শঠ, প্রবঞ্চক, প্রতারক, জোচ্চর, বাটপার, লম্পট, উদ্দেশ্যবাজ, ক্রুর, কুটিল, হিংস্র- এবং সেই সঙ্গে ধর্ম ব্যবসায়ী। কিন্তু জয়তুন কেবলই ধর্ম ব্যবসায়ী- আর কিছু নয়। মহব্বতনগর গ্রামে থাকা খাওয়ার পাকা বন্দোবস্ত হয়ে যাওয়ার পরেও মজিদ ক্ষান্ত হয়নি বরং তার ব্যবসায় আরও বৃদ্ধি কীভাবে করা যায়, সেটা নিয়ে প্রতিনিয়ত চিন্তাভাবনা করেছে, প্রতিদ্বন্দ্বিদের দমন করেছে।

✍ আওয়ালপুরের পীর, আক্কাস তার মিত্রপক্ষ ছিল না সে লড়াই করেছে দুর্দান্তভাবে যদিও শেষে জমিলা ও রহিমার কাছেই তার শোচনীয় পরাজয় ঘটেছে। উদ্দীপকের জয়তুন বেগমের কোনো প্রতিপক্ষ দেখানো হয়নি এবং কাজটি নিতান্ত জীবন বাঁচানোর  জন্যে করেছিলেন বলে তিনি পাঠকের সহানুভূতি পান – মজিদ তা থেকে বঞ্চিত।

ঘ. উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ মানুষ সমাজের সৃষ্টি। আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক অভিঘাতে এক একজন মানুষ গড়ে ওঠে এক ভাবে। উদ্দীপকের জয়তুন বেগমও আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক অভিঘাতে গড়ে ওঠে একটি জীবন্ত চরিত্র। ব্যাপারটি কিভাবে ঘটে, সেটি একটু বিশ্লেষণ করা যাক।

✍ প্রথমত, জয়তুন বেগম যে এমন হলেন, তার জন্যে দায়ী তার অর্থব্যবস্থা। লক্ষণীয়, উদ্দীপকে বলা হয়েছে, তিনি বিধবা ও নিঃসন্তান। যদি তার স্বামী কিংবা সন্তান থাকতো, তাহলে বৃদ্ধকালে তাকে এই পানিপড়া ব্যবসায় নিশ্চয় নামতে হতো না। তিনি আর্থিক দিক থেকে অসহায়। তার আর কোনো উপায় ছিল না। তিনি যদি ভন্ড হতেন, তাহলে শুরু থেকেই পানিপড়া দিতেন, তা কিন্তু তিনি দেননি। তখনই দিয়েছেন, যখন দেয়ালে তার পিঠ ঠেকে গেছে। সুতরাং, অর্থনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত না থাকলে জয়তুন বেগম পানিপড়া দিতেন না।

✍ দ্বিতীয়ত, জয়তুন বেগম যে এমন হলেন, তার জন্যে দায়ী আমাদের সমাজব্যবস্থা। আমাদের বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে অনাথ বৃদ্ধা নারীর একা বেঁচে থাকা খুব কষ্ট যদি তার না থাকে স্বামী, না থাকে সন্তান, না থাকে কোনো সম্পদ। গ্রামের মানুষ মুখে মুখেই ‘আহা’, ‘উহু’ করে কিন্তু একজন বৃদ্ধাকে নিজগৃহে ঠাঁই দেয় না। এক্ষেত্রে সেই বিখ্যাত উক্তিটি স্মরণ করতে পারি-“জগতে কে কাহার”? আমাদের সমাজব্যবস্থা যদি উন্নত হতো, যদি মানবিক হতো, তাহলে আমার মনে হয় না এই বৃদ্ধা পানিপড়া দেওয়া শুরু করতেন। সমাজই তাকে বাধ্য করেছে।

✍ এবারে আমরা আলোকপাত করতে চাই, একটা দেশের সাংস্কৃতিক ব্যবস্থা কীভাবে সে দেশের মানুষকে নির্মাণ করে। উদ্দীপকের চরিত্রটির নাম ‘জয়তুন বেগম’। নাম শুনে বোঝা যাচ্ছে তিনি প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা। তিনি থাকেন দয়ারামপুর নামক গ্রামে-এ কথাও উল্লেখ আছে; যে গ্রামের মানুষের চিন্তাজগৎ মূর্ত হয়েছে ‘বুজুর্গ’ ‘কামিয়াবি’; ‘হাসিল’ ইত্যাদি শব্দরাজির আশ্রয়ে এবং যে গ্রামের মানুষ পানিপড়ায় আস্থা রাখে। পানিপড়া সংস্কৃতিতে আস্থা থাকার কারণেই জয়তুন বেগম সৃষ্টি হতে পেরেছেন নতুবা পারতেন না। অন্যভাবে বলতে গেলে বলতে হয়: টাকার অভাব না হলে কিংবা সমাজব্যবস্থা মানবিক হলে অথবা কুসংস্কৃতি না থাকলে উদ্দীপকের জয়তুন বেগম চরিত্রটি কখনই এমন চরিত্রে বাঁক নিতেন না। সুতরাং মানুষ আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক চাপের ফসল।

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা সহপাঠ গাইড

লালসালু উপন্যাসের সৃজনশীল প্রশ্নঃ ০৫

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং সৃজনশীল প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা ফজিলাতুন নেসা বড্ড ঘুমকাতুরে। নয়টা পাঁচটা অফিস করে বাসায় ফিরলেই তার ঘুম পায়। পনেরো বছর যাবৎ তিনি সংসারের ঘানি টানছেন। স্বামী আবিদুর রহমান এম.এসসি পাস হলেও ঘরে বসে থাকেন। চাকরি নাকি পরের গোলামি। তার কাজ সারাদিন টেলিভিশনে হিন্দি নাচগান দেখা। গতকাল এশার নামাজ না পড়েই ফজিলাতুন নেসা ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বলে আবিদুর রহমান তাকে অনেক গালমন্দ করেন। ভদ্রমহিলা সারারাত নফল নামাজ পড়ে পরের দিন অফিসে গেছেন।

ক. মহব্বতনগর গ্রামে মজিদকে সবার আগে কে দেখেছিল?

খ. আমেনা বিবির পা দেখে মজিদের গলার কারুকার্য আরো সূক্ষ্ম হয় কেন?

গ.  উদ্দীপকের  ফজিলাতুন নেসার সাথে ‘লালসালু’ উপন্যাসের রহিমা চরিত্রটির তুলনামূলক আলোচনা কর।

ঘ. ঔপন্যাসিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ তাঁর ‘লালসালু’ উপন্যাসে রহিমা চরিত্রটি কীভাবে উপস্থাপন করেছেন তা বিশ্লেষণ কর।

৫ নং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরঃ

ক. জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ মহব্বত নগর গামে মজিদকে সবার আগে দেখেছিল তাহের।

খ. অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ আমেনা বিবি যখন মাজার পাক দেওয়ার জন্যে পালকি থেকে নামে, তখন অসতর্কতাবশত তার পায়ের কিছুটা অংশ উন্মেচিত হয়ে যায়, যা মজিদ দেখে ফেলে।

✍ পায়ের বর্ণনা দিতে গিয়ে লেখক বলেছেন: “সাদা মসৃণ পা, রোদ-পানি বা পথের কাদামাটি যেন কখনো স্পর্শ করেনি।” স্পষ্টতই আমেনা বিবির ফর্সা পা তাকে উত্তেজিত করে তোলে, তার ভেতর নিষিদ্ধ ভাব জাগিয়ে দেয়। এই ভাব অবদমন করার জন্যেই হোক আর খালেক ব্যাপারীর কাছে লুকানোর জন্যেই হোক অথবা অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা কাটোনোর জন্যে হোক, সে মিহি সুরে দোয়া-দুরুদ পড়তে শুরু করে, গলার কারুকাজ আরও বাড়িয়ে দেয়। তবে এই আবেগের উৎস যে লিবিডো, এতে কোনো সন্দেহ নেই; কেননা লেখক স্পষ্ট করেই বলেছেন, “সুন্দর পা দেখে স্নেহ-মমতা ওঠে না এসে, আসে বিষ।”

গ. প্রয়োগমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদের প্রথম স্ত্রী রহিমা এবং উদ্দীপকের ফজিলাতুন নেসা চরিত্রটির ভেতর মিল এবং অমিল দুটিই রয়েছে।

✍ প্রথমে আমরা মিলের দিকগুলো আলোচনা করতে চাই, পরে আলোকপাত করা হবে অমিলের ক্ষেত্রগুলোয়। মিল এই যে, রহিমা এবং ফজিলাতুন নেসা দুজনই স্বামীর একান্ত অনুগত, নিতান্ত বাধ্যগত। লম্বা চওড়া শরীরের রহিমা তার শক্ত সমর্থ দেহ নিয়েও যেমন পদে পদে বেঁটে, দুর্বল, ক্ষীণস্বাস্থ্য মজিদের আজ্ঞাবহ দাসী; আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত ফজিলাতুন নেসা নিজে চাকরি করে স্বামী সংসারের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করার পরেও তেমনই স্বামীর প্রতি বাড়াবাড়ি রকম অনুগত। এটাই তাদের মিল। দুজনের স্বামী অযোগ্য, তবু তারা দুজনই সমর্পিতা।

✍ অমিল হলো, রহিমা অশিক্ষিতা, গ্রামীণ সমাজে বেড়ে উঠা নারী যে কিনা বিনা যুক্তিতেই স্বামীর যে কোনো কথাকে নির্বিচারে মেনে নেয় কিন্তু ফজিলাতুন নেসার ক্ষেত্রে এ কথা খাটে না। সে একজন প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা। তার স্বামী এম.এসসি ডিগ্রিধারী হয়েও ঘরে বসে সারাক্ষণ টিভি দেখেন-তাও আবার হিন্দি নাচ-গান। উদ্দীপকে বলা হয়েছে; গতকাল এশার নামাজ না পড়েই ফজিলাতুন নেসা ঘুমিয়ে পড়েছিলেন………” অর্থাৎ ফজিলাতুন নেসা নিয়মিতই পড়েন, কেবল ওই দিন ক্লান্তিবশত পড়তে পারেন নি- উদ্দীপকের প্রথম বাক্যেই তাকে ‘ঘুমকাতুরে’ বিশেষণ দেওয়া হয়েছে। অথচ এই জন্যে তার হিন্দি নাচ-গান দেখা স্বামী তাকে অনেক গালমন্দ করেন এবং ভদ্রমহিলা তার কোনো প্রতিবাদ না করে সারারাত নফল নামাজ পড়ে পরের দিন অফিসে যান। এটি কী ধরনের পতিভক্তির নমুনা? রহিমা পতিভক্ত কিন্তু এতটা নয়। জমিলাকে মাজারে বেঁধে রেখে আসার ব্যাপারটি সে পছন্দ করেনি। তখন থেকেই তার আনুগত্যে চিড় ধরেছে। মজিদকে সে স্পষ্ট কন্ঠে যখন বলে, “ধান দিয়া কি হইবো, মানুষের জান যদি না থাকে? আপনে ওরে নিয়া আসেন ভিতরে।”- তখন আমরা বুঝি এই রহিমা আর আগের রহিমা নেই; এ নতুন রহিমা। ‘লালসালু’র রহিমার প্রতি পাঠকের সহানুভূতি জাগে, আর উদ্দীপকের ফজিলাতুন নেসার প্রতি জাগে বিদ্রূপ।

ঘ. উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’ উপন্যাসের চরিত্রগুলো স্কেচের মতো করে আঁকা হয়েছে। প্রায় সব চরিত্রই দেশ-কাল-পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাপিত এবং তুলনারহিত সৃষ্টি।

✍ রহিমা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর নির্মিত সকল চরিত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম। আর্য সমাজে এমন একটি কথা প্রচলিত ছিল যে পাক করলেই কেবল নারী হয়ে জন্ম নিতে হয়। সগদ্বিখ্যাত অনেক নারী ক্ষোভ ও দুঃখের সাথে নারী হওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন শিল্পের নানা মাধ্যমে। সেগুলো যে খুব একটা বাড়িয়ে বলা নয়, তার প্রমাণ রহিমা চরিত্রটি। কৃষকায়, রোগা, বয়স্ক, খাটো, ভগ্নস্বাস্থ্য এই লোকটির কাছে রহিমার বাবা-মা নির্দ্বিধায় তাদের মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিল। অথচ তারা জানেই না কে এই মজিদ, কী তার পরিচয়? কোনো ভাবে মেয়েকে বিদায় করা গেছে- স্বামী যেমনই হোক, পাত্রস্থ করা গেছে- এই হলো বাবা মায়ের চিন্তা। যেমন বাবা-মা, তেমন তাদের সন্তান। রহিমাও তেমনই সমর্পিতা নারী। মজিদ যা বলে, তাই সই। সাত চড়ে তার রা নেই। সুতরাং বলা যায়, রহিমা একজন সনাতন গ্রামীণ বাঙালি নারী।

✍ রহিমার মধ্যে গৃহস্থভাব প্রবল। ঘরের সব কাজকর্ম নিপুণ হাতে সে সামাল দেয়। উদয়াস্ত পরিশ্রম করে সে। রাতের বেলা সে মজিদের শুকনো পা-ও টিপে দেয়। বলা যায়, মজিদকে সুখে-শান্তিতে রাখার জন্যে সম্ভব সবকিছুই সে করেছিল। তার ভেতর সন্তানের জন্য একটা হাহাকার ছিল যেটা সে পূরণ করে নিয়েছিল জমিলাকে দিয়ে। জমিলাকে সে কখনও সতীন হিসেবে দেখেনি, দেখেছে কন্যা হিসেবে।

✍ উপন্যাসের শেষে জমিলার বিদ্রোহী রূপ পাঠককে চমকিত, বিস্মিত, অভিভূত ও মুগ্ধ করে। সব কিছুরই একটা সীমা আছে যা পেরিয়ে গেলে বাঁধ ভেঙে যায়। মজিদ যখন জমিলার ওপর সীমাহীন নির্যাতন শুরু করে, তখন রহিমার এই বিদ্রোহী রূপ আমরা দেখি।

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা সহপাঠ গাইড

লালসালু উপন্যাসের সৃজনশীল প্রশ্নঃ ০৬

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং সৃজনশীল প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

শামীমা সুলতানা একজন গৃহিণী। তার স্বামী আলমাস আলী কৃষিকাজ করে। এই দম্পতির কোনো সন্তানাদি নেই। বিয়ের বারো বছরের পরেও শামীমা সুলতানার গর্ভে কোনো সন্তানাদি না হওয়ায় আলমাস আলী স্ত্রীর অনুমতি নিয়ে দ্বিতীয় বিবাহ করে। দ্বিতীয় স্ত্রী কুলসুম একটি পুত্র সন্তান জন্ম দিলে সংসারে অশান্তি দেখা দেয়।

ক. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর পিতার নাম কী?

খ. মজিদের দ্বিতীয় বিবাহে আগ্রহের কারণ কী?

গ. ‘লালসালু’ উপন্যাসের রহিমা এবং উদ্দীপকের শামীমা সুলতানা চরিত্র দুটির মধ্যে মিল ও অমিল কী?

ঘ. উদ্দীপকের মধ্যে বাঙালি সমাজের কী ধরনের ছাড়াপতা ঘটেছে- বিশ্লেষণ কর।

৬ নং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরঃ

ক. জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর পিতার নাম সৈয়দ আহমদউল্লাহ্।

খ. অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ মজিদের দ্বিতীয় বিবাহের আগ্রহের কারণ ছিল অল্পবয়সী কোনো নারীর সঙ্গ লাভ।

✍ মজিদের দ্বিতীয় বিয়ের উদ্দেশ্য মূলত অল্পবয়সী একজন নারীর সঙ্গ লাভের গোপন বাসনা থেকে উৎসারিত যদিও সে তা মুখে স্বীকার করেনি। সে মুখে বলেছে যে রহিমাকে একজন সঙ্গী এনে দেওয়াই তার কাজ। রহিমা নিঃসন্তান। অনেক বছর অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার পরেও তার কোনো সন্তান হয়নি। এটি কার দোষে- রহিমার না মজিদের সেটি কিন্তু ডাক্তারি পরীক্ষায় নির্ণীত হয়নি। তবু মজিদ নিজেই ধার্য করে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে যেমনটি করা হয়ে থাকে- সব দোষ রহিমারই। তাই সে অজুহাত দেখিয়ে রহিমাকে বলে: “বিবি, আমাগো যদি পোলাপাইন থাকতো।” রহিমা হাসুনিকে পালকপুত্র হিসেবে গ্রহণ করার প্রস্তাব দিলে মজিদ রাজী হয় না। সে আসলে খুব কম বয়সী একটি মেয়েকে বিয়ে করতে চায়। লেখক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন: “মজিদের নেশার প্রয়োজন।”

গ. প্রয়োগমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ ‘লালসালু’ উপন্যাসের রহিমা এবং উদ্দীপকের শামীমা সুলতানা চরিত্র দুটির মধ্যে মিল এবং অমিল দুটি দিকই লক্ষযোগ্য।

✍ প্রথমে আমরা মিলের দিকগুলো আলোচনা করবো, পরে আলোকপাত করা হবে অমিল যেখানে আছে সেসব দিকে। মিল এই যে, রহিমা এবং শামীমা সুলতানা দুজনই প্রথম পর্যায়ে স্বামীর অনুগত এবং দুজনই গ্রামীণ, কৃষিভিত্তিক সমাজের প্রতিনিধি। (যার কারণেই হোক) রহিমা এবং শামীমা সুলতানা দুজনই নিঃসন্তান এবং দুজনই স্বামীকে দ্বিতীয় বিয়েতে অনুমতি দিয়েছে- হয়তো মনে কষ্ট চেপে রেখেই, সাধারণত এসব ক্ষেত্রে যা হয়ে থাকে। এই দুজন নারী তাদের স্বামীদের দ্বিতীয় বিবাহ পর্যন্ত এক রকম।

✍ তাদের মধ্যে অমিল শুরু হলো তাদের স্বামীরা যখন বিয়ে করে, তারপর থেকে। রহিমার ক্ষেত্রে যদি লক্ষ করি, তাহলে স্পষ্ট হবে যে, জমিলার ওপর মজিদ যখন থেকেই অত্যাচার করা শুরু করেছে, তখন থেকেই রহিমা ধীরে ধীরে স্বামীর অবাধ্য হতে শুরু করেছে এবং তার অবাধ্যতা উপন্যাসের শেষে চূড়ান্ত পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে যখন সে মজিদকে বলে, “ধান দিয়া কী হইবো, মানুষের জান যদি না থাকে? আপনে ওরে নিয়া আসেন ভিতরে।” অপরদিকে শামীমা সুলতানা স্বামীকে দ্বিতীয় বিবাহের অনুমতি দিলেও সতীনের গর্ভে  সন্তান জন্ম নেওয়ার পরে সে বদলে গেছে। তখন সে আর স্বামীর অনুগত থাকেনি। নিতান্ত অনুগত স্ত্রী হয়ে উঠেছে নিত্য কলহপরায়ণ। তবে রহিমার সাথে শামীমা সুলতানার মূল পার্থক্য একটিই, সেটি হচ্ছে: রহিমা তার সতীনকে কখনই ঈর্ষা করেনি- শামীমা সুলতানা তার সতীনকে ঈর্ষা করেছে সে পুত্রসন্তান প্রসব করেছে।

ঘ. উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ বিন্দার মধ্যে থাকতে পারে সিন্ধার ব্যঞ্জনা, গোষ্পদে তরঙ্গিত হয় সমুদ্র গর্জন- এটি কেবল কথার কথা নয়, বাস্তবেও এর অজস্র প্রমাণ রয়েছে। তার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বর্তমান উদ্দীপকের কথাই বলা যেতে পারে। এ উদ্দীপকের মাত্র ৫টি বাক্যে বিধৃত হয়েছে আবহমান বাঙালি সমাজের একটি রূপরেখা।

✍ প্রকৃতিগত কারণে স্বামী বা স্ত্রীর যে কোনো একজনের ত্রুটির জন্য সন্তান জন্ম নাও হতে পারে। এটি একটি নিত্যনৈমিত্তিক, স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু পুরুষশাসিত বাঙালি সমাজে বিশেষ করে গ্রামীণ অশিক্ষিত সমাজে- ডাক্তারি পরীক্ষা ছাড়াই ধরে নেওয়া হয় যে এটি ঘটেছে নারীর ত্রুটির কারণে। তখন পুরুষটি আবার বিয়ে করে। তার স্ত্রী এটি মেনে নেয় অথবা সমাজের কারণে মেনে নিতে বাধ্য হয়। উদ্দীপকে আমরা তাই দেখেছি: আলমাস আলী ও শাসীমা সুলতানার কোনো সন্তান হচ্ছে না বলে আলমাস আলী দ্বিতীয় বার বিয়ে করেছে, শামীমা তাতে অনুমতি দিয়েছে।

✍ দ্বিতীয় স্ত্রী ঘরে আসার পর তার ঘরে সন্তান জন্ম নিল- লক্ষণীয় ‘পুত্র সন্তান’- তখন প্রথম স্ত্রী শামীমা সুলতানা ঈর্ষার আগুনে দগ্ধ হয়েছে। এটি খুব স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। উদ্দীপকে শামীমা সুলতানার সতীনের নাম উল্লেখ করা হয় নি। সতীনের ভূমীকায় শামীমা এবং শামীমার ভূমিকার সতীন থাকলেও প্রতিক্রিয়া একই হতো। একজনের সাজানো ঘরে  অন্য একজন উড়ে এসে জুড়ে বসলে কার সহ্য হয়। শামীমারও সহ্য হয়নি। বাঙালি সমাজটাই এমন।

✍ আবেগ, স্বার্থ ও উদারতা- এই তিনটি জিনিস সমান্তরালে যেমন চলতে পারে তেমনই এর বিপরীতমুখী গতিও প্রায়ই লক্ষণীয়। তাই সংঘর্ষ সেখানে অনিবার্য। আলমাস আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী শামীমা সুলতানার মতো বন্ধ্যা হলে হিসাব-নিকাশ অন্যরকম হতো।

লালসালু উপন্যাসের সৃজনশীল প্রশ্নঃ ০৭

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং সৃজনশীল প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

২০২২ সাল। সিএনজি ড্রাইভার আবুল মিয়া তার স্ত্রী হাসনা বানুকে নিয়ে কালাচানপুরে থাকে। বিয়ে করার সাত বছর পরেও তাদের যখন ছেলেপুলে হয় না, তখন আবুল মিয়া দ্বিতীয় বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করে। হাসনা বানু বেঁকে বসে। সে চায়, আগে ডাক্তারি পরীক্ষা করে দেখা হোক, সমস্যাটা কার, তার নিজের নাকি তার স্বামী আবুল মিয়ার। এই নিয়ে প্রবল পারিবারিক বিবাদ চলে।

ক. হাসপাতালটি কোথায় অবস্থিত?

খ. ধলা মিঞা আওয়ালপুরের পীরের কাছে পানিপড়া আনতে অনিচ্ছুক কেন?

গ. রহিমা এবং উদ্দীপকের হাসনা বানু চরিত্রটির মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা কর।

ঘ. ‘লালসালু’ উপন্যাসের সামাজিক বাস্তবতা এবং উদ্দীপকের সামাজিক বাস্তবতার ভিন্নতার প্রেক্ষাপট কী?

৭ নং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরঃ

ক. জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ হাসপাতালটি করিমগঞ্জে অবস্থিত।

খ. অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ ধলা মিঞা আওয়ালপুরের পীরের কাছে গিয়ে পানিপড়া আনার ব্যাপারে প্রবল অনিচ্ছুক যদিও সে সেটা মুখে স্বীকার করে না। ধলা মিঞা খালেক ব্যাপারীর সম্বন্ধী- খালেক ব্যাপারীর দ্বিতীয় স্ত্রী তানু বিবির বড় ভাই। সে তার ভগ্নিপতির গৃহেই আশ্রিত। কাজকর্ম করে না। বসে বসে খায়। খালেক ব্যাপারী তাকে টাকা পয়সা দিয়ে যখন গোপনে কাজটা করে দেওয়ার দায়িত্ব দেয় তখন সে সেটা গ্রহণ করে কিন্তু তিনটা কারণে করে না।

✍ প্রথম কারণ, সে অলস- কাজকর্ম করার ব্যাপারে তার কোনো আগ্রহ নেই; কোন ভাবে সেটা ফাঁকি দেওয়া যায়, সে সেটা ভাবে। দ্বিতীয় কারণ, আওয়ালপুরের মানুষের সাথে মহব্বতনগরের গ্রামবাসীর ইতঃপূর্বে মারপিট হয়েছে, পানিপড়া আনতে গেলে সে আবার মার খাবে কিনা এই ভয় সে পায়। তৃতীয় কারণটিই সবচেয়ে বড়। দুই গ্রামের মাঝেখানে থাকা ভুতুড়ে মস্ত তেঁতুল গাছটাকে। তাই তার এই অনিচ্ছা।

গ. প্রয়োগমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ ‘লালসালু’ উপন্যাসের রহিমা এবং উদ্দীপকের হাসনা বানু চরিত্র দুটির মধ্যে মিল এবং অমিল দুটি দিকই লক্ষণীয়। মিল খুব কম, অমিলই বেশি। প্রথমে মিলের ক্ষেত্রটি আলোচনা করা যাক, পরে দৃষ্টিপাত করা যাবে অমিলের অংশে। মিল হচেছ রহিমা এবং হাসনা বানু উভয়েই নিঃসন্তান। বিয়ের পরেও তাদের সন্তানাদি হয়নি এবং তাদের উভয়ের স্বামীই দ্বিতীয় বিয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

✍ অমিলের জায়গাটি ব্যাপক এবং বিচিত্র। রহিমা তার স্বামীর দ্বিতীয় বিবাহ নির্বিচারে মেনে নিয়েছে কোনো রকম প্রতিবাদ প্রতিরোধ ছাড়াই এমনকি কোনো রকম প্রশ্নও তার মধ্যে উচ্চারিত হয়নি। সে সন্তানহীনতার জন্যে আসলে দায় কার। অন্য দিকে, হাসনা বানু রহিমার মতো নিঃশর্তে স্বামীর কাছে সমর্পণ করেনি। সে যৌক্তিক প্রশ্ন উত্থাপন করে জানতে চেয়েছে যে, তাদের সন্তানহীতার জন্য দায়ী কে? সে ডাক্তারি পরীক্ষার আয়োজন করার আহবান করেছে। কিন্তু বলাবাহুল্য, তার স্বামী আবুল মিয়া তার এই দাবির প্রতি কর্ণপাত করে নি। ফলে পারিবারিক কলহ অনিবার্য হয়ে উঠেছে।

✍ পুরুষশাসিত বাঙালি সমাজে এটা মনে করা হয়ে থাকে যে, সমস্যা মূলত নারীর দিক থেকেই হয়- পুরুষের সমস্যা নেই। রহিমা স্বামীপ্রাণা, পতিভক্ত সনাতন ঘরানার নারী; অন্যদিকে হাসনা বানু যুগের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবর্তিত বাঙালি নারী যে তার অধিকারের ব্যাপারে সচেতন। হাসনা বানুর পতিভক্তি নেই, এমন কথা কিন্তু উদ্দীপকে ইঙ্গিত করা হয়নি কিন্তু যেখানে তার অধিকার ধূলিতে লুটিয়ে যাচ্ছে, সেখানে সে হয়তো সনাতন কোমল আদর্শ ছেড়ে কঠিন মূর্তিতেই আবির্ভূতা।

ঘ. উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ লেখক হচ্ছেন তাঁর সমকালীন দেশ-কালের নিপুণ রূপকার। তাই সাহিত্যই হচ্ছে সবচেয়ে কালের নির্ভরযোগ্য ইতিহাস। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ তাঁর সময়ের কথা বলেছেন, সেটা বিশ শতকের প্রথমার্ধ কিন্তু উদ্দীপকের শুরুতেই দেখা যাচ্ছে সময়টা একুশ শতকের প্রথমার্ধ। একশো বছরে সময় অনেক বদলে গেছে, বদলে গেছে সমাজের কাঠামো, বদলে গেছে সেই সমাজের মানুষগুলো। তাই ‘লালসালু’ উপন্যাসের রহিমা আর উদ্দীপকের হাসনা বানু ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি।

✍ বিশ শতকের প্রথমার্ধের চরিত্র রহিমা স্বামীর অনুগত। মজিদ যখন দ্বিতীয় বিয়ে করার আগ্রহ প্রকাশ করে, রহিমা বিনা দ্বিধায় তা মেনে নেয়। সে প্রশ্ন তোলে না যে তাদের যে ছেলেপুলে হচ্ছে না, এর জন্য আসলে দায়ী কে? অন্যদিকে একুশ শতকের প্রথমার্ধের- ঠিক একশো বছরের পরের চরিত্র হাসনা বানু একই অবস্থায় পড়ে ডাক্তারি পরীক্ষা করতে বলে যে আসলে সমস্যাটি কার- তার নিজের, নাকি তার স্বামীর; কার জন্যে হচ্ছে না তাদের সন্তান? হাসনা বানু নিশ্চিত হতে চায়, সমস্যা যদি হাসনা বানুর দিক থেকেই হয়ে থাকে, তাহলে আবুল মিয়া বিয়ে করুক। আবুল মিয়া এতে রাজি নয় বলেই বিবাদের সূচনা।

✍ দুজনের সামাজিক বাস্তবতার ভিন্নতার জন্য সময়ের পরিবর্তন একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে। রহিমা এবং হাসনা বানুর মাঝে একশো বছরের ব্যবধান। সময় মানুষকে নির্মাণ করে ভিন্ন ভিন্ন রকম করে। চরিত্রের ওপর সময়ের একটা ভূমিকা থাকে, যেটা এই দুটি চরিত্রের ওপর প্রবলভাবে ছায়াপাত ঘটিয়েছে।

✍ দুজনের সামাজিক বাস্তবতার ভিন্নতার জন্য সমাজের পরিবর্তন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে। রহিমা গ্রামীণ সমাজের প্রতিনিধি। তার বাড়ি মহব্বতনগর গ্রামে। অপরদিকে, হাসনা বানু নগর জীবনের প্রতিনিধি। তার বাড়ি ঢাকার অদূরে কালাচানপুরে। তাই তাদের বাস্তবতা ভিন্ন হতে বাধ্য।

লালসালু উপন্যাসের সৃজনশীল প্রশ্নঃ ০৯

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং সৃজনশীল প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

আমার ধারণা-দুই দলের এই বিরোধের প্রধান কারণ দুইটি: তার একটি মোল্লাদের মধ্যে নিহিত, আর একটি তরুণদের মধ্যে। মোল্লাদের দোষ এই-তাহারা নূতনের বিরোধী; তরুণ-দলের দোষ এই- তাহারা পুরাতনের বিরোধী। মোল্লারদল ভাবে: নূতন যাহা সমস্তই অনৈসলামিক। তাহাদের বিশ্বাস: নূতন-কিছু আসিলেই ইসলামকে কিছু-না-কিছু ক্ষতি না করিয়াই যাইবে না। এই উদ্ভট সজাগ বুদ্ধি তাহাদের মনের এক মস্তবড় দুর্বলতা। উদ্দেশ্য সাধু ও মহৎ হইতে পারে, কিন্তু এর মধ্যে একটা কাপুরুষতা লুক্কাইয়া আছে।

ক. গ্রামে স্কুল বসাতে চায় কে?

খ. ‘তোমার দাড়ি কই মিয়া’ ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকটি ‘লালসালু’ উপন্যাসের কোন বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. “উদ্দীপকের মোল্লাদের এবং ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদের চেতনাগত বৈশিষ্ট্য একই।” মন্তব্যটি বিচার কর।

৯ নং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরঃ

ক. জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ গ্রামে স্কুল বসাতে চায় আক্কাস।

খ. অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ ‘তোমার দাড়ি কই মিয়া?’ উক্তিটি করে মাজারের খাদেম মজিদ।

✍ আক্কাস শহর থেকে লেখাপড়া শিখে গ্রামে যায়। গ্রামের মানুষকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে সে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কিন্তু ধর্মব্যবসায়ী মজিদ নিজের স্বার্থহানির ভয়ে এ প্রস্তাবে বাঁধ সাথে। ধর্মের দোহাই দিয়ে আক্কাসকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। বিচার সভায় মজিদ আক্কাসকে অপ্রতিভ করতে কৌশলে তার প্রতি ধর্মীয় অনুভূতির উক্ত কথাটি দ্বারা ঘায়েল করে। যাতে আক্কাস অপ্রতিভ হয়ে পড়ে। তার মুখে কোনো কথা যোগায় না।

গ. প্রয়োগমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ উদ্দীপকটি ‘লালসালু’ উপন্যাসে উপস্থাপিত ধর্মব্যবসায়ী ও প্রগতিশীল তরুণের চেতনার সাথে দ্বন্দ্বের বিষয়টির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

✍ ধর্ম মানুষের মুক্তির পথ দেখায়। কিন্তু সেটা যদি অন্ধবিশ্বাস ও ধর্মব্যবসায়ীদের চেতনার ওপর নির্ভর করে তবে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। উদ্দীপকে এবং ‘লালসালু’ উপন্যাসে এ বিষয়টি লক্ষ করা যায়।

✍ উদ্দীপকে দেখা যায় মোল্লা ও তরুণের মাঝে দ্বন্দ্বের চিত্র। লেখক এর কারণ খোঁজার চেষ্টা করেছেন। মোল্লা অর্থাৎ ধর্মের ধ্বজাধারীরা তরুণদের প্রগতিশীল চেতনাকেই ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করতে পারে না। তাদের মতে যা নতুন তাই অনৈসলামিক।

✍ এমন দ্বন্দ্বমূলক ভাব লক্ষ করি ‘লালসালু’ উপন্যাসে ধর্মব্যবসায়ী মজিদ ও প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ আক্কাসের মাঝে। আক্কাসের স্কুল করার প্রস্তাব সে গ্রহণ করতে পারে না। ধর্মের ধুয়া তুলে সেটাকে বন্ধ করে গ্রামে পাকা মসজিদ নির্মাণের সিন্ধান্ত নেওয়া হয়। উপন্যাসের এই দ্বন্দ্বমূলক ভাবের সাথে উদ্দীপকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ. উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ “উদ্দীপকের মোল্লাদের এবং ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদের চেতনাগত বৈশিষ্ট্য একই।” মন্তব্যটি যথার্থ।

✍ নতুন কিছু করতে গেলে বাধা আসে এটা চিরন্তন সত্য। সেটি যদি কোনো প্রগতিশীল চেতনার ধারক হয় তবে কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজে সঠিকভাবে গ্রহণ করবে না এটাই স্বাভাবিক। উদ্দীপকে এমন বিষয়েরই অবতারণা ঘটেছে। যা উপন্যাসে উপস্থাপিত ভাবের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছে।

✍ উদ্দীপকে লক্ষ করা যায় মোল্লা ও তরুণের মধ্যে বিরোধের চিত্র। মোল্লার চেতনা যে নতুন মাত্রই অনৈসালামিক। তাদের বিশ্বাস নতুন কিছু আসলেই ইসলামকে কিছু-না-কিছু ক্ষতি করে যাবে। এই বুদ্ধি তাদের এক মস্তবড় দুর্বলতা ও কাপুরুষতা। এই মোল্লার চেতনাগত বৈশিষ্ট্য লক্ষ করি উপন্যাসের মজিদ চরিত্রে।

✍ উপন্যাসে মজিদের চেতনাতে লক্ষ করা যায় ধর্মান্ধতা, কাপুরুষতা, স্বার্থান্বেষী এবং শঠতা। সে ধর্মকে জীবিকা হিসেবে ব্যবহার করেছে। সমাজে সকল প্রগতিশীলতা ও নতুনত্বের সে ঘোর বিরোধী। তাইতো আক্কাস গ্রামে স্কুল দিতে চাইলে সে বিরোধিতা করে। খালেক ব্যাপারীর বৌকে তালাক দিতে বাধ্য করে। স্কুলের পরিবর্তে গ্রামে সে পাকা মসজিদ তৈরি করার প্রস্তাব করে এবং সিন্ধান্ত নেয়। ধর্মের নামে সবখানেই সে অনাচার করে। তাই বলা যায় উদ্দীপকের মোল্লা এবং মজিদের চেতনাগত বৈশিষ্ট্য একই।

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা সহপাঠ গাইড

লালসালু উপন্যাসের সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১০

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং সৃজনশীল প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

পীর সাহেব তাঁর প্রধান খলিফার রুহে শেষ পয়গম্বর হযরত মোহাম্মদের রুহ-মোবারক নাযেল করিবার জন্য ঠিক তাঁর সামনে বসিলেন।

শাগরেদরা চারিদিক ঘিরিয়া বসিয়া মিলিত কণ্ঠে সুর করিয়া দরুদ পাঠ করিতে লাগিলেন। পীর সাহেব কখনও জোরে কখনও বা আস্তে নানা প্রকার দোয়া-কালাম পড়িয়া সুফী সাহেবের চোখে-মুখে ফুঁকিতে লাগিলেন।

কিছুক্ষণ ফুঁকিবার পর শাগরেদগণকে চুপ করিতে ইঙ্গিত করিয়া পীর সাহেব বুকে হাত বাঁধিয়া একদৃষ্টে সুফী সাহেবের বুকের দিকে চাহিয়া রহিলেন।

ক. পীর সাহেবের আগমন ঘটে কোন গ্রামে?

খ. ‘যত সব শয়তানি বেদাতি কারবার’- কে, কেন বলেছে কথাটি?

গ. উদ্দীপকটি ‘লালসালু’ উপন্যাসের কোন বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করেছে? – ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকটি ‘লালসালু’ উপন্যাসের সমগ্র ভাব ধারণ করে কি? তোমার মতের পক্ষে যুক্তি দাও।

১০ নং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরঃ

ক. জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ পীর সাহেবের আগমন ঘটে আওয়ালপুর গ্রামে।

খ. অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ নবাগত পীর সাহেবের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তাকে ভন্ডামী আখ্যা দিয়ে উক্তিটি করেছে মজিদ।

✍ আওয়ালপুর গ্রামে হঠাৎ একজন পীরের আগমন ঘটে। কৌতূহলবশত মজিদও সেখানে যায়। সেখানে গিয়ে মজিদ পীর সাহেবের জনপ্রিয়তা দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়ে। তাকে কেউ সেখানে গ্রাহ্য করে না। এমনকি যারা তাকে চেনে ভক্তি করে তারাও সেদিন তার দিকে ফিরে তাকায় না। পীরের নানা কেরামতির কথা সে শুনতে পায় তারপর যখন সে দেখে অসময়ে নামাজ পড়তে পীর সাহেব হুকুম দিয়েছে তখন সে সুযোগ কাজে লাগায়। সে পীরের কেরামতির অসারতা প্রমাণের জন্যে উক্ত উক্তিটি করে।

গ. প্রয়োগমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ উদ্দীপকটি ‘লালসালু’ উপন্যাসে বর্ণিত পীর সাহেবের আগমনের ঘটনাটির প্রতি ইঙ্গিত করেছে।

✍ ধর্মভীরু মুসলিম সমাজে পীর আউলিয়াদের একটি বিশেষ স্থান আছে। তাদের মধ্যে সকলেই সৎ ও নিষ্ঠাবান নয়। ‘লালসালু’ উপন্যাসে এ বিষয়টি লেখক চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছেন যা উদ্দীপকেও লক্ষ করা যায়।

✍ ‘লালসালু’ উপন্যাসে তেমনই একজন ভন্ড পীরের কথা বলা হয়েছে। জনৈক পীর সাহেব এর তার সাগরেদের আগমন ঘটে আওয়ালপুর গ্রামে। কারণ তখন সেখানকার গৃহস্তের গোলায় ধান উঠেছে। মুরিদ মতলুব খাঁ তার চারপাশে লোকে লেকারণ্য থাকে। সেই লোকজনদের মধ্যে মুরিদ মতলুব খাঁ পীর সাহেবের গুণাগুণ বর্ণনা করে সহজ ভাষায়। সে নাকি সূর্যকেও দাঁড় করিয়ে রাখার ক্ষমতা রাখে। এমনই এক দৃশ্যের অবতারণা ঘটেছে উদ্দীপকে। একই পীর তার অবস্থাসম্পন্ন মুরিদের বাড়ি আস্তানা গেড়ে মুরিদসহ ধর্মপ্রাণ মানুষদের কেরামত দেখায়। যতটা না তার ক্ষমতা তার থেকে বেশি ক্ষমতা তার সাগরেদদের। উদ্দীপকটি ‘লালসালু’ উপন্যাসে বর্ণিত ভাবটির প্রতিই ইঙ্গিত করেছে।

ঘ. উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ না, উদ্দীপকটি ‘লালসালু’ উপন্যাসের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করে না।

✍ নিরস্তিত্বের জীবন বেদনা ও উত্তরণ প্রয়াসের শিল্প রূপায়ণে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’ এক অভিনব সৃষ্টি। বুর্জোয়া সমাজের সকল সংকটের প্রেরণায় নিঃসঙ্গ আত্মসন্ধানী জীবন চেতনা নিয়ে ঔপন্যাসিক তাঁর শিল্পীমানস গঠন করে উপন্যাসের জমিনে তার স্বার্থক রূপ দিয়েছেন। এসব চেতনার সম্পূর্ণ প্রকাশ ঘটেনি উদ্দীপকের স্বল্পতম জমিনে।

✍ উদ্দীপকে শুধু এক ধর্মান্ধ, কুসংস্কারাচ্ছন্ন, অশিক্ষিত সমাজে ভন্ড ধর্মব্যবসায়ীর স্বার্থসিদ্ধর পন্থাস্বরূপ মানুষের সাথে প্রতারণার বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে। সমাজের ধর্মব্যবসায়ীরা কীভাবে সাধারণ সহজ সরল মানুষ ঠকিয়ে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করে জনৈক পীরের মাধ্যমে সে দৃশ্যই দেখানো হয়েছে উদ্দীপকের এ বিষয়টি ‘লালসালু’ উপন্যাসের অনেক বিষয়ের মধ্যে একটি মাত্র বিষয়।

✍ ‘লালসালু’ উপন্যাসে বহুমুখী ভাবের প্রকাশ ঘটেছে। এদের আর্থ-সামাজিক কাঠামোর মধ্যে জীবন প্রবাহের গতিময়তা, স্থবিরতা, অশিক্ষা-কুশিক্ষা, কুসংস্কার, সমাজে নারী-পুরুষের বৈষম্য; ধর্মভীতি, মানুষের নেতিবাচক মূল্যবোধ-ধর্মের ধ্বজাধারীদের ভন্ডামী ও প্রতারণা, নিরক্ষর অসহায় মানুষের তাদের কাছে আত্মসমর্পণ প্রভৃতি জীবনমুখী চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে উপন্যাসে। যা উদ্দীপকে পরিলক্ষিত হয় না শুধু সমাজের ভন্ড ধর্মব্যবসায়ীর কর্মকান্ডের বিষয় ছাড়া। তাই বলা যায় উদ্দীপকটি ‘লালসালু’ উপন্যাসের ভাবার্থের দর্পণ নয়।

লালসালু উপন্যাসের সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১২

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং সৃজনশীল প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

তওবা, তওবা, কহেন কি মাস্টার সাব। খোদাভক্ত পীর, আল্লার ওলি মানুষ। দশ গাঁয়ে যারে মানে, তার নামে এত বড় কুৎসা! ভালো কাজ করলা না মাস্টার, ভালা কাজ করলা না। ঘন ঘন মাথা নাড়লেন জমির ব্যাপারী। পীরের বদ দোয়ায় ছাই অইয়া যাইবা! কথা শুনে সশব্দে হেসে  উঠল মতি মাস্টার। কি যে কও চাচা, তোমাগো কথা শুনলে হাসি পায়। হাসি পাইবো না, লেখাপড়া শিখা তো এহন বড় মানুষ অইয়া গেছ। মুখ ভেংচিয়ে বললেন জমির ব্যাপারী। চাঁদা দিলে দিবা না দিলে নাই, এত বহাত্তরী কথা ক্যান?

ক. খালেক ব্যাপারী মসজিদের কত আনা খরচ বহন করতে চায়?

খ. ‘সভায় সকলে প্রথমে বিস্ময় হয়’- কেন?

গ. উদ্দীপকের মতি মাস্টার ‘লালসালু’ উপন্যাসের কোন চরিত্রের প্রতিনিধি? – ব্যাখ্যা কর।

ঘ. “উদ্দীপকটি ‘লালসালু’ উপন্যাসের মাত্র একটি ভাবকে ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে।” – মন্তব্যটি বিচার কর।

১২ নং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরঃ

ক. জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ খালেক ব্যাপারী মসজিদের বারআনা খরচ বহন করতে চায়।

খ. অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ গ্রামে স্কুল স্থাপন করতে চাওয়া নব্যশিক্ষিত ছেলে আক্কাসের বিচার হবে ভেবে সভায় উপস্থিত হলেও যখন তেমন কোনো শাস্তি বিধান হলো না দেখে সবাই প্রথমে বিস্মিত হয়।

✍ গ্রামের মানুষকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার জন্যে মহব্বতনগর গ্রামে একটি স্কুল স্থাপন করতে চেষ্টা করে। মজিদের কাছে ব্যাপারটি মোটেও ভালো লাগে না। সে এটাকে অমুসলিম কাজ বলে আক্কাসের বিচারের ব্যবস্থা করে। গ্রামের খালেক ব্যাপারীর বাড়িতে সভা বসে। সকলে তার শাস্তিবিধানের আশায় বসে থাকে। কিন্তু মজিদ যখন তাদের প্রত্যাশানুযায়ী শাস্তি ঘোষণা করে না তখন সভার সকলে প্রথমে বিস্মিত হয়।

গ. প্রয়োগমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ উদ্দীপকের মতি মাস্টার ‘লালসালু’ উপন্যাসের নব্যশিক্ষিত প্রগতিশীল চেতনার আক্কাস চরিত্রের প্রতিনিধি।

✍ শিক্ষার আলো যেখানে পৌঁছায়নি সেখান কোনো সুস্থ জীবন আশা করা যায় না। অথচ বাংলাদেশে এই অভিশাপটা সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে এজন্যে আমাদের দেশ এতটা পিছিয়ে। ‘লালসালু’ উপন্যাসের ঔপন্যাসিক এই বিষয়টি আন্তরিকতার সাথে বাস্তবমুখী করে উপস্থাপন করেছেন।

✍ উদ্দীপকে দেখা যায় নিরক্ষর, কুসংস্কারাচ্ছন্ন একটি গ্রামের মতি মাস্টার আপ্রাণ চেষ্টা করে মানুষের মধ্য থেকে কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসকে দূরীভুত করতে। সে সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করে তারা যে চেতনা নিয়ে এতদিন বেঁচে আছে সেটা ঠিক নয়। ভন্ডপীর খাদেমদের চেতনার বলয় থেকে সহজ সরল মানুষদের বের করার প্রয়াস পেয়েছে। এমনই একটা চরিত্র ‘লালসালু’ উপন্যাসের আক্কাস চরিত্র। সেও গ্রামের সাধারণ মানুষদের নিরক্ষরতার হাত থেকে মুক্ত করার জন্যে একটি স্কুল স্থাপন করতে চায়। কিন্তু ভন্ড ধর্মব্যবসায়ী মজিদ স্বার্থহানির আশায় তার সেই মহতি চেষ্টাকে সফল হতে দেয় না। উদ্দীপকের মতি মাস্টার এবং উপন্যাসের আক্কাসের সাদৃশ্য এক্ষেত্রেই দেখা যায়।

ঘ. উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ “উদ্দীপকটি ‘লালসালু’ উপন্যাসের মাত্র একটি ভাবকে ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে।” মন্তব্যটি যথার্থই হয়েছে।

✍ শিক্ষা মানুষের অমূল্য সম্পদ। শিক্ষা ছাড়া জীবনের কোনো সত্য উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। সত্যকে মনের মধ্যে ধারণ করে উপন্যাসের আক্কাস গ্রামে একটা স্কুল স্থাপন করে মানুষের অন্ধকারাচ্ছন্ন জীবনে একটু আলোর পরশ দিতে চিয়েছিল কিন্তু এ ধর্মান্ধ সমাজ সেটা হতে দিল না।

✍ ‘লালসালু’ উপন্যাসের এই দিকদিই উদ্দীপকে উপস্থাপিত হয়েছে। এখানে দেখা যায় পীর বা আল্লাহর অলিদের বিশ্বাস না করার জন্যে মতি মাস্টারকে তিরস্কার করে। জমির ব্যাপারী পীরের বদ দোয়ায় ছাই হয়ে যাবে এই কথাও তাকে শুনতে হয়। কিন্তু প্রগতিশীল চেতনার যুবক মতি মাস্টার সে কথা শুনে হাসে। মানুষের এই অন্ধবিশ্বাস দেখে তাদের প্রতি করুণা হয়। এদিকটি ‘লালসালু’ উপন্যাসের বহুমুখী ঘটনার মাত্র একটিমাত্র দিক।

✍ ‘লালসালু’ উপন্যাসে ঔপন্যাসিক জীবনাশ্রয়ী, বাস্তবমুখী অস্তিত্বের উন্মীলন ও পরাভব অঙ্কনের মধ্য দিয়ে এটিকে বাংলাদেশের অশিক্ষিত কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজ চেতনাকে পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন। এখানে অশিক্ষা, ধর্মান্ধতা, সামাজিক বৈষম্য, ধর্মব্যবসায়ীদের প্রতারণা, সহজ সরল মানুষের জীবনধারা অসামান্য শৈল্পীক নৈপুণ্যে উপস্থাপিত হয়েছে। যা উদ্দীপকে সম্পূর্ণভাবে উঠে আসেনি, শুধু শিক্ষার আলো বঞ্চিত গ্রামে আক্কাস যুবকের শিক্ষার আলো ছড়ানোর চেষ্টা করার বিষয়টি উঠে এসেছে। তাই বলা যায় প্রশ্নের মন্তব্য যথার্থ।

লালসালু উপন্যাসের সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১৩

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং সৃজনশীল প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

বহিপীর- অতি আশ্চর্য; কিন্তু উহা সত্য। ব্যাপারটা হইতেছে এই; গত জুম্মা রাতে তাহেরা বিবি নামে একটি বালিকার সঙ্গে আমার শাদি মোবারক সম্পন্ন হয়। তিনি আমার এক পেয়ারা মুরিদের কন্যা। অত্যন্ত হাউস করিয়া তিনি আমার সহিত তাঁহার কন্যার শাদি দিয়াছিলেন। তিনিই কথা পাড়িয়াছেন। আমি ভাবিয়া দেখিলাম, নেক পরহেজগার মানুষ; বিষয়-আশয় তেমন না থাকিলেও বংশ খান্দানি। আমারও বয়স হইয়াছে, দেখভাল করিবার জন্য আর খেদমতের জন্য একটি আপন লোকের প্রয়োজন আছে। আমার প্রথম স্ত্রীর এন্তেকাল হয় চৌদ্দ বৎসর আগে। আমি পুনর্বার শাদি না করিয়া খোদার এবাদত আর মানুষের খেদমতই করিয়াছি। আমার সন্তান-সন্ততিও নাই, দেখাশুনা করিবার জন্য এক হকিকুল্লাহ্ আছে। কিন্তু সে আর কত করিতে পারে। দেখিলাম, বিবাহ করাটাই সমীচীন হইবে।

ক.  তাহাদের নৌকা কোন সড়কটার কাছে এসে পড়ে?

খ. ‘উনি একদিন স্বপ্নে ডাকি বললেন’- মজিদ এ উক্তিটি কেন করে?

গ. উদ্দীপকের বহিপীর ‘লালসালু’ উপন্যাসের কোন চরিত্রের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. “উদ্দীপকটি ‘লালসালু’ উপন্যাসের ভাবার্থের।” মন্তব্যটির যৌক্তিকতা নিরূপণ কর।

১৩ নং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরঃ

ক. জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ তাহেরদের নৌকা মতিগঞ্জের সড়কটার কাছে এসে পড়ে।

খ. অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ মজিদ জীবিকার তাগিদে প্রবেশ করে মহব্বতনগর গ্রামে। যেখানে অশিক্ষিত ধর্মপ্রাণ গ্রামবাসীর সামনে তার সেখানে আসার উদ্দেশ্যের কথা বলতে গিয়ে উক্ত কথাটি বলে।

✍ মজিদ বলে, সে ছিল গারো পাহাড়ে। সেখানে সে সুখে শান্তিতেই ছিল। গেলো ভরা ধান গোয়াল ভারা গরু-ছাগল। সেখানকার মানুষের মাঝে ধর্ম-প্রচার করে তার জীবন ভালোই চলছিল কিন্তু হঠাৎ একদিন সে স্বপ্ন দেখে। সেই স্বপ্নই তাকে এত দূরে নিয়ে এসেছে। খোদা-রসুলের নির্দেশেই মজিদ এই গ্রামে পদার্পণ করেছে, এই কথা সবাইকে বোঝাতেই মজিদ উক্ত কথাটা বলে।

গ. প্রয়োগমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ উদ্দীপকের বহিপীর ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদ চরিত্রের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে।

✍ ‘লালসালু’ উপন্যাসে মজিদ একটি প্রতিকী চরিত্র। কুসংস্কার, শঠতা, প্রতারণা এবং অবিশ্বাসের প্রতীক সে। নিজের স্বার্থের জন্য, জীবিকার তাগিদে প্রচলিত বিশ্বাসের কাঠামো ও প্রথাবদ্ধ জীবন ধারাকে সে টিকিয়ে রাখতে চায়।

✍ উদ্দীপকের বহিপীর এই মজিদ চরিত্রেররই প্রতিরূপ। তাকে দেখি কন্যার বয়সী তাহেরাকে সে দ্বিতীয় বিয়ে করে। তাহেরা তার মুরিদ কন্যা। প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর চৌদ্দ বছর পরে নারীলোলুপ বহিপীর আবার বিয়ে করে। তার এই বৈশিষ্ট্যে একজন পুরুষের নারীর প্রতি হীনম্মন্যতা ও নারীকে ভোগের সামগ্রী মনে করার মনোভাবটি ওঠে এসেছে। যেমনটি দেখা যায় ‘লালসালু’ উপন্যাসে মজিদ চরিত্রে। মজিদও ঘরে স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও কন্যার বয়সী জমিলাকে বিয়ে করে। তার এই আচরণে স্বার্থপরতা ও শোষণের দিকটি প্রকাশিত হয়। ধর্মীয় অনুশাসনে সকলকে ভীত সন্ত্রস্ত করে রাখলেও সে নিজের জৈবিক চাহিদা ও অর্থনৈতিক চাহিদা যে কোনো ভাবে পূরণ করে। যা দেখা যায় উদ্দীপকের বহিপীরের চরিত্রে।

ঘ. উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ “উদ্দীপকটি ‘লালসালু’ উপন্যাসের ভাবার্থের দর্পণ।” মন্তব্যটি আমার মতে যৌক্তিক নয়।

✍ ‘লালসালু’ একটি সামাজিক উপন্যাস। এখানে ঔপন্যাসিক বহুমুখী ভাবের অবতারণা ঘটিয়েছেন। যুগ যুগ ধরে গড়ে উঠা কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও ভীতির সঙ্গে সুস্থ জীবনাকাক্সক্ষার দ্বন্দ্ব এ উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

✍ উদ্দীপকে একজন ভন্ড পীরের জৈবিক চাহিদা চরিতার্থ করতে এই কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজে একজন কিশোরী কিভাবে বলি হয় সে চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে। মানুষের ধর্মবিশ্বাস ও অশিক্ষার বোকামির সুযোগ গ্রহণ করে সমাজের ধর্মব্যবসায়ীরা কীভাবে তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করে সে দৃশ্য দেখানো হয়েছে বহিপীরের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বর্ণনার মধ্য দিয়ে। এটা ‘লালসালু’ উপন্যাসে বর্ণিত একটি মাত্র দিক।

✍ ‘লালসালু’ উপন্যাসে ঔপন্যাসিক এই বাংলাদেশের সমাজ জীবনের যুগ যুগ ধরে শেকড়গাড়া কুসংস্কার, অন্ধ ধর্মবিশ্বাস ও ভীতির সাথে সুস্থ জীবনের দ্বন্দ্ব, গ্রামবাসীর সরলতা ও ধর্মবিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে ভন্ড ধর্মব্যবসায়ী মজিদ তার প্রতারণার জাল বিস্তারের মাধ্যমে কীভাবে নিজের শাসন ও শোষণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে তারই অনুপুঙ্খ বিবরণে সমুদ্ধ উপন্যাসটি। এখানকার একটা খন্ডাংশ মজিদের দ্বিতীয় বিয়ের ঘটনা। এ সমাজের মানুষের  ধর্মবিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে ভন্ড ধর্মব্যবসায়ীরা কীভাবে নিজেরে স্বার্থ হালিল করে সে চিত্রটি উপস্থাপন ব্যতীত উদ্দীপকটি ‘লালসালু’ উপন্যাসের অন্য কোনো বিষয় উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই আমার কাছে প্রশ্নের মন্তব্যটি অযৌক্তিক।

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা সহপাঠ গাইড

লালসালু উপন্যাসের সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১৪

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং সৃজনশীল প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

বহিপীর – (একটু রেখে) আপনি মত না দিলেও আপনার বাপজান দিয়াছেন। তাহা ছাড়া সাক্ষী সাবদ সমেত কাবিননামাও হইয়া গিয়াছে। এখন সেকথা বলিলে চলিবে কেন। (সুর বদলিয়ে) দেখুন, মন দিয়া আমার কথা শুনুন।

তাহেরা – (আবার বাধা দিয়ে) আমি আপনার কোনো কথা শুনতে চাই না। আমার বাপজান আর সৎমা আপনাকে খুশি করবার জন্য আপনার সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন। আমি যেন কোরবানীর বকরি। আপনি পুলিশে খবর দিতে পারেন, আপনি আমার বাপজানকে ডেকে পাঠাতে পারেন, আমার ওপর জুলুম করতে পারেন। কিন্তু আমি আপনার সঙ্গে যাবো না। আপনি আমাকে দেখেননি, আমিও আপনাকে দেখিনি। আর আপনাকে আমি দেখতেও চাই না।

খোদেজা – খোদা খোদা, কোথায় যাব আমি। পীরসাহেবের মুখের ওপর এসব কী কথা বলে মেয়েটা! শুনেই আমার বুকের ভেতরটা কাঁপে।

বহিপীর – আমার কথা শোনেন।

তাহেরা – না না, আপনার কোনো কথা আমি শুনতে চাই না।

ক. মজিদের দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম কী?

খ. ‘আমি ভাবলাম তানি বুঝি দুলার বাপ’- ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের তাহেরার সাথে ‘লালসালু’ উপন্যাসের জমিলার চরিত্রের সাদৃশ্য কোথায়? আলোচনা কর।

ঘ. “উদ্দীপকের তাহেরা এবং ‘লালসালু’ উপন্যাসের জমিলা একই সামাজিক বৈসম্যের শিকার।” মন্তব্যটি বিচার কর।

১৪ নং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরঃ

ক. জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ মজিদের দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম জমিলা।

খ. অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ ‘আমি ভাবলাম তানি বুঝি দুলার বাপ’- কথাটি বলেছে মজিদের দ্বিতীয় স্ত্রী জমিলা।

✍ মজিদ তার ভবিষ্যৎ বংশধরের আশায় এবং নিজের জৈবিক চাহিদা পূরণের জন্যে দ্বিতীয় বিয়ে করে মেয়ের বয়সী জামিলাকে। সে দরিদ্র ঘরের কন্যা এজন্যে সে খুব সহজেই জমিলাকে বিয়ে করতে পারে। ঠিক যেন বিড়ালের ছানা। তার বিয়ের সময় মজিদকে দেখে তার মনে হয়েছিল মজিদ বুঝি দুলার অর্থাৎ বরের পিতা। বিয়ের পর রহিমার কাছে জমিলা বলে আমি ভেবেছিলাম তানি বুঝি দুলার বাপ। আর তোমাকে মনে করেছিলাম শাশুড়ি। জমিলার উক্ত কথার মাধ্যমে নারীর অবমূল্যায়নের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

গ. প্রয়োগমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ উদ্দীপকের তাহেরার সাথে ‘লালসালু’ উপন্যাসের জামিলা চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে প্রতিবাদী চেতনায়।

✍ ‘লালসালু’ উপন্যাসে নায়ক মজিদ কিন্তু নায়িকা কে? উপন্যাসের একটা বড় অংশ জুড়ে রহিমার উপস্থিতি থাকলেও একটু গভীরভাবে বিচার করলে দেখা যাবে তার চেয়ে জমিলার গুরুত্ব অনেক বেশি। ঔপন্যাসিক তাকে প্রতিবাদী চেতনার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত করেছেন। এই জমিলা চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে উদ্দীপকের তাহেরা চরিত্রের সাথে।

✍ উদ্দীপকের তাহেরা একজন প্রতিবাদী নারী। জনৈক বাহিপীর তাকে কলমা পড়িয়ে বিয়ে করে সৎ মা ও বৃদ্ধ পিতার ইচ্ছানুসারে। কিন্তু তাহেরা সেটাকে মেনে নিতে পারে না। বহিপীর তাকে নিতে এলে তার সাথে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। সে জানায় তার মতে এ বিয়ে হয়নি এবং তার বাপ-মা পীরকে খুশি করার জন্যে তার সাথে বিয়ে দিয়েছে যা সে মেনে নিতে পারবে না। এমনই একটা প্রতিবাদী চরিত্র উপন্যাসের জমিলা। মাজারের খাদেম মজিদের বৌ হওয়া সত্ত্বেও তার মনে খোদাভীতি জাগাতে পারে না মজিদ। তার কোনো নিষেধ সে শোনে না। ঔপন্যাসিক তাকে এই কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজের প্রতিবাদী চেতনার নারী হিসেবে তুলে ধরেছেন যা উদ্দীপকের তাহেরার সাথে সাদৃশ্য বিধান করেছেন।

ঘ. উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ “উদ্দীপকের তাহেরা এবং ‘লালসালু’ উপন্যাসের জামিলা একই সামাজিক বৈষম্যের শিকার।” মন্তব্যটি সঠিক।

✍ প্রাচীনকাল থেকে আমাদের সমাজ ব্যাবস্থায় নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রচলিত রয়েছে। এখানে নারীদের সঠিক মূল্যায়ন করা হয় না। এই পুরুষ শাসিত সমাজ নারীকে ভোগের সামগ্রী ভাবে, পুরুষের সেবাদাসী ভাবে। তাদের চাওয়া-পাওয়ার, পছন্দ-অপছন্দের কোনো মূল্যায়ন করা হয় না। তাহেরা এবং উপন্যাসের জমিলা একই সামাজিক বৈষম্যের শিকার।

✍ উদ্দীপকের তাহেরা দরিদ্র ঘরের মেয়ে। ধর্মান্ধ পিতা স্বার্থানেষী নারীলোলুপ পীর সাহেবকে খুশি করার জন্য মেয়ের মতামতের তোয়াক্কা না করে তার সাথে বিয়ে দেয়। এখানে মেয়ের কোনো মূল্যায়ন করা হয় না। নারীর প্রতি সামাজিক বৈষম্যের কারণে তাহেরা এই জুলুমের শিকার হয়েছে। এমনই বৈষম্যের শিকার হতে দেখি ‘লালসালু’ উপন্যাসের জমিলাকে। সেও দরিদ্র ঘরের মেয়ে। তাকেও বলি হতে হয় ভন্ড এক ধর্মব্যবসায়ীর লালসার কাছে।

✍ জমিলাকে বিয়ে করে মজিদ তার বংশ রক্ষার জন্যে কিন্তু সে কখনোই ভাবে নি এ বিয়েতে জমিলার কতটুকু সম্মতি রয়েছে। কারণ বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গিতে অভ্যস্ত পুরুষ মজিদ কাপুরুষের মতো মেয়ের বয়সী জমিলাকে বিয়ে করে। জমিলাও কোরবানীর পশুর মতো এই পুরুষ শাসিত সমাজের বধ্যভূমিতে জীবন উৎসর্গ করে। তাই একথা নির্দ্বিধায় বলা য়ায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা সহপাঠ গাইড

লালসালু উপন্যাসের সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১৫

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং সৃজনশীল প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

পাঁচুকান্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাসান শিকদারের শ্বশুর কাসেম হালদার। দেখতে শুনতে বোকা কিসিমের মনে হলেও বদের একশেষ। মেয়েকেই শুধু হাসান শিকদারের ঘাড়ে গছিয়ে দেয়নি, নিজেও জামাইবাড়ির আজীবন ভোগদখল সদস্য বনে গেছে। হাসান চেয়ারম্যানও শ্বশুরের যাবতীয় সম্মান নাশ করে তার যাবতীয় অকামের দোসর শ্বশুরকে করে নিয়েছে। একদিন শেষরাতে শ্বশুরকে তারাকান্দি বাজার থেকে কয়েক প্যাকেট নিষিদ্ধ দ্রব্য খুব গোপনে আনতে বলে। অমাবস্যার রাতে পলাশপুরের শ্যাওড়া গাছতলা দিয়ে ‘তেনাদের’ এড়িয়ে ঝামার বাজার যাওয়ার ব্যপারে কাশেম হালদার খুব ভয় পেতে থাকে। সে নিজে না গিয়ে অন্যকে দিয়ে কাজটি সমাধাণ করার বুদ্ধি আটতে থাকে।

ক. মজিদের ঘর কিসের তৈরি?

খ. মজিদ ধলা মিঞার প্রস্তাবে রাজি হয়নি কেন?

গ. উদ্দীপকের কাসেম হালদার ‘লালসালু’ উপন্যাসের কোন চরিত্রের অনুরূপ? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. “উদ্দীপকের চেয়ারম্যান হাসান শিকদার আর ‘লালসালু’র খালেক ব্যাপারীর সমস্যা সমধর্মী না হলেও ঘটনা ফাঁস হলে উভয়ের পরিণতি সমরূপ হতে বাধ্য।” বক্তব্য বিষয়ে তোমার মতামত তুলে ধর।

১৫ নং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরঃ

ক. জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ মজিদের ঘর ইটের তৈরি।

খ. অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ মজিদ সুদূরপ্রসারী চিন্তা করেই ধলা মিঞার প্রস্তাবে রাজি হয়নি।

✍ মজিদের ধারণা খালেক ব্যাপারী ও তার স্ত্রী আমেনা বিবি মজিদকে মানলেও ভেতরে ভেতরে আওয়ালপুরের পীরের প্রতি তাদের বিশ্বাস অর্জিত হচ্ছে। এজন্য সে রেগে যায়। বিশ্বাসের ভিত তৈরি হওয়ার আগেই মূলসহ তা ওপড়ে ফেলতে চায়। তাই সে ধলা মিঞার প্রস্তাবে রাজি হয়নি।

গ. প্রয়োগমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ উদ্দীপকের কাসেম হালদার ‘লালসালু’ উপন্যাসের ধলা মিঞা চরিত্রের অনুরূপ।

✍ ‘লালসালু’ উপন্যাসের প্রভাবশালী চরিত্র খালেক ব্যাপারীর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর বড় ভাই ধলা মিঞা। খালেক ব্যাপারী খুব সুন্দর করে তার প্রথম স্ত্রী আমেনা বিবির ইচ্ছার কথা বলে ধলা মিঞাকে রাতের আঁধারে খুব গোপনে আওয়ালপুরে গিয়ে খুব সাবধানতা অবলম্বন করে পীরের পানি পড়া আনতে বলে।

✍ ধলা মিঞাকে সহজ সরল মনে হলেও সে ধুরন্ধর প্রকৃতির। খালেক ব্যাপারী তাকে আমেনা বিবির জন্যে আওয়ালপুরের পীর সাহেবের কাছ থেকে পানি পড়া আনতে বললে সে ভিন্নতর মতলব আঁটে। সে মজিদের কাছ থেকে পানি পড়া নিয়ে আওয়ালপুরের পীর সাহেবের পানি পড়ার কথা বলার ফন্দি করে। সেজন্যে মজিদকে পানি পড়া আনা বাবদ খালেকব্যাপারীর দেওয়া টাকার অর্ধেক টাকা ঘুষ দেওয়ার চিন্তাও করে যাতে মজিদ পরে বিষয়টি ফাঁস না করে দেয়। ধলা মিঞার কুমতলবেই আমেনা বিবির কপাল ভাঙে, নিরীহ চরিত্রমতি আমেনা বিবিকে তালাক নিয়ে স্বামীর সংসার ছাড়তে হয়।

ঘ. উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ “উদ্দীপকের চেয়ারম্যান হাসান শিকদার আর ‘লালসালু’র খালেক ব্যাপারীর সমস্যা সমধর্মী না হলেও ঘটনা ফাঁস হলে উভয়ের পরিণতি সমরূপ হতে বাধ্য।”- উক্তিটি যথার্থ সঠিক।

✍ ‘লালসালু’ উপন্যাসের  প্রভাবশালী চরিত্র খালেক ব্যাপারী তার স্ত্রীর বড় ভাই ধলা মিঞাকে আমেনা বিবির জন্য রাতের আঁধারে, খুব গোপনে আওয়ালপুরে গিয়ে খুব সাবধানতা অবলম্বন করে পানি পড়া আনতে বলে। আরও বলে যে, সে যেন তার গ্রামের কথা গোপন করে করিমগঞ্জের কথা বলে এবং বলবে তার এক নিকটতম নিঃসন্তান আত্মীয়ার একটা ছেলের জন্য বড় শখ হয়েছে। শখের চেয়েও যেটা বড়া কথা, তাহলো শেষ পর্যন্ত কোনো ছেলেপুলে যদি না-ই হয় তবে বংশের বাতি জ্বালাবার আর কেউ থাকবে না।

✍ মোট কথা ব্যাপারটা এমন করুণভাবে তাকে বুঝিয়ে বলতে হবে যে, শুনে পীর সাহেবের মন গলে যেন পানি হয়ে যায়। কিন্তু ধলা মিঞা আওয়ালপুরে যেতে চায় না, কারণ পানি পড়া নিতে তাকে আওয়ালপুরে যেতে যাত্রা শুরু করতে হবে শেষ রাতে, যাতে ভোর হওয়ার আগেই ধলা মিঞা  মহব্বতনগরে ফিরে আসতে পারে এবং এ ব্যাপারে কেউ যেন টের না পায়। অন্যদিকে আওয়ালপুর ও মহব্বতনগরের মাঝপথের তেঁতুল গাছের তলা দিয়ে রাতের বেলা আসতে সে ভীষণ ভয় পায়। কারণ, তেঁতুল গাছটি ‘দেবংশি’ অর্থাৎ এ গাছে ভূত প্রেতের আড্ডা। তাছাড়া পীর সাহেবের সাঙ্গপাঙ্গদের হাতে মার খাওয়ার ভয়ও তার ছিল। এসব কারণেই সে আওয়ালপুরে যেতে চায় না।

✍ পরিশেষে বলা যায়, ধলা মিঞার কুমতলব ও গোপনীয়তা ফাঁসের কারণে যেমন আমেনা বিবির কপাল ভাঙে, খালেক ব্যাপারীর নিরীহ চরিত্রমতি আমেনা বিবিকে তালাক দিয়ে সংসারে বিপর্যয় আনতে বাধ্য হয়। উদ্দীপকের কাসেম হালদারের অনুরূপ কর্মকান্ডে চেয়ারম্যান হাসান শিকদারের জীবনেও খালেক ব্যাপারীর অনুরূপ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। অর্থাৎ হাসান শিকদার থানা পুলিশে সোপর্দ করলে নানা দুর্ভোগের শিকার হতে পারেন।

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা সহপাঠ গাইড

লালসালু উপন্যাসের সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১৬

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং সৃজনশীল প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

১৯২৬ সালের জানুয়ারি মাসে ঢাকায় ‘মুসলিম সহিত্য-সমাজ’ গঠিত হয়। এ সংগঠনের লেখকের দৃষ্টি ছিল যুক্তিবাদীর দৃষ্টি, চিন্তা-সংস্কারের দৃষ্টি এবং সমাজ-সংস্কারের দৃষ্টি। নতুন চিন্তার আভাসে রক্ষণশীলেরা চিরদিনই শঙ্কিত হয়ে ওঠেন, সেদিনও হয়েছিলেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ ইসলাম বিদ্বেষী।

ক. কখন বৈঠক ডাকা হলো?

খ. মসজিদের ব্যাপারে খালেক ব্যাপারী কেন বারো আনা খরচ বহন করতে চায়?

গ. ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’ এর লেখকের সাথে ‘লালসালু’ উপন্যাসের সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্র কোনটি? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. “উদ্দীপকের ‘ইসলাম বিদ্বেষী’ আর ‘লালসালু’র দাড়ি না থাকা একই রকম হামলার একই অস্ত্রবিশেষ।” মূল্যায়ন কর।

১৬ নং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরঃ

ক. জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ সন্ধ্যার পরে বৈঠক ডাকা হলো।

খ. অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ মজিদের তৈরি করা ফাঁদে পা দেওয়া খালেক ব্যাপারী গ্রামের মাতব্বর এবং সবচাইতে পয়সাওয়ালা লোক। আগেও সে মাজারের জন্যে অনেক পয়সা খরচ করেছে, গিলাফ বদলে দিয়েছে।

✍ এখন সে মসজিদের জন্যেও টাকা দেবে। কিন্তু বেশির ভাগ খরচ সে একাই বহন করতে চায় কারণ তার মনটা বড় অশান্তিতে আছে, সংসারেও তার বিরাগ এসেছে। আগের মতো দুনিয়ার কাজে সে শান্তি পায় না। সে জন্যে সে পরকালের চিন্তা করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চায়।

গ. প্রয়োগমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’ এর লেখকদের সাথে ‘লালসালু’ উপন্যাসের সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্রটি হলো মোদাব্বের মিঞার ছেলে আক্কাস।

✍ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’ উপন্যাসে আক্কাস মোদাব্বের মিঞার ছেলে। সে ইংরেজি স্কুলে পড়েছে। তারপর বিদেশে গিয়ে বহুদনি থেকেছে। সেখানে চাকরি করে পয়সা জমিয়ে সে আবার গ্রামে ফিরে এসেছে। আক্কাস গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

✍ উদ্দীপকের ১৯২৬ সালের জানুয়ারি মাসে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’ এর লেখকদের আদর্শ ও তাদের বিরোধী শক্তির কথা বলা হয়েছে। ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’ এর লেখকদের দৃষ্টি ছিল যুক্তিবাদীয় দৃষ্টি, চিন্তা-সংস্কারের দৃষ্টি এবং সমাজ-সংস্কারের দৃষ্টি। পক্ষান্তরে নতুন চিন্তার আভাসে রক্ষণশীলেরা চিরদিনই শঙ্কিত হয়ে ওঠেন, সেদিনও হয়েছিলেন। তারা অভিযোগ করেন ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজে’র লেখকরা ইসলাম বিদ্বেষী। উদ্দীপকের ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজে’র লেখকদের অনুরূপ ‘লালসালু’ উপন্যাসের আক্কাসের এ ধারণা হয়েছে যে স্কুলে না পড়লে মুসলমানের ছেলেদের উন্নতি হবে না। গ্রামে মক্তব আছে বটে, কিন্তু মক্তবে পড়ুয়ারা আধুনিক চেতনা থেকে পিছিয়ে থাকে। সে জন্যে আক্কাস মনে করে গ্রামে একটি স্কুল থাকা উচিত। মূলত আক্কাস একটি মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে গ্রামে আসে। কিন্তু অবশেষে ধর্মের কারবারী মজিদের কারণে আক্কাস স্কুল প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হয়।

ঘ. উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ উদ্দীপকে ‘ইসলাম বিদ্বেষী’ আর ‘লালসালু’র দাড়ি না থাকা একই রকম হামলার একই অস্ত্রবিশেষ। প্রতিক্রিয়াশীল ভন্ড ধর্মব্যবসায়ী মজিদ দাড়ি না থাকার কথাটি বলেছে মোদাব্বের মিঞার ছেলে আক্কাসকে।

✍ আক্কাস গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আধুনিক শিক্ষা গ্রামে চালু হলে মক্তবের লেখাপড়ায় পড়ুয়াদের আগ্রহ কমে যাবে। তখন মজিদের মতো ধর্মের কারবারীদের অসুবিধা হবে। সে জন্যে মজিদ গ্রামে স্কুল হতে দিতে চায় না। মজিদের সুবিধা হলো এই যে, গ্রামের অজ্ঞ লোকেরা তাকে ভয় করে এবং তার কথায় ওঠে বসে।

✍ উদ্দীপকে ১৯২৬ সালের জানুয়ারি মাসে ঢাকয় প্রতিষ্ঠিত ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’ এর লেখকদের আদর্শ ও তাদের বিরোধী শক্তির কথা বলা হয়েছে। ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’-এর লেখকদের দৃষ্টি ছিল যুক্তিবাদীর দৃষ্টি, চিন্তা-সংস্কারের দৃষ্টি এবং সমাজ-সংস্কারের দৃষ্টি। পক্ষান্তরে নতুন চিন্তার আভাসে রক্ষণশীলেরা চিরদিনই শঙ্কিত হয়ে ওঠেন, সেদিনও হয়েছিলেন। তারা অভিযোগ করেন ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজে’র লেখকরা ইসলাম বিদ্বেষী। উদ্দীপকের ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজে’র লেখকদের অনুরূপ ‘লালসালু’ উপন্যাসের আক্কাস একজন প্রগতিপন্থী আধুনিক ছেলে। আক্কাসকে থামিয়ে দিতে মজিদ তৎপর হয়। মুসলমানের ছেলে দাড়ি রাখে না- এ কথাটি বললে গ্রামের লোকেরা আক্কাসের বিরুদ্ধে যাবে। বাস্তবে হয়েছেও তাই। মজিদ লোকজনদের সামনে এটি প্রমাণ করলো যে আক্কাস ইসলাম ধর্মের রীতিনীতি মানে না।

✍ মূলত উদ্দীপকের রক্ষণশীলেরা এবং ‘লালসালু’র মজিদ নিজের প্রভাব বজায় রাখার জন্যে ইসলামের নামে এসব কথা বলে সমাজের প্রগতিপন্থীদের হামলা করে থামিয়ে দিতে চায়।

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা সহপাঠ গাইড

লালসালু উপন্যাসের সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১৭

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং সৃজনশীল প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

৬৩০ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত ‘বিদায় হজ্জ’-এ মহানবি (স) সমগ্র মানবজাতিকে উল্লেখ করে বলেন, “শ্রবণ কর। মূর্খতা যুগের সমস্ত কুসংস্কার, সমস্ত অন্ধবিশ্বাস এবং সকল প্রকারের অনাচার আজ আমার পদতলে দলিত মথিত অর্থাৎ রহিত ও বাতিল হইয়া গেল। …….ধর্ম সম্বন্ধে বাড়াবাড়ি করিও না। ইহার অতিরিক্ততার ফলে তোমাদিগের পূর্ববর্তী বহু জাতি ধ্বংস হইয়া গিয়াছে।”

ক. করিমগঞ্জে কী আছে?

খ. মজিদের মন থমথম করে কেন?

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি ‘লালসালু’ উপন্যাসের কোন ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে?

ঘ. “মূর্খতা যুগের সমস্ত কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস এবং অনাচারের আদর্শ ভূমি ‘লালসালু’র মহব্বতনগর।”- মন্তব্য বিষয়ের সাথে কি তুমি একমত ? তোমার মতামতের পক্ষে যুক্তি দাও।

১৭ নং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরঃ

ক. জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ করিমগঞ্জে একটি হাসপাতাল আছে।

খ. অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ মহব্বতনগরের আশপাশে আওয়ালপুরে আগত জাঁদরেল পীরের আনাগোনায় মজিদের মন থমথম করে।

✍ সে ভীতসন্ত্রস্ত। কারণ সে বুঝে গেছে যে, লোকজন মজিদের চেয়ে ঐ পীরকে বেশি শ্রদ্ধা ও ভক্তি করে। নতুন পীর সাহেব আসার পর মাজারেও লোকজন কম আসা-যাওয়া করে। লোকজন ছোট আওয়ালপুরের পীর সাহেবের কাছে। তাকে একটু দেখতে চায়, তার পায়ে একটু চুমু দিতে চায়। এসব  দেখে শুনে মজিদ গম্ভীর হয়ে যায়। মাজারে মন থমথম করে।

গ. প্রয়োগমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ উদ্দীপকে উল্লিখিত ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি ‘লালসালু’ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদের আওয়ালপুরের পীরের সাথে সৃষ্ট দ্বন্দ্ব সংঘাতকে ইঙ্গিত করে।

✍ মজিদ নিজে প্রতারক, ভন্ড ও ধর্মব্যবসায়ী। আওয়ালপুরের পীর সাহেবকেও সে বুঝেছে। সবচেয়ে বড় কথা নিজের প্রভাব-প্রতিপত্তি জিইয়ে রাখতে হলে মহব্বতনগর গ্রামবাসী যারা আওয়ালপুরের পীর সাহেবের কাছে গিয়েছে তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। তাই মজিদ আওয়ালপুরের পীরের কারসাজি ধরিয়ে দিয়ে নিজের প্রভাব রক্ষার জন্যে আওয়ালপুরে যায়। সহজ কথায় মহব্বতনগরের গ্রামবাসী মজিদকে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে, সম্মান করেছে। এখন তারাই আবার আওয়ালপুরে ছুটছে, যা মজিদের জন্যে হুমকিস্বরূপ। তাই সে নিজের প্রভাব-প্রতিপত্তি টিকিয়ে রাখার জন্যে আওয়ালপুরে যায়।

✍ উদ্দীপকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স:)- এর বিশ্ব মানবতার উদ্দেশ্যে প্রদত্ত বিদায় হজ্জের ভাষণের সংকলিত অংশে দেখা যায়, ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি সম্পর্কে তিনি বলেছেন, “সাধারণ! ধর্ম সম্বন্ধে বাড়াবাড়ি করিও না।” অথচ স্বীয় স্বার্থ নিষ্কন্টক রাখার স্বার্থে উদ্দীপকের মজিদ আওয়ালপুরের পীর সাহেবের সাথে ধর্মীয় বিষয়ে বাড়াবাড়িতে লিপ্ত হয়। আওয়ালপুরের পীর সাহেবের নির্দেশে জোহরের নামাজের সময় বহুক্ষণ আগে শেষ হওয়ার পরও এক লোক সবাইকে কাতার বন্দি হতে বলে। নামাজ শেষ হওয়ার পরে মজিদ চিৎকার করে প্রতিবাদ জানিয়ে বলে, জোহরের নামাজের সময় বহু আগে পার হয়েছে। পীরের লোকেরা লাঠি দিয়ে সূর্যের ছায়া মেপে দেখে মজিদের কথা ঠিক। মজিদ তখন মহব্বতনগরের লোকদের তার সাথে ফিরে আসার জন্য বলে। লোকজনও তার সঙ্গে চলে আসে।

ঘ. উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যে ‘লালসালু’ উপন্যাসের মহব্বতনগরকে যে মূর্খতা যুগের সমস্ত কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস এবং অনাচারের আদর্শ ভূমি বলা হয়েছে- তার সাথে আমি একমত।

✍ সমাজচেতন ঔপন্যাসিক এবং জীবন ঘনিষ্ঠ শিল্পী সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’ উপন্যাস চল্লিশের দশকের বাংলার প্রচলিত সমাজব্যবস্থার একটি নির্মম দর্পণ। গ্রাম-বাংলার ধর্মান্ধতার সুযোগে অন্তঃসারশূন্য একটি কবরকে কেন্দ্র করে মজিদ নামক জনৈক ভন্ডপীরের জীবনকাহিনীই এর মুখ্য বর্ণনার বিষয় হলেও তৎকালীন পল­ী বাংলায় মুসলিম সমাজজীবনের অতি বাস্তব চিত্র নিখুঁতভাবে চিত্রিত হয়েছে এখানে। উদ্দীপকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স:)- এর সমগ্র মানবজাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত বিদায় হজ্জের ভাষণের সংকলিত অংশ দেওয়া হয়েছে। এখানে মহানবী (স:) বিশ্ব মানবতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “শ্রবণ কর। মূর্খতা যুগের সমস্ত কুসংস্কার, সমস্ত অন্ধবিশ্বাস এবং সকল প্রকারের অনাচার আজ আমার পদতলে দলিত মথিত অর্থাৎ রহিত ও বাতিল হইয়া গেল।” ‘অথচ ‘লালসালু’ উপন্যাসে আমরা মহব্বতনগর গ্রামের অন্ধবিশ্বাস এবং অনাচারের আদর্শভূমি রূপে দেখি।

✍ তৎকালে এদেশের সামাজিক অবস্থা ছিল শিক্ষাবর্জিত ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন। এক শ্রেণির ধর্মব্যবসায়ী নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে গ্রামের মানুষকে প্রতারিত করত। গ্রামের সহজ সরল মানুষগুলোর মধ্যে ছিল অন্ধ পীরভক্তি, স্বার্থবাদী ভন্ডপীরেরা গ্রামের লোকদের এ সরলতার সুযোগই গ্রহণ করত। পীরের কথা ছিল তাদের নিকট দ্বৈববাণীর মতো। এ কারণে ভন্ডপীর মজিদের কথায় খালেক ব্যাপারী তার নির্দোষ স্ত্রী আমেনা বিবিকে তালাক দিয়ে প্রচলিত বিশ্বাসের স্রোতে সে আপনাকে ভাসিয়ে দিয়েছে।

✍ ওপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে দেখা যায় যে, ‘লালসালু’ তৎকালীন সমাজের পীরভক্তি, ধর্মীয় ভন্ডামি, কুসংস্কার, মানুষের অজ্ঞতা ও মূর্খতার এক বাস্তব চিত্র। মহব্বতনগর গ্রামে আছে বহু মানুষের হৃদয়ের হাহাকার, আছে অনেকের ব্যর্থতার করুণ কাহিনী, ‘লালসালু’র রক্ত রঙিন আবরণে ঢাকা রয়েছে বহু বেদনা, বহু বঞ্চনার কাহিনী, বহু ব্যর্থ কামনার এক অবর্ণনীয় ইতিহাস।

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা সহপাঠ গাইড

লালসালু উপন্যাসের সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১৮

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং সৃজনশীল প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

বহিপীর = (দীর্ঘনিঃশ্বাস ছেড়ে) এতক্ষণে ঝড় থামিল। তাহারা গিয়াছে, যাক। তা ছাড়া তো আগুনে ঝাঁপাইয়া পড়িতে যাইতেছে না। তাহারা তাহাদের নতুন জীবনের পথে যাইতেছে। আমরা কী করিয়া তাহাদের ঠেকাই। আজ না হয় কাল যাইবেই।

ক. ‘লালসালু’ উপন্যাসের শেষ বাক্যটি কী?

খ. মজিদ না ঘুমিয়ে দাওয়ার ওপর বসে থাকে কেন?

গ. উদ্দীপকের বহিপীরের অনুধাবনের অনুরূপ অনুধাবন মজিদ চরিত্রে তুলে ধর।

ঘ. “উদ্দীপকের বহিপীরের অনুধাবনের অনুরূপ অনুধাবন মজিদের ভিতর ক্ষণিকের জন্যে এলেও তা মজিদকে পাল্টাতে পারেনি।” মন্তব্য বিষয়ে মতামত তুলে ধর।

১৮ নং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরঃ

ক. জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ বিশ্বাসের পাথরে যেন খোদাই সে-চোখ।

খ. অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ নিজের প্রভাব বজায় রাখার জন্যে মজিদ জোর করে অন্ধকার মাজার ঘরে জমিলাকে নিয়ে য়ায়।

✍ তারপর সে জমিলাকে একটা খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখে। তাকে বলে এক রাত মাজার পাকের কাছে থাকলে দুষ্ট আত্মা বাপ বাপ করে পালাবে এবং এভাবে জমিলার মনে খোদাভীতি ও স্বামীভক্তি আসবে। জমিলাকে মাজার ঘরে আটকে রেখে মজিদ ঘরের ভেতরের দাওয়ায় বসে থাকে। তার ধারণা জমিলার তীক্ষ্ণ আর্তনাদ একটু পরে শোনা যাবে। তাই সে না ঘুমিয়ে দাওয়ার ওপর বসে থাকে। কিন্তু জমিলার তীক্ষ্ণ আর্তনাদ দূরে থাক কোনো টু-শব্দ  পর্যন্ত শোনা যায় না।

গ. প্রয়োগমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ সংজ্ঞাহীন জমিলাকে বিছানায় শুইয়ে দেওয়ার পর মজিদের মনে যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে তারই মাঝে উদ্দীপকের বহিপীরের অনুধাবনের অনুরূপ লক্ষণীয়।

✍ জমিলাকে মাজার ঘরে আটকে রেখে মজিদ তার আর্তনাদ শোনার অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু সারা রাতে অপেক্ষা করার পরও তার সে আশা পূরণ হয়নি। সারা রাত ধরে ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি থামলে রহিমার কথা মতো জমিলাকে আনতে যায় মজিদ। মাজারের ঝাপটা খুলে মজিদ দেখে জমিলা সালু কাপড়ে ঢাকা কবরের পাশে হাত-পা ছড়িয়ে চিৎ হয়ে পড়ে আছে। তার চোখ বোজা, বুকে কাপড় নেই। আর মেহেদি দেওয়া একটি পা কবরের গায়ের সঙ্গে লেগে আছে। জমিলা সম্পূর্ণ সংজ্ঞাহীন। মজিদ তাকে পাজাকোলে করে এনে বিছানায় শুইয়ে দেয়। রহিমা তাকে চেয়ে চেয়ে দেখে। তারপর প্রবল আবেগের বশে জমিলার দেহে হাত বুলোতে থাকে। অদূরে বিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে মজিদ।

✍ উদ্দীপকে সংকলিত বহিপীরের সংলাপ থেকে আমরা ধারণা করতে সক্ষম হই যে, তীব্র এক দ্বন্দ্ব-সংগ্রামমুখর অবস্থা পেরিয়ে বহিপীর পরিবর্তনকে অনুধাবন করেছেন। উদ্দীপকের অনুরূপ পরিবর্তন ক্ষণিকের জন্যে ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদের মধ্যেও দেখা যায়। শুশ্রুষারত রহিমা ও সংজ্ঞাহীন জমিলার দিকে তাকিয়ে মজিদের মনে হয়, মুহূর্তের মধ্যে যেন কেয়ামত হবে, নিমিষের মধ্যে তার ভেতরটা ওলটপালট হয়ে যাবার উপক্রম। একটা বিচিত্র জীবন আদিগন্ত উন্মুক্ত হয়ে ক্ষণকালের জন্যে প্রকাশ পায় তার চোখের সামনে। আর একটা সত্যের সীমানায় পৌঁছে জন্ম-বেদনার তীক্ষ্ণ যন্ত্রণা অনুভব করে মনে মনে।

ঘ. উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ “উদ্দীপকের বহিপীরের অনুধাবনের অনুরূপ অনুধাবন মজিদের ভিতর ক্ষণিকের জন্যে এলেও তা মজিদকে পাল্টাতে পারেনি।” প্রশ্নোক্ত এ মন্তব্যের সাথে আমি একমত।

✍ উদ্দীপকে সংকলিত বহিপীরের সংলাপ থেকে আমরা ধারণা করতে সক্ষম হই যে, তীব্র এক দ্বন্দ্ব-সংগ্রামমুখর অবস্থা পেরিয়ে বহিপীর পরিবর্তনকে অনুধাবন করেছেন। উদ্দীপকের অনুরূপ পরিবর্তন ক্ষণিকের জন্যে ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদের মধ্যেও দেখা যায়। শুশ্রুষারত রহিমা ও সংজ্ঞাহীন জমিলার দিকে তাকিয়ে মজিদের মনে হয়, মুহূর্তের মধ্যে যেন কেয়ামত হবে, নিমিষের মধ্যে তার ভেতরটা ওলটপালট হয়ে যাবার উপক্রম। একটা বিচিত্র জীবন আদিগন্ত উন্মুক্ত হয়ে ক্ষণকালের জন্যে প্রকাশ পায় তার চোখের সামনে। আর একটা সত্যের সীমানায় পৌঁছে জন্ম- বেদনার তীক্ষ্ণ যন্ত্রণা অনুভব করে মনে মনে।

✍ ইতোমধ্যে আবার শিলাবৃষ্টিতে ধানের প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। এই দৃশ্য দেখে গ্রামের লোকেরা হাহুতাশ করতে লাগল। একজন বলে ওঠে, “সবইতো গেল। এইবার নিজেই বা খামু কি, পোলাপাইনদেরই বা দিমু কি? তখন মজিদ গ্রামবাসীদের লক্ষ্য করে বলে, “নাফরমানি করিও না, খোদার ওপর তোয়াক্কল রাখো।” ধর্ম-ব্যবসায়ী মজিদ মানুষকে ঠকানোর উদ্দেশ্যেই সান্ত্বনার বাণী ছড়ায়। মজিদ চরিত্রের এই দিকটি উদঘাটিত হয়ে যাওয়ায় একটি বিষয় আলোকিত হয়ে ওঠে যে, মজিদ শেষ পর্যন্ত মজিদই থাকে, মানুষ হয়ে আর ওঠে না। উপন্যাসে মজিদ চরিত্রের কোনো প্রকার উত্তরণ ঘটে না।

✍ উপন্যাসের প্রথমে যে মজিদের আবির্ভাব হয়েছিল, মধ্যবর্তী অবকাশে, নানাবিধ ঘটনা ঘটবার পরও উপন্যাসের সমাপ্তিতে সে সেই মজিদই থেকে যায়।

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা সহপাঠ গাইড

লালসালু উপন্যাসের সৃজনশীল প্রশ্নঃ ১৯

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং সৃজনশীল প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

সতীন সফুরার কাছে বিয়ের দিনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করছিল চৌদ্দ বছর বর্ষীয়া জুলেখা। “বুঝলানি ভইব, আমিতো পেরথম মনে করছিলাম, তানি বুঝি দুলার চাচা, খালু”। একথা বলেই জুলেখা বিচিত্রভাবে হাসতে থাকে। ঝরনার অনাবিল গতির মতো ছন্দময় দীর্ঘ সমাপ্তিহীন জীবন্ত সে হাসির শব্দ কানে যেতেই প্রায় ষাট বছর বয়সী জুলেখার স্বামী কলিম ফরাজি খেউ খেউ করতে করতে হাজির হলো। বেশরম, বে-শরিয়তি হাসির জন্য জুলেখাকে তীব্র ভর্ৎসনা করলো। ফরাজির আচরণে আগে থেকে দানা বাঁধা কষ্টের নুড়িতে জুলেখা যেন এক কঠিন পাথর বনে গেল।

ক. সে হঠাৎ জমিলাকে বুকে টেনে নেয় কপালে আস্তে চুমা খায়?

খ. মজিদের মনটা তৃপ্তিতে ভরে উঠে কেন?

গ. উদ্দীপকের জুলেখা ‘লালসালু’ উপন্যাসের কোন চরিত্রের প্রতিচ্ছবি?

ঘ. “জুলেখার পাথর বনে যাওয়া আর জমিলার ঠাটাপড়া মানুষের মতো হয়ে যাওয়া, একই অনুভূতি থেকে উৎসারিত আঘাতের পরিণতি।” মূল্যায়ন কর।

১৯ নং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরঃ

ক. জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ রহিমা হঠাৎ জমিলাকে বুকে টেনে নেয় কপালে আস্তে চুমা খায়।

খ. অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ মজিদের মনটা তৃপ্তিতে ভরে উঠে, কারণ মজিদ দেখে তার মিথ্যে গল্পের একটা ফল হয়েছে। জমিলার চোখে ভীতির ছায়া দেখা যায়। মজিদ তখন ধারণা করে তার শিক্ষা সার্থক হয়েছে। মজিদ আরো তৃপ্ত হয় তখন যখন সে দেখে জমিলা অনেকক্ষণ ধরে নামাজ পড়ে। রহিমা ঘরের কাজ করে আসার পরও দেখা যায় জমিলা নামাজ পড়ছে। এতে মজিদ বেজায় খুশি হয়।

গ. প্রয়োগমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ উদ্দীপকের জুলেখা উপন্যাসের জমিলা চরিত্রের প্রতিচ্ছবি। বাংলা সাহিত্যের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ঔপন্যাসিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহÍ ‘লালসালু’ উপন্যাসের জমিলার হাসির রূপ এখানে ব্যক্ত করা হয়েছে।

✍ জামিলা মজিদের দ্বিতীয় বউ হিসেবে এ বাড়িতে এসেছে। মজিদের সঙ্গে তার বয়সের বিরাট ব্যবধান। মজিদ তার পিতার বয়সী। কিন্তু এর সঙ্গে তার বিয়ে হওয়াই হাসির বিষয়।  সে কথা রহিমাকে বলতে গিয়ে জমিলা দারুণভাবে হেসে উঠে।

✍  উদ্দীপকে আমরা দেখি, সতীন সফুরার কাছে বিয়ের দিনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করছিল চৌদ্দ বছর বর্ষীয়া জুলেখা। সে বলে সে প্রথমে মনে করেছিল তার স্বামীটি বুঝি দুলার চাচা বা খালু। একথা বলেই জুলেখার মতো ‘লালসালু’ উপন্যাসের  জমিলাও হাসতে হাসতে লুটিয়ে পড়েছে। হাসি আর থামে না। তার হাসি জীবন্ত। ঝরনা যেমন স্বচ্ছ গতিতে ছন্দময় ভঙ্গিতে এগিয়ে চলে এবং আসলে জমিলার এ হাসি তার জীবনের প্রতি একটি প্রচণ্ড কৌতুক।

ঘ. উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ আশাহতের, বঞ্চিতের যে শোক তা উদ্দীপকের জুলেখাকে পাথর বানিয়েছে আর ‘লালসালু’ উপন্যাসের জমিলাকে বানিয়েছে ঠাটাপড়া মানুষের মতো।

✍ উপন্যাসের জমিলা মজিদের দ্বিতীয় স্ত্রী। অল্পবয়সী একটি বালিকা। তার জীবনে বাসনা-কামনা আছে। কিন্তু সে জীবনকে যেভাবে ভেবেছিল তার জীবন সেভাবে হলো না। তাকে বিয়ে পড়িয়ে দেওয়া হলো পিতার বয়সী এক বুড়ো লোকের সঙ্গে। যার এক বউ আগে থেকেই আছে। সব মিলিয়ে তার জীবন তার কাছেই কৌতুককর মনে হয়।

✍ উদ্দীপকে আমরা দেখি, সতীন সফুরার কাছে বিয়ের দিনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করছিল চৌদ্দ বছর বর্ষীয়া জুলেখা সে বলে সে প্রথমে মনে করেছিল তার স্বামীটি বুঝি দুলার চাচা বা খালু। একথা বলেই জুলেখা বিচিত্রভাবে হাসতে থাকে। ঝরনার অনাবিল গতির মতো ছন্দময় দীর্ঘ সমাপ্তিহীন জীবন্ত সে হাসি। কিন্তু এমনি সহজ সচ্ছন্দময় হাসিও স্বামীর বিধি-নিষেধ ও রক্তচক্ষুর আঘাতে স্তব্ধ হয়ে যায়। ফলে সে আগে থেকে দানা বাঁধা কষ্টের নুড়িতে এক কঠিন পাথর বনে যায়। উদ্দীপকের জুলেখার মতো ‘লালসালু’ উপন্যাসের জমিলা প্রাণ খুলে হাসতেও পারে না। মজিদের শাসন চলে সর্বক্ষণ। খ্যাংটা বুড়ির ছেলের জন্য জমিলারও মন খারাপ হয়। মজিদ ওসব বোঝে না। মন খারাপ হলে দুনিয়াদারির কাজ কি চলবে না। কিন্তু জমিলা পাথরের মতো হয়ে গেছে। কোনোদিকে তার হুঁশ নেই। বজ্রাহতের মতো হয়ে গেছে সে। জীবনের প্রতি সুতীব্র অভিমানে যে হাসি তা অনেক সময় তীরের ফলার চেয়েও ধারাল এবং বেদনাদায়ক।

✍ জীবনের আশা-আকাক্সক্ষা সব শেষ হয়ে যাওয়ায় উদ্দীপকের জুলেখা এবং ‘লালসালু’ উপন্যাসের জমিলা পাথর বনে যায়, বনে যায় ঠাটাপড়া মানুষ- যাদের কোনো স্বপ্ন নেই।

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা সহপাঠ গাইড

লালসালু উপন্যাসের সৃজনশীল প্রশ্নঃ ২০

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং সৃজনশীল প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

রাসু ডাকাত যেমন নৃশংস তেমনি দুর্ধর্ষ। নিজ দল ও এলাকায় তার অপ্রতিহত কর্তৃত্ব। প্রথম বিয়ের প্রায় বিশ বছর পর ডাকাতি করতে গিয়ে নরম লাজুক দেখতে এক ঘোড়শী সুন্দরী কন্যাকে লুট করে এনে বিয়ে করে রাসু ডাকাত। দেখতে নরম লাজুক মেয়েটিই একদিন থানার পুলিশ ডেকে এনে রাসু ডাকাতকে গ্রেফতার করায়। হতভম্ভ রাসু ডাকাত প্রথমা স্ত্রী রাশিদাকে উদ্দেশ্য করে বলল, এ কারে বিয়া করলাম? বিবি, তুমি বদদোয়া দিছিলা নি? রাশিদা বিয়ের দীর্ঘদিন পরে তাকিয়ে নতুন এক রাসুকে দেখে।

ক. কে ল্যাট মেরে বসেই থাকে?

খ. মজিদ আমেনা বিবির প্রতি ক্ষুব্ধ কেন?

গ. রাশিদার চোখে দেখা নতুন রাসু ‘লালসালু’ উপন্যাসের কোন ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে?

ঘ. “রাসুর জিজ্ঞাসা আর মজিদের জিজ্ঞাসা একই সুতোয় গাঁথা।” মন্তব্যটি তুমি সমর্থন কর কি? মতের সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন কর।

২০ নং সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরঃ

ক. জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ জমিলা ল্যাট মেরে বসেই থাকে।

খ. অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ সন্তানহীনা আমেনা বিবি আওয়ালপুরের পীরের পানি পড়া খেতে চেয়েছিল সন্তান কামনায়। এ ঘটনা জানতে পেরে মজিদ ভীষণ ক্ষেপে যায়। মজিদ বুঝতে পারে সে মহব্বতনগরবাসীর মনে যে বিশ্বাস স্থাপন করেছে তাতে যদি একবার ফাটল ধরে তবে আর রক্ষা নেই।

✍ এছাড়া আমেনা বিবি মজিদকে অবিশ্বাস করে আওয়ালপুরের পীরের পানি পড়া খেতে চেয়েছে বলে মজিদ মনে করে। তাই মজিদ আমেনা বিবির প্রতি ক্ষুব্ধ হয়।

গ. প্রয়োগমূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ রাশিদার চোখে দেখা নতুন রাসু ‘লালসালু’ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদের প্রথম স্ত্রী রহিমার চোখে দ্বিতীয় স্ত্রী জমিলার প্রতিবাদে হতবুদ্ধি ও অসহায় এক নতুন মজিদকে দেখার ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে। বাংলা সাহিত্যের এক ভিন্ন স্বাদের উপন্যাস ‘লালসালু’। মজিদ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। উপন্যাসের এক পর্যায়ে নতুন এক মজিদকে দেখে তার স্ত্রী রহিমা।

✍ মজিদ হাড়সর্বস্ব ছোটখাটো মানুষ হলে কি হবে, সে খুব প্রতাপশালী। মহব্বতনগরে সে হলো সবচেয়ে শক্তিমান লোক। তার স্ত্রী রহিমা বিশালদেহী, কিন্তু সে স্বামীকে খুব ভয় করে। স্বামীর প্রতি সে তার আনুগত্য অটুট রেখেছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, বিয়ের দীর্ঘ বিশ বছরেও রাসু ডাকাতের প্রথমা স্ত্রী রাশিদা যা পারেনি, দ্বিতীয় স্ত্রী বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই তা পেরেছে। সে পুলিশকে দিয়ে রাসু ডাকাতকে গ্রেফতার করায়। হতভম্ব রাসু ডাকাত প্রথমা স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তার  অসহায়ত্তের কথা জানায়, এতে করে সে বিয়ের দীর্ঘ দিন পরে এক নতুন রাসুকে আবিষ্কার করে।

✍ উদ্দীপকের রাসুর দ্বিতীয় স্ত্রীর অনুরুপ মজিদের দ্বিতীয় স্ত্রী জমিলা মজিদকে মানতে চায় না। সে ঘোমটা খুলে সকলের সামনে বেরিয়ে আসে, জিকিরের সময় তাই হয়েছে। জমিলাকে বিয়ে করে মজিদ ভুল করেছে কিনা এটিই রহিমার কাছে মজিদের জিজ্ঞাসা। মজিদকে বড় অসহায় মনে হয়। রহিমার ওপর মজিদ নির্ভরতা খুঁজে পায় যেন। খুব কোমল কন্ঠে পরমাত্মীয়ের মতো সে রহিমার কাছে তার দুঃখ প্রকাশ করে। মজিদের এ নতুন রূপ। কখনো মজিদকে সে এমন রূপে পায় নি, এমনভাবে কথা বলতে দেখেনি।  উপন্যাসের এ পর্যায়ে এসে মজিদকে একজন অসহায় মানুষ হিসেবে পাওয়া যায়।

ঘ. উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নের উত্তরঃ

✍ মানুষ ভাবে এক হয় আর এক। এ কারণে মানুষ কখনো কখনো তার কৃতকর্মের ভুল আবিষ্কার করে এবং তার জন্যে অনুতপ্ত হয়।

✍ উদ্দীপকের রাসু এবং ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদের জিজ্ঞাসা এমনি অনুতাপ বোধে গাঁথা। মজিদের ধারণা ছিল জমিলাকে বিয়ে করলে সংসারে আনন্দ ও বৈচিত্র্য বাড়বে। কিন্তু মজিদের এ ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো। অল্পবয়সী উচ্ছল স্ত্রী জমিলাকে সে একেবারেই বশ করতে পারেনি। মজিদের বয়স এ মাজারের পরিবেশের সঙ্গে জমিলা মোটেও খাপ খাওয়াতে পারেনি।

✍  উদ্দীপকে দেখা যায়, বিয়ের দীর্ঘ বিশ বছরেও রাসু ডাকাতের প্রথমা স্ত্রী রাশিদা যা পারেনি, দ্বিতীয় স্ত্রী বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই তা পেরেছে। সে পুলিশকে দিয়ে রাসু ডাকাতকে গ্রেফতার করায়। হতভস্ব রাসু ডাকাত প্রথমা স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তার সে অসহায়ত্তের কথা জানায়, এতে করে সে বিয়ের দীর্ঘ দিন পরে এক নতুন রাসুকে আবিষ্কার করে।

✍ উদ্দীপকের রাসুর দ্বিতীয় স্ত্রী অনুরূপ মজিদের দ্বিতীয় স্ত্রী জমিলা মজিদকে মানতে চায় না। সে ঘোমটা খুলে সকলের সামনে বেরিয়ে আসে, জিকিরের  সময় তাই হয়েছে। মজিদ জমিলার ব্যবহারে খুব ক্রুব্ধ হয় ও দুঃখ পায়। সে বোঝে জমিলা তার কথামতো চলবে না। এ রকম একটা মেয়েকে সে কেন বিয়ে করলো এ অনুতাপে তার মন ভেঙে যায় এবং এ কথা সে রহিমাকে বলে। রহিমা তার প্রথমা স্ত্রী। প্রথমা স্ত্রী থাকতে আরেকটা বিয়ে করাতে রহিমা তাকে বদদোয়া দিয়েছে নিশ্চয়ই তা না হলে জমিলা এমন অবাধ্য কেন? মজিদের উক্তিতে এটি বোঝা যায় জমিলার ব্যাপারে সে খুব অসহায়। উপন্যাসের এ পর্যায়ে এসে মজিদকে একজন অসহায় মানুষ হিসেবে পাওয়া যায়।

Download From Google Drive

Download

আরো পড়ুনঃ-

Download From Yandex

Download