নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় নবম অধ্যায় সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনি প্রশ্ন উত্তর

0
110

নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় নবম অধ্যায়

সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনি প্রশ্ন উত্তর

অধ্যায় – ৯: বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচন

গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন- ১ ল্ফল্ফ গণতন্ত্র ও তার দোষগুণ জেমস স্টিফেন এমন একটি দেশের নাগরিক যেখানে দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থা প্রবর্তিত। সেখানকার সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের কাছেই দায়িত্বশীল থাকে। এমনকি রাষ্ট্রীয় নীতি-নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থকেই প্রাধান্য দেয়া হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে নির্বাচিত বলে এই সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বার্থে গঠিত ও পরিচালিত হয়।

ক. পাকিস্তানে কতবার জাতীয় পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল (সময়কাল ১৯৪৭-১৯৭১ ইং)? ১

খ. ‘ইলেকটোরাল কলেজ’ বলতে কী বোঝায়? ২

গ. মি. জেমস স্টিফেন-এর রাষ্ট্রে কোন ধরনের সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তিত আছে? ব্যাখ্যা কর। ৩

ঘ. তুমি কি মনে কর উক্ত সরকারব্যবস্থা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ দ্বারা গঠিত বলে, সংখ্যালঘুদের মতামত ও স্বার্থ উপেক্ষিত হয়? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি প্রদর্শন কর। ৪

উত্তরঃ- ক পাকিস্তানে মাত্র ১ বার জাতীয় পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল (সময়কাল ১৯৪১-১৯৭১ইং)।

উত্তরঃ- খ পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতিতে ভোটারগণ ভোট দিয়ে সরাসরি প্রতিনিধি নির্বাচন করে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন সংস্থা তৈরি করে, যা ইলেকটোরাল কলেজ বা নির্বাচকমণ্ডলী নামে পরিচিত। আর সেই নির্বাচনি সংস্থা চ‚ড়ান্তভাবে প্রতিনিধি বা রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন করে। যেমন- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি ইলেকটোরাল কলেজের মাধ্যমে নির্বাচিত হন।

উত্তরঃ- গ মি. জেমস স্টিফেন-এর রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তিত আছে। প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্রে আইনের অনুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। গণতন্ত্র হলো দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থা। এ শাসনব্যবস্থায় সরকার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয় এবং জনগণের কাছে দায়িত্বশীল থাকে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা হলো জনমত দ্বারা পরিচালিত সরকার। স্বৈরাচারি পন্থায় নিয়ন্ত্রণ, দমন, নিপীড়নমূলক আচরণ ও শাসনব্যবস্থায় কাম্য নয়। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। উদ্দীপকের জেমস স্টিফেন-এর দেশেও অনুরূপ সরকারব্যবস্থার সকল বৈশিষ্ট্যাবলি লক্ষ করা যায়। অর্থাৎ সেখানে গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তিত।

উত্তরঃ- ঘ আমি মনে করি, উক্ত সরকারব্যবস্থা তথা গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনকল্যাণ দ্বারা গঠিত বলে সংখ্যালঘুদের মতামত ও স্বার্থ উপেক্ষিত হয়। বস্তুত উত্তম সরকারব্যবস্থা হলেও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা বা ত্রæটিও রয়েছে। প্রাচীনকালে প্রখ্যাত মনীষী ও দার্শনিকগণ যেমন, প্লেটো ও এরিস্টটল গণতন্ত্রকে মূর্খের ও অযোগ্যের শাসনব্যবস্থা বলে অবিহিত করেছেন। কেননা, সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন হিসেবে গণতন্ত্রে নির্বাচনের মাধ্যমে অজ্ঞ, অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রস্থ ব্যক্তিও শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পারে। ফলে উপযুক্ত লোকের অভাবে গণতন্ত্রের উদ্দেশ্য অর্জিত হয় না এবং শাসনকার্য পরিচালনায় নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। বাস্তবে গণতন্ত্র সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসনে পরিণত হয়। সংখ্যালঘুরা আইনসভায় তাদের প্রতিনিধি প্রেরণ করতে পারে না। ফলে তাদের অভাব অভিযোগ সম্পর্কে সরকার উদাসীন থাকে। এভাবে গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় সংখ্যালঘুদের মতামত ও স্বার্থ উপেক্ষিত হয়।

প্রশ্ন- ২ ল্ফল্ফ গণতন্ত্র ও তার দোষগুণ

‘ক’ রাষ্ট্রের সরকারপ্রধান জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত। তিনি তার কাজের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকেন। জনগণের কল্যাণ করাই তার মূল উদ্দেশ্য। তারপরও ‘ক’ রাষ্ট্রে সংখ্যালঘুরা উপেক্ষিত হতে পারে বলে অনেকে সমালোচনা করেন।

ক. অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোন সালে অনুষ্ঠিত হয়? ১

খ. নির্বাচনি আচরণবিধি বলতে কী বোঝায়? ২

গ. উদ্দীপকের ‘ক’ রাষ্ট্রে কোন ধরনের সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান? ব্যাখ্যা কর। ৩

ঘ. “উক্ত সরকারব্যবস্থা বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হলেও বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে”Ñ মূল্যায়ন কর। ৪

উত্তরঃ- ক অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত হয়।

উত্তরঃ- খ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সঠিক আচরণের জন্য নির্বাচন কমিশন যে আচরণবিধি প্রণয়ন করেছে তাই নির্বাচনি আচরণবিধি। নির্বাচনি আচরণবিধি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্যতম পূর্বশর্ত।

উত্তরঃ- গ উদ্দীপকে ‘ক’ রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান। গণতন্ত্র হলো দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থা। এ শাসনব্যবস্থায় সরকার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয় এবং জনগণের কাছে দায়িত্বশীল থাকে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা হলো জনমত দ্বারা পরিচালিত সরকার। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এ ব্যবস্থায় সরকার জনগণের সরকার হিসেবে বিবেচিত। সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকেন। জনগণের আস্থা হারালে এ সরকার টিকে থাকতে পারে না। তদুপরি গণতন্ত্র হচ্ছে জনকল্যাণকামী সরকার। এর মূল উদ্দেশ্যই হলো জনকল্যাণ সাধন। উদ্দীপকে দেখা যায়, ‘ক’ রাষ্ট্রের সরকারপ্রধান জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত। তিনি তার কাজের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকেন। জনগণের কল্যাণ করাই তার মূল উদ্দেশ্য। সুতরাং স্পষ্টত ‘ক’ রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান।

উত্তরঃ- ঘ উক্ত সরকারব্যবস্থা তথা গণতন্ত্র হচ্ছে মূলত সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বার্থে গঠিত ও পরিচালিত সরকার। গণতন্ত্রে আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান। সুতরাং গণতন্ত্র বিশ শতকের একটি জনপ্রিয় ধারণা, যা বর্তমানে সরকার পরিচালনার সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু অস্বীকার করার উপায় নেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা বা ত্রæটিও রয়েছে। প্রাচীনকালের প্রখ্যাত মনীষী ও দার্শনিকগণ যেমন, প্লেটো ও এরিস্টটল গণতন্ত্রকে মূর্খের ও অযোগ্যের শাসনব্যবস্থা বলে অভিহিত করেছেন। কেননা, সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন হিসেবে গণতন্ত্রে নির্বাচনের মাধ্যমে অজ্ঞ, অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রস্থ ব্যক্তিও শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পারে। ফলে উপযুক্ত লোকের অভাবে গণতন্ত্রের উদ্দেশ্য অর্জিত হয় না এবং শাসনকার্য পরিচালনায় নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। বাস্তবে গণতন্ত্র সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসনে পরিণত হয়। সংখ্যালঘুরা আইনসভায় তাদের প্রতিনিধি প্রেরণ করতে পারে না। ফলে তাদের অভাব অভিযোগ সম্পর্কে সরকার উদাসীন থাকে। গণতন্ত্রে বহু পরস্পর বিরোধী মত ও ধারণা দেখা যায়। এতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মতপার্থক্য ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয় এবং জাতীয় সংহতি বিনষ্ট হয়। এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলে জাতি দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে এবং গণতন্ত্র অকার্যকর রূপ নেয়। অনুন্নত দেশগুলোতে সরকারি দল নিজ দলের স্বার্থের প্রতি লক্ষ রেখে শাসনকার্য পরিচালনা করে থাকে। ফলে নিরপেক্ষতা নষ্ট হয়। এতে করে গণঅসন্তোষ দেখা দেয়। তদুপরি গণতন্ত্র বেশ ব্যয়বহুল শাসনব্যবস্থা। ঘন ঘন নির্বাচনের ব্যবস্থা, জনমত গঠন, ব্যাপক প্রচারকার্য ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে সরকার, রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদেরকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে স্পষ্ট যে, গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হলেও বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, উক্তিটি সর্বোতভাবে যথার্থ।

প্রশ্ন- ৩ ল্ফল্ফ নির্বাচনি আচরণ বিধি

আকমল সাহেব গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। তিনি নির্বাচনি প্রচারকার্যে অনেক অর্থ ব্যয় করেন। এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তার কর্মীরা অন্য প্রার্থীদের ব্যানার, পোস্টার নষ্ট এবং সভা-সমাবেশ পণ্ড করে। তিনি ভোটদান চলাকালে অবৈধভাবে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ এবং ব্যালট পেপার ছিনতাই করে নিজ প্রতীকে সিল মেরে ব্যালট বাক্সে ভরেন।

ক. অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন কখন অনুষ্ঠিত হয়? ১

খ. গণতন্ত্র এবং নির্বাচনের সম্পর্কের একটি দিক ব্যাখ্যা কর। ২

গ. আকমল সাহেব কর্তৃক নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রতিকার কীভাবে করা সম্ভব? ব্যাখ্যা দাও। ৩

ঘ. ‘আকমল সাহেবের কর্মকাণ্ড যোগ্য ও উপযুক্ত প্রতিনিধি নির্বাচনে প্রতিবন্ধক’- মূল্যায়ন কর। ৪

উত্তরঃ- ক অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত হয়।

উত্তরঃ- খ আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং ভোটদানের মাধ্যমেই জনগণ তার এই গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে। এ প্রক্রিয়ায় জনগণ তাদের দৃষ্টিতে সৎ ও যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন করে। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত উপযুক্ত প্রতিনিধিদের দ্বারাই সরকার গঠন ও সরকার পরিচালিত হয়। সুতরাং নির্বাচিত ব্যবস্থার সাথে বৈধ কর্তৃপক্ষ নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের সম্পর্ক রয়েছে।

গ আকমল সাহেব নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ ঘটাতে হবে এবং অপরাধের দণ্ড প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী আকমল সাহেবের নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন মূলত নির্বাচনি অপরাধ। এ জাতীয় অপরাধের জন্য জরিমানাসহ ক্ষেত্রবিশেষে সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং কমপক্ষে ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে। এ সকল নির্বাচন সংক্রান্ত অপরাধের জন্য উপযুক্ত আদালতে মামলা দায়ের করা যায়। উপরন্তু এ জাতীয় অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত আইন সম্পর্কে সচেতনতা এবং এর যথার্থ প্রয়োগ নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রতিকারে যথেষ্ঠ কার্যকর। আর এভাবেই আকমল সাহেব কর্তৃক নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রতিকার করা সম্ভব।

উত্তরঃ- ঘ আকমল সাহেবের কর্মকাণ্ড যোগ্য ও উপযুক্ত প্রতিনিধি নির্বাচনে প্রতিবন্ধক। কেননা, গণতন্ত্রের একটি মৌলিক বিষয় হলো নির্বাচন। নির্বাচন ছাড়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চিন্তা করা যায় না। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে শাসন পরিচালনার জন্য নির্বাচনের বিকল্প নেই। রাষ্ট্র ও সরকারের বিভিন্ন স্তরে জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং ভোটদানের মাধ্যমেই জনগণ তার এই গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে। এ প্রক্রিয়ায় জনগণ তাদের দৃষ্টিতে সৎ ও যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন করে। কিন্তু এজন্য চাই জনগণের অবাধ ভোটাধিকার। এক্ষেত্রে সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার লক্ষ্যে প্রত্যেক দেশেই নির্বাচন কমিশন কিছু আচরণবিধি প্রণয়ন করে। যেমন : প্রতিপক্ষের কোনো সভা, শোভাযাত্রা ও প্রচারে কোনোরূপ বাধা দেওয়া যাবে না। অথচ উদ্দীপকের আকমল সাহেব এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তার কর্মীরা অন্য প্রার্থীদের ব্যানার, পোস্টার নষ্ট এবং সভা-সমাবেশ পণ্ড করে। উপরন্তু তার আচরণ গুরুতর নির্বাচনি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। তিনি ভোটদান চলাকালে অবৈধভাবে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ এবং ব্যালট পেপার ছিনতাই করে নিজ প্রতীকে সিল মেরে ব্যালট বাক্সে ভরেন। সুতরাং নিঃসন্দেহে বলা যায়, আকমল সাহেবের কর্মকাণ্ড যোগ্য ও উপযুক্ত প্রতিনিধি নির্বাচনে প্রতিবন্ধক।

প্রশ্ন- ৪ ল্ফল্ফ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের ভ‚মিকা

ক. অবিভক্ত পাকিস্তানের প্রথম জাতীয় পরিষদের নির্বাচন হয় কত সালে? ১

খ. জাতিসংঘের বিতর্কসভা বলতে কী বোঝায়? ২

গ. ‘ক’ চিহ্নিত ছকটি যে সরকার ব্যবস্থাকে নির্দেশ করছে তা ব্যাখ্যা কর। ৩

ঘ. তুমি কি মনে কর, উক্ত সরকার ব্যবস্থায় ‘খ’ চিহ্নিত প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও। ৪

উত্তরঃ-ক অবিভক্ত পাকিস্তানের প্রথম জাতীয় পরিষদের নির্বাচন হয় ১৯৭০ সালে।

উত্তরঃ-খ জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে সাধারণ পরিষদ গঠিত। একে ‘বিতর্ক সভা’ বলে অভিহিত করা যায়। অর্থাৎ জাতিসংঘের বিতর্কসভা বলতে সাধারণ পরিষদকে বোঝায়।

উত্তরঃ-গ ‘ক’ চিহ্নিত ছকটি গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থাকে নির্দেশ করছে। গণতন্ত্র হলো এমন এক রাজনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে সরকার গঠিত হয়। এই গণতান্ত্রিক সরকার মূলত সংখ্যাগরিষ্ঠ্যের স্বার্থে গঠিত ও পরিচালিত সরকার। তবে এর অর্থ এই নয় যে, গণতন্ত্র সংখ্যালঘুর মতামত ও স্বার্থকে উপেক্ষা করবে। বরং গণতন্ত্রে আইনের দৃষ্টিতে সকলে সমান। এখানে আইনের অনুশাসন বিদ্যমান। উপরন্তু গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এই ব্যবস্থায় জনগণের ব্যক্তিস্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা স্বীকৃত। এর মূল উদ্দেশ্য হলো- জনকল্যাণ সাধন। উদ্দীপকে সরকারব্যবস্থার ছকে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যের নিরিখে তাই নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, ‘ক’ চিহ্নিত ছকটি গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা নির্দেশ করছে।

উত্তরঃ-ঘ হ্যাঁ, আমি মনে করি গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য ‘খ’ চিহ্নিত প্রতিষ্ঠানটি হচ্ছে রাজনৈতিক দল। কেননা রাজনৈতিক দল সংগঠিত একটি দলকে বোঝায় যারা ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে বৈধভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করতে এবং কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চায়। সংগঠিত কর্মসূচি প্রদান ও ক্ষমতা অর্জন রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য। গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। শক্তিশালী ও সুসংগঠিত রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সাফল্যের প্রধান শর্ত। রাজনৈতিক দলের অন্যতম কাজ হচ্ছে নির্বাচনে জয়লাভের পর সরকার গঠন করা। সাধারণত নির্বাচনে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে তারাই সরকার গঠন করে থাকে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বিরোধী দলের ভ‚মিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে যে সকল দল বা দলসমূহ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে না তারাই বিরোধী দলের ভ‚মিকা পালন করে। বিরোধী দল পার্লামেন্টে বিতর্ক, সরকারের নীতির সমালোচনা, মূলতবী প্রস্তাব উপস্থাপন এবং বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করে সংসদকে কার্যকর করে। সংসদের বাইরেও বক্তব্য, বিবৃতি ও সমালোচনার মাধ্যমে সরকারকে আইনের মধ্যে রাখতে বাধ্য করে। এছাড়া বিরোধী দল জনগণের সামনে সরকারের পাশাপাশি বিকল্প কর্মসূচি তুলে ধরে। তাই গঠনমূলক সমালোচনা এবং কার্যকর ভ‚মিকা রাখা বিরোধীদলের অন্যতম দায়িত্ব। সুতরাং, গণতান্ত্রিক সরকারব্যস্থায় রাজনৈতিক দলের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য তা সন্দেহতীত ভাবেই প্রমাণিত হয়।

প্রশ্ন- ৫  রাজনৈতিক দলের ভূমিকা

মি. কামাল ও তাঁর কয়েকজন অনুসারী প্রতিদিন সন্ধ্যায় একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বসে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি উপলব্ধি করলেন যে, এভাবে উদ্দশ্যহীনভাবে আলাপ-আলোচনা না করে কতকগুলো সুনির্দিষ্ট সমস্যা চিহ্নিত করে ঐক্যবদ্ধভাবে বৈধ ও নিয়মমাফিক নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের শাসনভার গ্রহণ করার উদ্দেশ্যে কাজ করতে হবে।

ক. আব্রাহাম লিংকন প্রদত্ত গণতন্ত্রের সংজ্ঞাটি লেখ। ১

খ. পরোক্ষ গণতন্ত্র বলতে কী বোঝায়? ২

গ. উদ্দীপকে মি. কামাল কী ধরনের সংগঠন প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন? ব্যাখ্যা কর। ৩

ঘ. “গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় উক্ত সংগঠনের বিকল্প নেই”Ñ উক্তিটি বিশ্লেষণ কর। ৪

উত্তরঃ-ক আব্রাহাম লিংকন প্রদত্ত গণতন্ত্রের সংজ্ঞা : গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের, জনগণের জন্য ও জনগণ দ্বারা নির্বাচিত সরকার ব্যবস্থা।

উত্তরঃ-খ পরোক্ষ গণতন্ত্র বলতে সাধারণত নাগরিকগণ সরাসরি অংশগ্রহণ না করে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে শাসন কার্য পরিচালনা করার পদ্ধতিকেই বোঝায়। পরোক্ষ গণতন্ত্রে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই আইন প্রণয়নসহ শাসনকার্য পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রই প্রচলিত রয়েছে।

উত্তরঃ-গ উদ্দীপকে মি. কামাল রাজনৈতিকদল প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক দল ব্যতীত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কথা কল্পনা করা যায় না। রাজনৈতিক দলকে কেন্দ্র করেই জনমত গঠন, দলীয় আদর্শের প্রচার, সমর্থকগোষ্ঠী এবং রাজনৈতিক সচেতন নাগরিক সমাজ গড়ে উঠে। রাজনৈতিক দল সাধারণত একক কিংবা একদল বিশিষ্ট বা সৃজনশীল নেতৃত্বের সমন্বয়ে গড়ে উঠে। সুতরাং এ দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, রাজনৈতিক নেতৃবর্গের মাধ্যমে নাগরিক সমস্যাকে চিহ্নিত করে, সেই সমস্যাগুলো সমাধানের সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থায় জনমত গঠন এবং বৈধ উপায়ে সরকার গঠনের উদ্দেশ্যে নিয়োজিত সংঘবদ্ধ একটি জনসমষ্টি হলো রাজনৈতিক দল। জাতীয় স্বার্থের সংরক্ষণ এবং উন্নতির পাশাপাশি সাংগঠনিক দৃঢ়তা এবং দলীয় সদস্যদের স্বার্থ সংরক্ষণে রাজনৈতিক দল তৎপরতা প্রদর্শন করে। রাজনৈতিক দল এমন একটি জনসংগঠন যার সদস্যগণ রাষ্ট্রের সমস্যা সম্পর্কে ঐক্যমত পোষণ করে এবং নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে গৃহীত কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে সচেষ্ট হয়। উদ্দীপকে কামাল সাহেবের ইচ্ছায় এর প্রতিফলন দেখা যায়। সুতরাং মি. কামাল রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

উত্তরঃ-ঘ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক দলের বিকল্প নেই। কেননা রাজনৈতিক দল ব্যতীত গণতন্ত্র আশা করা যায় না।শক্তিশালী ও সুসংগঠিত রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাফল্যের প্রধান শর্ত। অধ্যাপক ফাইনার (ঋরহবৎ) বলেছেন, “আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন কার্যত রাজনৈতিক দলের শাসন”। একটি রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক, একনায়কতান্ত্রিক বা সমাজতান্ত্রিক যে ধরনের সরকার ব্যবস্থাই বিদ্যমান থাকুক না কেন, সব ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব স্বীকৃত। তবে নিঃসন্দেহে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব সর্বাধিক।রাজনৈতিক দলের সদস্যরা তাদের নিজ নিজ এলাকায় জনগণের মাঝে মিশে থাকে এবং সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তসমূহ মানুষের কাছে তুলে ধর। আবার, জনগণ তাদের মতামত, অভিযোগ সরকারের নিকট উত্থাপন করে এবং সরকারের করণীয় দাবি করে। দল সরকার ও জনগণ উভয়ের মধ্যে যোগাযোগ বা সেতুবন্ধন রচনা করে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলের ভ‚মিকা অপরিহার্য। জনগণের অভাব, অভিযোগ, দুঃখ-দুর্দশাকে চিহ্নিত করে তার সার্বিক কল্যাণের লক্ষ্যে কর্মসূচি প্রণয়ন করে। এছাড়া সংসদীয় ব্যবস্থায় বিরোধী দল হলো বিকল্প সরকার। কেননা, সরকার সমর্থন হারালে বা কোনো কারণে পতন হলে বিরোধী দলের ক্ষমতা লাভ ও সরকার গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হয়। সুতরাং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক দল একান্ত প্রয়োজন।

প্রশ্ন- ৬ ল্ফল্ফ রাজনৈতিক দলের ভ‚মিকা

ইমু ও সাজ্জাদ একটি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত সংগঠনের সদস্য। তাদের সংগঠনটি কতগুলো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত একটি বিশেষ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছে। বৈধ ও নিয়মমাফিক নির্বাচনের মাধ্যমে তারা রাষ্ট্রের শাসনভার গ্রহণ করে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

ক. প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র কাকে বলে? ১

খ. নির্বাচন কমিশন কী ব্যাখ্যা কর। ২

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সংগঠনটি কী ধরনের সংগঠন? ব্যাখ্যা কর। ৩

ঘ. গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় এ ধরনের সংগঠনের ভ‚মিকা অনেক- কথাটি বিশ্লেষণ কর। ৪

উত্তরঃ-ক যে শাসন ব্যবস্থায় নাগরিকগণ প্রত্যক্ষ বা সরাসরিভাবে শাসনকার্য পরিচালনায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায় তাকে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র বলে।

উত্তরঃ-খ প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কয়েকজন নির্বাচন কমিশনার নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগ করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কমিশনের সভাপতি হিসেবে কাজ করেন। কমিশনের মেয়াদ পাঁচ বছর।

উত্তরঃ-গ উদ্দীপকে উল্লিখিত সংগঠনটি হলো রাজনৈতিক দল। রাজনৈতিক দল হলো একটি সংগঠিত নাগরিক সমষ্টি, যারা দলীয় আদর্শ প্রচারের মাধ্যমে, জনমত গঠনের মধ্যদিয়ে বৈধ উপায়ে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে। সংগঠন, কর্মসূচি প্রদান ও ক্ষমতা অর্জন রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য। রাজনৈতিক দল সাধারণত একক কিংবা একদল বিশিষ্ট সৃজনশীল নেতৃত্বের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। সুতরাং সে দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, রাজনৈতিক নেতৃবর্গের মাধ্যমে নাগরিক সমস্যাকে চি‎ি‎হ্নত করে, সেই সমস্যাগুলো সমাধানে সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা ও নীতিমালা জনসাধারণের নিকট পেশ করে জনমত গঠন এবং বৈধ উপায়ে সরকার গঠনের উদ্দেশ্যে নিয়োজিত সংঘবদ্ধ একটি জনসমষ্টি হলো রাজনৈতিক দল। উদ্দীপকে উল্লিখিত ইমু ও সাজ্জাদ একটি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত সংগঠনের সদস্য। তাদের সংগঠনটি কতকগুলো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত। একটি বিশেষ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে তারা কাজ করছে। বৈধ ও নিয়মমাফিক নির্বাচনের মাধ্যমে তারা রাষ্ট্রের শাসনভার গ্রহণ করে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায় যা রাজনৈতিক দলের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

উত্তরঃ-ঘ উদ্দীপকে বর্ণিত সংগঠনটি হলো রাজনৈতিক দল। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় এ ধরনের সংগঠনের অর্থাৎ রাজনৈতিক দলের ভ‚মিকা অনেক। এ সম্পর্কিত বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো :

১. দলীয় নীতিমালা নির্ধারণ ও কর্মসূচি গ্রহণ : দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক বিভিন্ন সমস্যা চি‎িহ্নত করে তার আলোকে প্রতিটি রাজনৈতিক দল দলীয় নীতিমালা ও সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি গ্রহণ করে। এই নীতিমালা ও কর্মসূচি সাধারণত রাজনৈতিক দলের মেনিফেস্টোতে উল্লেখ থাকে।

২. জনসমর্থন সৃষ্টি : রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন সভা-সমিতি, টকশো এবং পত্র-পত্রিকায় মতামত ব্যক্ত করার মাধ্যমে তাদের নীতি ও কর্মসূচি প্রচার করে এবং জনসমর্থন সৃষ্টি করে।

৩. দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন ও নির্বাচনি প্রচার : দেশের জাতীয় নির্বাচনে দলের প্রার্থী মনোনয়ন এবং তার পক্ষে দলীয় প্রচারকার্য চালানো রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

৪. সরকার গঠন : রাজনৈতিক দল নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে থাকে।

এছাড়াও রাজনৈতিক দলগুলো রাজনৈতিক চেতনা ও শিক্ষার প্রসার, বিরোধী দলের ভ‚মিকা পালন, ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন, আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালনা করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুসংহত করতে ব্যাপক ভ‚মিকা পালন করে।

 অতিরিক্ত সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন- ৭  গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা

এক দশক যাবত ‘ক’ দেশে জনমতকে উপেক্ষা করে সরকারি দল অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে আছে। দেশটির গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে বিরোধী দলীয় নেতা সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি দলের পতনের মাধ্যমে এ দেশে এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে যেখানে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের ভোটাধিকার থাকবে, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা শাসনকার্য পরিচালনা করবে এবং মেয়াদ শেষে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ক. নির্বাচন কী? ১

খ. সরকার গঠন রাজনৈতিক দলের অন্যতম কাজ- কথাটি বুঝিয়ে লেখ। ২

গ. বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্যে যে শাসনব্যবস্থার প্রতিফলন ঘটেছে তার ব্যাখ্যা দাও। ৩

ঘ. উক্ত শাসনব্যবস্থা কার্যকরের রয়েছে দুটি পদ্ধতি- তুমি কি বক্তব্যটি সমর্থন কর? উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও। ৪

উত্তরঃ-ক প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় তাকে নির্বাচন বলে।

উত্তরঃ-খ একটি রাজনৈতিক দলের অন্যতম কাজ হচ্ছে নির্বাচনে জয়লাভের পর সরকার গঠন করা। সাধারণত নির্বাচনে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে তারাই সরকার গঠন করে থাকে। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে রাজনৈতিক দল তার দলীয় নীতিমালা ও কর্মসূচি ভিত্তিতে শাসনকার্য পরিচালনা করে থাকে।

উত্তরঃ-গ বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্যে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রতিফলন ঘটেছে। বিরোধী দলীয় নেতা সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি দলের পতনের মাধ্যমে ‘ক’ দেশে এমন এক ধরনের সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে যেখানে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের ভোটাধিকার থাকবে, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা শাসনকার্য পরিচালনা করবে এবং মেয়াদ শেষে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিরোধী দলীয় নেতার এসব কথা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে নির্দেশ করে। বর্তমান বিশ্বের সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য সরকারব্যবস্থা হলো গণতন্ত্র। সাধারণভাবে গণতন্ত্র বলতে বোঝায়, যে শাসনব্যবস্থায় শাসন ক্ষমতা মুষ্টিমেয় লোকের হাতে না থেকে রাষ্ট্রের সব জনসাধারণের ওপর ন্যস্ত থাকে এবং জনগণই তাদের সরকার গঠন করে। গণতন্ত্র হলো এমন এক রাজনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে মেয়াদ শেষে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা ও প্রাপ্ত বয়স্কদের সার্বজনীন ভোটাধিকার, একাধিক রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জনগণের মাধ্যমে তাদের স্বাধীনতা সংরক্ষণ ও কল্যাণ বৃদ্ধির ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থাও একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা।

উত্তরঃ-ঘ উক্ত শাসনব্যবস্থা হলো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কার্যকরের রয়েছে দুটি পদ্ধতি- বক্তব্যটি আমি সমর্থন করি। গণতন্ত্র সাধারণত দুটি পদ্ধতিতে কার্যকর করা হয়। যথা : ১. প্রত্যক্ষ বা বিশুদ্ধ গণতন্ত্র এবং ২. পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।

প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র : যে শাসনব্যবস্থায় নাগরিকগণ প্রত্যক্ষ বা সরাসরিভাবে শাসনকাজ পরিচালনায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায় তাকে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র বলা হয়ে থাকে। প্রাচীন গ্রিসের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নগর রাষ্ট্রগুলোতে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র প্রচলিত ছিল। রাষ্ট্রের সকল নাগরিকগণ আইন প্রণয়ন, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে মতামত, কর ধার্য, বিচারকাজ পরিচালনাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সরাসরি অংশগ্রহণ করত। কিন্তু আধুনিক রাষ্ট্র আয়তনে বিশাল। এর জনসংখ্যাও বেশি, তাই প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র চর্চা করার উপায় নেই। তবে সুইজারল্যান্ডের কয়েকটি অঞ্চলে আংশিকভাবে এখনো প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র ব্যবস্থা চালু আছে।

পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র : পরোক্ষ গণতন্ত্র বলতে সাধারণত নাগরিকগণ সরাসরি অংশগ্রহণ না করে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করার পদ্ধতিকে বোঝায়। পরোক্ষ গণতন্ত্রে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই আইন প্রণয়নসহ শাসনকার্য পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রই প্রচলিত রয়েছে।

প্রশ্ন- ৮ ল্ফল্ফ বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও সংসদ নির্বাচন প্রত্রিয়া

স্বাধীনতা লাভের পর ‘ক’ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৭৫ সালের আগস্ট মাসে তা বাধাগ্রস্ত হয়। ’৭৫ পরবর্তী ১৫ বছর দেশটি সেনা শাসনের অধীনে ছিল। এ সময় জনগণের কোনো ভোটাধিকার ছিল না। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো ঠিকই, তবে তা ছিল সিট ভাগাভাগির আয়োজন মাত্র। তবে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশটিতে পুনরায় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়।

ক. কে বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগদান করেন? ১

খ. নির্বাচন ব্যবস্থার সাথে গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের সম্পর্ক রয়েছে- ব্যাখ্যা কর। ২

গ. উদ্দীপকে কোন দেশের গণতন্ত্রের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ৩

ঘ. উক্ত দেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া আলোচনা কর। ৪

উত্তরঃ-ক রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগদান করেন।

উত্তরঃ-খ আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং ভোটদানের মাধ্যমেই জনগণ তার এই গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে। এ প্রক্রিয়ায় জনগণ তাদের দৃষ্টিতে সৎ ও যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন করে। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত উপযুক্ত প্রতিনিধিদের দ্বারাই সরকার গঠন ও সরকার পরিচালিত হয়।

উত্তরঃ-গ উদ্দীপকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের কথা বলা হয়েছে। স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একদল বিপথগামী সেনা সদস্যদের হাতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে গণতন্ত্রের চর্চা বাধাপ্রাপ্ত হয়। এরপর ১৫ বছর বাংলাদেশে সেনা শাসন চলে। এ সময় জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়। বিভিন্ন দল ভেঙে বা নেতাদের ভাগিয়ে এনে সেনা সমর্থক দল গঠন করা হয়। নির্বাচনের নামে ক্ষমতাসীন কর্তৃক সিট ভাগাভাগি করা হয়। তবে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহাম্মদের নেতৃত্বে তত্ত¡াবধায়ক সরকার গঠন ও ২৭ ফেব্রæয়ারি, ১৯৯১ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়ের সূচনা করে। উদ্দীপকেও দেখা যায়, ‘ক’ দেশে স্বাধীনতা লাভের পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৭৫ সালের আগস্ট মাসে তা বাধাগ্রস্ত হয়। ’৭৫ পরবর্তী ১৫ বছর দেশটি সেনা শাসনের অধীনে ছিল। এ সময় জনগণের কোনো ভোটাধিকার ছিল না। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও তা ছিল মূলত সিট ভাগাভাগির আয়োজন। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশটিতে পুনরায় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়।

উত্তরঃ-ঘ উক্ত দেশ হলো বাংলাদেশ। বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি চালু রয়েছে। সংসদ নির্বাচনের সুবিধার জন্য সমগ্র বাংলাদেশকে ৩০০টি নির্বাচনি এলাকায় বিভক্ত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন এবং একই সাথে “নির্বাচনি তফসিল” ঘোষণা করেন। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে প্রার্থীরা প্রাথমিকভাবে মনোনীত হন। প্রধানত রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন নিয়েই প্রার্থীরা নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতার সুযোগ পান। এছাড়াও মহিলাদের জন্য জাতীয় সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত আসন রয়েছে যা নির্বাচিত আসনের আনুপাতিক হারে নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পরই নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয় অর্থাৎ নির্বাচন অনুষ্ঠান সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু হয়। এই কাজের তালিকার মধ্যে আছেÑ ভোটার তালিকা প্রণয়ন, নির্বাচনি এলাকা নির্ধারণ, রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ, মনোনয়নপত্র বিতরণ, মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাছাই। প্রার্থীদের প্রতীক বণ্টন, ব্যালট পেপার ছাপানো, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ ও ব্যবস্থাপনা করা, প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগ করা, ব্যালট বাক্স বিতরণ করা, ভোট গ্রহণ, ভোট শেষে ভোট গণনা এবং ফলাফল ঘোষণা অর্থাৎ নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ নির্বাচন প্রক্রিয়ার অংশ। নির্বাচন কমিশনের তত্ত¡াবধানে এবং নিয়ন্ত্রণে এসব কাজ সম্পাদিত হয়।

প্রশ্ন- ৯ ল্ফল্ফ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এবং এর ত্রæটি ও সীমাবদ্ধতা

মীম টিভিতে একটি দেশের প্রামাণ্য চিত্র দেখছিল। দেশটি প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। দেশটিতে একসময় একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল। বর্তমানে দেশটির নাগরিকগণ কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দেশের শাসনকার্য পরিচালনা করছেন। জনগণের ব্যক্তি স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা স্বীকৃত হয়েছে। তবে দেশটির জনগণ যে আশায় এই সরকারব্যবস্থা চালু করেছিল, তা পরিপূর্ণভাবে সফলতা অর্জন করতে পারেনি।

উত্তরঃ-ক. কত সালে অবিভক্ত পাকিস্তান রাষ্ট্রে প্রথম জাতীয় পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়? ১

খ. নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নির্বাচকমণ্ডলীর ভ‚মিকা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা কর। ২

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত দেশটিতে বিদ্যমান শাসনব্যবস্থার সুন্দর দিকগুলো বর্ণনা কর। ৩

ঘ. তুমি কি মনে কর উদ্দীপকে বর্ণিত দেশটিতে প্রতিষ্ঠিত শাসনব্যবস্থার বেশকিছু ত্রæটি ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে? উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও। ৪

উত্তরঃ-ক ১৯৭০ সালে অবিভক্ত পাকিস্তান রাষ্ট্রে প্রথম জাতীয় পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

উত্তরঃ-খ নির্বাচকমণ্ডলী ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। ভোটদান ক্ষমতার অধিকারী নির্বাচকমণ্ডলী যোগ্য ও উপযুক্ত প্রতিনিধি নির্বাচন করার মাধ্যমে সরকার গঠন করে এবং জনমত গঠন করে। তাই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নির্বাচকমণ্ডলীর ভ‚মিকা গুরুত্বপূর্ণ।

উত্তরঃ-গ উদ্দীপকে বর্ণিত দেশটিতে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বিদ্যমান। তার কারণ দেশটিতে জনগণের ব্যক্তিস্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা স্বীকৃত হয়েছে এবং দেশটির নাগরিকগণ কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দেশের শাসনকার্য পরিচালনা করছেন যা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার সুন্দর দিকগুলো বর্ণনা করা হলো :

গণতন্ত্রে আইনের অনুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। গণতন্ত্র হলো দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থা। এ শাসনব্যবস্থায় সরকার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয় এবং জনগণের কাছে দায়িত্বশীল থাকে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এই ব্যবস্থায় জনগণের ব্যক্তিস্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা স্বীকৃত। এর ফলে তাদের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনা সৃষ্টি হয়। এ ব্যবস্থায় সরকার জনগণের সরকার হিসেবে বিবেচিত। জনগণের আস্থা হারালে এ সরকার টিকে থাকতে পারে না। এ ব্যবস্থায় ব্যক্তি তার আত্মবিকাশের সর্বাধিক সুবিধা ভোগ করে। তদুপরি গণতন্ত্র হচ্ছে কল্যাণকামী সরকার। এর মূল উদ্দেশ্যেই হলো জনকল্যাণ সাধন করা।

উত্তরঃ-ঘ উদ্দীপকে বর্ণিত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বলা যায়, দেশটিতে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বিদ্যমান। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বেশকিছু ত্রæটি ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে আমি মনে করি।

সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন হিসেবে গণতন্ত্রে নির্বাচনের মাধ্যমে অজ্ঞ, অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিও শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। ফলে উপযুক্ত লোকের অভাবে গণতন্ত্রের উদ্দেশ্য অর্জিত হয় না এবং শাসনকার্য পরিচালনায় নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। বাস্তবে গণতন্ত্র সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসনে পরিণত হয়। সংখ্যালঘুরা আইনসভায় তাদের প্রতিনিধি প্রেরণ করতে পারে না। ফলে তাদের অভাব অভিযোগ সম্পর্কে সরকার উদাসীন থাকে। গণতন্ত্রে বহু পরস্পরবিরোধী মত ও ধারণা দেখা যায়। এতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মতপার্থক্য ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয় এবং জাতীয় সংহতি বিনষ্ট হয়। এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলে জাতি দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে এবং গণতন্ত্র অকার্যকর রূপ নেয়। অনুন্নত দেশগুলোতে সরকারি দল নিজ দলের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে শাসনকার্য পরিচালনা করে থাকে। ফলে নিরপেক্ষতা নষ্ট হয়। এতে করে গণঅসন্তোষ দেখা দেয়। এছাড়া গণতন্ত্র বেশ ব্যবহুল শাসনব্যবস্থা। ঘন ঘন নির্বাচনের ব্যবস্থা, জনমত গঠন, ব্যাপক প্রচারকার্য ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে সরকার, রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়।

প্রশ্ন- ১০ ল্ফল্ফ রাজনৈতিক দল ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র

মি. খান এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট প্রদান করেন। তাদের এলাকা থেকে বিভিন্ন দলের ‘ঢ’ দলটি সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এভাবে সমগ্র দেশ থেকে ৩০০ জন প্রার্থী নির্বাচিত হন। তাদের মধ্য থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল সরকার গঠন করে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে শাসনকার্য পরিচালনা করেন।

ক. গণতন্ত্র সাধারণত কয়টি পদ্ধতিতে কার্যকর হয়? ১

খ. প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র বলতে কী বোঝ? ২

গ. ‘ঢ’ দল বলতে কীরূপ দল বোঝানো হয়েছেÑ ব্যাখ্যা কর। ৩

ঘ. প্রাচীন গ্রিসের গণতন্ত্র ছিল মি. খানের দেশের গণতন্ত্রের চেয়ে ভিন্নÑ বক্তব্যটি মূল্যায়ন কর। ৪

উত্তরঃ-ক গণতন্ত্র সাধারণত দুইটি পদ্ধতিতে কার্যকর হয়।

উত্তরঃ-খ যে শাসনব্যবস্থায় নাগরিকগণ প্রত্যক্ষ বা সরাসরিভাবে শাসনকার্য পরিচালনায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায় তাকে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র বলা হয়ে থাকে। প্রাচীন গ্রিসের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নগর রাষ্ট্রগুলোতে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র প্রচলিত ছিল। রাষ্ট্রের সকল নাগরিক আইন প্রণয়ন, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কর ধার্য, বিচারকার্য পরিচালনাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সরাসরি অংশগ্রহণ করত। সুইজারল্যান্ডের কয়েকটি অঞ্চলে আংশিকভাবে এখনও প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের ব্যবস্থা চালু আছে।

উত্তরঃ-গ ‘ঢ’ দল বলতে রাজনৈতিক দলকে বোঝানো হয়েছে। উদ্দীপকে বর্ণিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ঢ’ দল মি. খানের এলাকা থেকে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন যা রাজনৈতিক দলকে নির্দেশ করে। আধুনিক রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। রাজনৈতিক দল বলতে একটি সংগঠিত নাগরিক সমষ্টিকে বোঝায় যারা দলীয় আদর্শ প্রচারের মাধ্যমে জনমত গঠনের মধ্য দিয়ে বৈধ উপায়ে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে। রাজনৈতিক নেতৃবর্গের মাধ্যমে নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে সুনির্দিষ্ট পন্থা ও নীতিমালা জনগণের নিকট পেশ করে জনমত গঠন এবং বৈধ উপায়ে সরকার গঠনের উদ্দেশ্যে নিয়োজিত ও সংঘবদ্ধ একটি জনসমষ্টি হলো রাজনৈতিক দল। জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ ও উন্নতির পাশাপাশি সাংগঠনিক দৃঢ়তা এবং দলীয় সদস্যদের স্বার্থ সংরক্ষণে রাজনৈতিক দল তৎপরতা প্রদর্শন করে।

উত্তরঃ-ঘ প্রাচীন গ্রিসের গণতন্ত্র ছিল মি. খানের দেশের গণতন্ত্রের চেয়ে ভিন্ন। যে শাসনব্যবস্থায় নাগরিকগণ প্রত্যক্ষ বা সরাসরিভাবে শাসন কাজ পরিচালনায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায় তাকে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র বলা হয়। প্রাচীন গ্রিসের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নগর রাষ্ট্রগুলোতে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র প্রচলিত ছিল। রাষ্ট্রের সকল নাগরিক আইন প্রণয়ন, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কর ধার্য, বিচার কাজ পরিচালনাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সরাসরি অংশগ্রহণ করত। তবে সে সময় নাগরিকের ধারণা সীমাবদ্ধ ছিল, রাষ্ট্রের সকলেই নাগরিকত্বের সম্মান পেত না। তবে আধুনিক রাষ্ট্র আয়তনে বিশাল। এর জনসংখ্যাও বেশি। তাই সরাসরি রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণ করার উপায় এখন নেই। বর্তমানে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে নেতা নির্বাচিত হয়। প্রত্যেক ব্যক্তি ভোট প্রদান করে প্রার্থী নির্বাচন করেন। জনগণের পছন্দেই সরকার নির্বাচিত করা হয়। এ ব্যবস্থায় জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটে। যেমনটি উদ্দীপকে বর্ণিত মি. খানের দেশে দেখা যায়। উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, প্রাচীন গ্রিসের গণতন্ত্র ছিল মি. খানের দেশের গণতন্ত্রের চেয়ে ভিন্ন বক্তব্যটি সঠিক।

প্রশ্ন- ১১ ল্ফল্ফ নির্বাচন কমিশন ও গণতন্ত্র

ঘটনা-১ : আশরাফ সাহেব দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। নির্বাচন প্রক্রিয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল কাজে তার গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা ছিল।

ঘটনা-২ : নাহিদের বসবাসরত দেশের জনগণ সরাসরি ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে। এসব প্রতিনিধিরাই সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনা করে।

ক. গণতন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য কী? ১

খ. প্রত্যক্ষ নির্বাচন বলতে কী বোঝ? ২

গ. আশরাফ সাহেব যে প্রতিষ্ঠানের সদস্য তার গঠন ব্যাখ্যা কর। ৩

ঘ. নাহিদের দেশে বিদ্যমান সরকার ব্যবস্থার সাথে নির্বাচনের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ- মতামত দাও। ৪

উত্তরঃ-ক গণতন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণের কল্যাণ সাধন।

উত্তরঃ-খ প্রত্যক্ষ নির্বাচন হচ্ছে সেই ব্যবস্থা যেখানে ভোটারগণ সরাসরি ভোট প্রদান করে প্রতিনিধি বাছাই করতে পারে। এখানে মধ্যবর্তী কোনো নির্বাচক সংস্থা থাকে না। প্রত্যক্ষ নির্বাচন খুবই জনপ্রিয় এবং গণতান্ত্রিক।

গ আশরাফ সাহেব নির্বাচন কমিশনের সদস্য। আশরাফ সাহেব দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়া নির্বাচন প্রক্রিয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল কাজে তার গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা ছিল যা নির্বাচন কমিশনের কাজের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। নির্বাচন কমিশনের গঠন নিচে ব্যাখ্যা করা হলো : প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কয়েকজন নির্বাচন কমিশনার নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগ দান করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কমিশনের সভাপতি হিসেবে কাজ করেন। কমিশনের মেয়াদ পাঁচ বছর। কমিশনাররা রাষ্ট্রপতির কাছে স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র পেশ করতে পারেন। অসদাচরণ ও অসামর্থ্যরে কারণে কমিশনাররা দায়িত্ব থেকে অপসারিত হতে পারেন।

উত্তরঃ-ঘ নাহিদের বসবাসরত দেশের জনগণ সরাসরি ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে। এসব প্রতিনিধিরাই সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনা করে। এ থেকে বোঝা যায়, নাহিদের দেশে বিদ্যমান সরকারব্যবস্থা হলো গণতন্ত্র। গণতন্ত্রের একটি মৌলিক বিষয় হলো নির্বাচন। নির্বাচন ছাড়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চিন্তা করা যায় না। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে শাসন পরিচালনার জন্য নির্বাচনের বিকল্প নেই। রাষ্ট্র ও সরকারের বিভিন্ন স্তরে জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত উপযুক্ত প্রতিনিধিদের দ্বারাই সরকার গঠন ও সরকার পরিচালিত হয়। সুতরাং নির্বাচন ব্যবস্থার সাথে বৈধ কর্তৃপক্ষ নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের সম্পর্ক রয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই জনগণ চাইলে পূর্ববর্তী সরকার এবং দলকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে। যে সরকার বা দল জনগণের স্বার্থ বা জনমতের বিরোধিতা করে তার বা তাদের প্রতি জনগণের আস্থা থাকে না। নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণ তাদের জবাব প্রদান করে। গণতন্ত্র জনগণের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দেয়। জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রয়োগ ঘটে নির্বাচনের মাধ্যমে।সুতরাং বলা যায়, গণতন্ত্রের সাথে নির্বাচনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

প্রশ্ন- ১২ ল্ফল্ফ নির্বাচনি আচরণবিধি ও অপরাধ

কিছুদিন পর উলাইল ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মকবুল সাহেব উক্ত নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। এজন্য তিনি তার নির্বাচনি এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেছেন। এলাকার মানুষের সাথে এই বিষয়ে তিনি অনেক সভা-সমাবেশে মিলিত হচ্ছেন। তার ইচ্ছা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে এলাকার মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করা।

ক. নির্বাচনের সুবিধার জন্য সমগ্র বাংলাদেশকে কতটি নির্বাচনি এলাকায় বিভক্ত করা হয়েছে? ১

খ. পরোক্ষ গণতন্ত্র বলতে কী বোঝ? ২

গ. মকবুল সাহেবকে উদ্দীপকে উল্লিখিত কাজের জন্য যে নিয়মগুলো মানতে হবে তার ব্যাখ্যা দাও। ৩

ঘ. তুমি কি মনে কর মকবুল সাহেব উক্ত নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কিছু নিয়ম লঙ্ঘন করলে রাষ্ট্রীয় আইনে দণ্ডিত হবেন? উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও। ৪

উত্তরঃ-ক নির্বাচনের সুবিধার জন্য সমগ্র বাংলাদেশকে ৩০০টি নির্বাচনি এলাকায় বিভক্ত করা হয়েছে।

উত্তরঃ-খ পরোক্ষ গণতন্ত্র বলতে সাধারণত নাগরিকগণ সরাসরি অংশগ্রহণ না করে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করার পদ্ধতিকেই বোঝায়। পরোক্ষ গণতন্ত্রে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই আইন প্রণয়নসহ শাসনকার্য পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রই প্রচলিত রয়েছে।

উত্তরঃ-গ মকবুল সাহেবের উদ্দীপকে উল্লিখিত কাজ হলো নির্বাচনি প্রচারণা। মকবুল সাহেব উলাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। নির্বাচনি প্রচারণার ক্ষেত্রে মকবুল সাহেবকে কতগুলো নিয়ম মানতে হবে। যেমন :

১. রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী প্রচারণার ক্ষেত্রে সমান অধিকার ভোগ করবে। এজন্য প্রতিপক্ষের কোনো সভা, শোভাযাত্রা ও প্রচারে কোনোরূপ বাধা দেওয়া যাবে না।

২. কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে কোনো সড়ক বা মহাসড়কে জনসাধারণের চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি করে জনসভা করা যাবে না।

৩. সরকারি কোনো স্থাপনা নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যবহার করতে পারবে না।

৪. অন্য কোনো প্রার্থীর পোস্টার, লিফলেট ও হ্যান্ডবিলের ওপর লিফলেট ও হ্যান্ডবিল লাগাতে পারবে না।

৫. সকল প্রকার দেয়াল লিখন হতে বিরত থাকতে হবে।

৬. রাস্তা বা সড়কের ওপর নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপন করতে পারবে না।

৭. ধর্মানুভ‚তিতে আঘাত লাগে এবং উসকানিমূলক কোনো বক্তব্য দিতে পারবে না ইত্যাদি।

ঘ উক্ত নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কিছু নিয়ম লঙ্ঘন হলো নির্বাচনি অপরাধ। আর নির্বাচনি অপরাধের জন্য মকবুল সাহেব রাষ্ট্রীয় আইনে দণ্ডিত হবেন। কারণ বাংলাদেশের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী নির্বাচনি অপরাধ ও তার দণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। সংক্ষেপে অপরাধসমূহ ও তার দণ্ড নিচে দেওয়া হলো :

নির্বাচনি অপরাধ :

১. নির্ধারিত নির্বাচনি ব্যয় এর বিধান লঙ্ঘন করা।

৩. অন্য প্রার্থী বা তার আত্মীয়স্বজন সম্পর্কে মিথ্যা বলা।

৪. কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা প্রত্যাহার সম্পর্কে মিথ্যা বলা।

৫. জাল ভোট দেওয়া বা ছদ্মনামে ভোট দেওয়া।

৬. কোনো প্রার্থীর প্রতীক সম্পর্কে মিথ্যা বলা।

৭. জাতি, ধর্ম, বর্ণ ইত্যাদি কারণে কোনো প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে ভোটদান সম্পর্কে বলা।

৮. সভা ও মিছিলের ওপর আরোপিত নিষেধ লঙ্ঘন করা।

উদ্দীপকে মকবুল সাহেবও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কিছু নিয়ম লঙ্ঘন করলে রাষ্ট্রীয় আইনে দণ্ডিত হবেন। উপরিউক্ত যেকোনো অপরাধের জন্য জরিমানাসহ ক্ষেত্রবিশেষে সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং কমপক্ষে ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে। এসব নির্বাচন সংক্রান্ত অপরাধের জন্য উপযুক্ত আদালতে মামলা করা যায়।

প্রশ্ন- ১৩ ল্ফল্ফ নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা ও কার্যাবলি

শাকিলদের এলাকায় কিছুদিন পর ইউপি নির্বাচন। একটি স্বতন্ত্র, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান এ নির্বাচন পরিচালনা করবে। নির্বাচন উপলক্ষে দুজন প্রার্থী জনাব আবদুর রহমান ও টুকু মিঞা নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছেন। জনাব আবদুর রহমান শিক্ষিত ও সমাজ সচেতন মানুষ। আর টুকু মিঞা চোরাকারবারী করে টাকা কামিয়ে সাধারণ মানুষকে ঘুষ দিয়ে ধোঁকায় ফেলার চেষ্টা করছেন।

ক. কে নির্বাচন পরিচালনার জন্য পোলিং অফিসার নিয়োগ করে? ১

খ. যোগ্য ও উপযুক্ত প্রতিনিধি নির্বাচন করা প্রয়োজন কেন? ২

গ. নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী জনাব টুকু মিঞার অপরাধের দণ্ড বর্ণনা কর। ৩

ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা ও কাজ তুলে ধর। ৪

উত্তরঃ-ক নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনার জন্য পোলিং অফিসার নিয়োগ করে।

উত্তরঃ-খ নাগরিকরা নির্বাচনের মাধ্যমে যেসব প্রতিনিধি নির্বাচন করে তারা দেশের শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করে। প্রতিনিধিরা যোগ্য ও উপযুক্ত হলে শাসনব্যবস্থা উন্নত হয়। আর এসব কারণেই নির্বাচকমণ্ডলীর যোগ্য ও উপযুক্ত প্রতিনিধি নির্বাচন করা প্রয়োজন।

উত্তরঃ-গ নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী জনাব টুকু মিঞার অপরাধ গুরুতর নির্বাচনি অপরাধ। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন কিছু নির্বাচনি আচরণবিধি নির্ধারণ করে থাকে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী নির্বাচনি অপরাধ ও তার দণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমন ঘুষ দিয়ে ভোট ক্রয় করা বা ঘুষ গ্রহণ করা। ঘুষ গ্রহণ বা প্রদানের কারণে ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী অপরাধী যে দণ্ড ভোগ করবে তা হলো জরিমানাসহ ক্ষেত্র বিশেষে সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং কমপক্ষে ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড। উদ্দীপকে বর্ণিত ইউপি নির্বাচন প্রার্থী চোরাকারবারী জনাব টুকু মিয়া সাধারণ মানুষকে ঘুষ দিয়ে ধোঁকায় ফেলার চেষ্টা করছেন। তাই, নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী তার ওপরে বর্ণিত দণ্ড হতে পারে।

উত্তরঃ-ঘ উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি হলো নির্বাচন কমিশন। উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি স্বতন্ত্র, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ এবং প্রতিষ্ঠানটি শাকিলদের এলাকায় ইউপি নির্বাচন পরিচালনা করবে যা নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ করে। নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা ও কাজ তুলে ধরা হলো :

নির্বাচন কমিশন স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সকল নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও তত্ত¡াবধায়ন করে। ভোটার তালিকা বিষয়ক কোনো প্রশ্ন উত্থাপিত হলে কমিশন এর নিষ্পত্তিমূলক সিদ্ধান্ত দেয়। কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌর কর্পোরেশন, পৌরসভা ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করে।

 

 

গুরুত্বপূর্ণ বহুনির্বাচনি প্রশ্ন উত্তর

অধ্যায় – ৯: বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচন

১.নির্বাচন কমিশন পরিচালনা করে –

  1. জাতীয় সংসদ নির্বাচন
  2. ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন

iii. পৌর কর্পোরেশন নির্বাচন

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii

খ) ii ও iii

গ) i ও iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (ঘ)

২.নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন সংক্রান্ত অপরাধের জন্য জরিমানাসহ ক্ষেত্র বিশেষে শাস্তি হতে পারে –

  1. সর্বোচ্চ ১০ বছর
  2. সর্বোচ্চ ৭ বছর

iii. সর্বোচ্চ ২ বছর

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii

খ) ii

গ) iii

ঘ) i ও iii

সঠিক উত্তর: (ঘ)

৩.নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে কী গঠিত হয়?

ক) সচিবালয়

খ) আইনসভা

গ) শাসন বিভাগ

ঘ) বিচার বিভাগ

সঠিক উত্তর: (খ)

৪.কখন আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করেন?

ক) ১০৫২ সালে

খ) ১৯৫৫ সালে

গ) ১৯৫৮ সালে

ঘ) ১৯৫৯ সালে

সঠিক উত্তর: (গ)

৫.রাষ্ট্র পরিচালনায় সৃজনশীল নেতৃত্ব এবং তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজন –

  1. রাজনৈতিক দল ও যোগ্য নেতৃবৃন্দ
  2. রাজনীতিবিদদের ঘন ঘন দল পরিবর্তন

iii. রাজনৈতিক দলের সুনির্দিষ্ট গঠনতন্ত্র

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i

খ) ii

গ) iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (ক)

৬.রাষ্ট্র পরিচালনায় কীভাবে ক্ষমতার হাত বদল হয়?

ক) পেশিশক্তির মাধ্যমে

খ) নির্বাচনের মাধ্যমে

গ) অস্ত্রের মাধ্যমে

ঘ) ক্ষমতার ভাগাভাগির মাধ্যমে

সঠিক উত্তর: (খ)

৭.উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে কত সালে?

ক) ১৯৪৫

খ) ১৯৪৬

গ) ১৯৪৭

ঘ) ১৯৪৮

সঠিক উত্তর: (গ)

৮.১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন জারির পরবর্তীতে রাজনৈতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে কোন ধরনের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবি সোচ্চার হয়?

ক) প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র

খ) পার্লামেন্টারি গণতন্ত্র

গ) প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র

ঘ) বিশুদ্ধ গণতন্ত্র

সঠিক উত্তর: (খ)

৯.পরোক্ষ নির্বাচনে মধ্যবর্তী নির্বাচনি সংস্থা চূড়ান্তভাবে কী নির্বাচন করে?

ক) আঞ্চলিক প্রতিনিধি

খ) রাষ্ট্রপ্রধান

গ) মন্ত্রী

ঘ) বিচারপতি

সঠিক উত্তর: (খ)

১০.কতোতম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তিত হয়েছে?

ক) চুতুর্থ সংশোধনী

খ) অষ্টম সংশোধনী

গ) দশম সংশোধনী

ঘ) দ্বাদশ সংশোধনী

সঠিক উত্তর: (ঘ)

১১.“রাজনৈতিক দল বলতে কমবেশি সংগঠিত একদল লোককে বোঝায়, যারা রাজনৈতিক একক রূপে কাজ করে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চায়।” – উক্তিটি কে করেছেন?

ক) গেটেল

খ) ম্যাকাইভার

গ) গেজ

ঘ) জিসবার্ট

সঠিক উত্তর: (ক)

১২.সকল ভোটারকে একত্রিতভাবে কী বলা হয়?

ক) দলীয় কর্মী

খ) সমর্থকবৃন্দ

গ) নির্বাচনি প্রতিনিধি

ঘ) নির্বাচকমন্ডলী

সঠিক উত্তর: (ঘ)

১৩.কে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদেরকে নিয়োগ দেন?

ক) প্রধানমন্ত্রী

খ) প্রধান বিচারপতি

গ) সেনাপ্রধান

ঘ) রাষ্ট্রপতি

সঠিক উত্তর: (ঘ)

১৪.কে বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বপ্রথম পরোক্ষভাবে সেনা হস্তক্ষেপ ঘটান?

ক) জেনারেল মঈন উ আহমেদ

খ) মেজর জিয়াউর রহমান

গ) হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ

ঘ) খালেদ মোশাররফ

সঠিক উত্তর: (ক)

১৫.কোনটি জনমত গঠনের মাধ্যম?

ক) রাজনৈতিক দল

খ) সংঘ

গ) সরকার

ঘ) রাষ্ট্র

সঠিক উত্তর: (ক)

১৬.গণতন্ত্র সর্বপ্রথম প্রচলিত হয় কোথায়?

ক) স্পার্টায়

খ) কলম্বিয়ায়

গ) গ্রিসের এথেন্সে

ঘ) ফ্রান্সের প্যারিসে

সঠিক উত্তর: (গ)

১৭.কত সালে পাকিস্তানি পার্লামেন্টারি শাসনব্যবস্থা গৃহীত হয়?

ক) ১৯৪৫

খ) ১৯৪৬

গ) ১৯৪৭

ঘ) ১৯৪৮

সঠিক উত্তর: (গ)

১৮.দীর্ঘকাল পর ইউরোপে গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম ঘটে –

  1. ১৭শ শতাব্দীতে
  2. ১৮শ শতাব্দীতে

iii. ২০ শতাব্দীতে

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii

খ) ii ও iii

গ) i ও iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (ক)

১৯.প্রার্থীর প্রচারণার জন্য নির্বাচনি ব্যয় কিরূপ হবে?

ক) অত্যন্ত কম

খ) প্রচুর পরিমাণ

গ) নির্ধারিত পরিমাণ

ঘ) ইচ্ছামাফিক

সঠিক উত্তর: (গ)

২০.দেশের সংবিধান প্রণয়ন করতে পাকিস্তান গণপরিষদ কত বছর সময় নেয়?

ক) ৫,

খ) ৭

গ) ৯

ঘ) ১১

সঠিক উত্তর: (গ)

২১.১৯৪৭ সালে পাকিস্তানি পার্লামেন্টারি শাসন ব্যবস্থায় পার্লামেন্টারি শাসনের নামে দেশ শাসন করতেন –

  1. রাষ্ট্রপতি
  2. গভর্নর জেনারেল

iii. আমলারা

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii

খ) ii ও iii

গ) i ও iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (গ)

২২.নির্বাচনি অপরাধ ও তার দন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে কোন আদেশ অনুযায়ী?

ক) প্রতিনিধিত্ব

খ) গণ প্রতিনিধিত্ব

গ) প্রজাতন্ত্রিক

ঘ) গণপ্রজাতন্ত্রিক

সঠিক উত্তর: (খ)

২৩.কোন দেশে কয়েকটি রাজ্যে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র ব্যবস্থা চালু আছে?

ক) রাশিয়ায়

খ) সুইজারল্যান্ডে

গ) গ্রিসে

ঘ) জার্মানিতে

সঠিক উত্তর: (খ)

২৪.আব্রাহাম লিংকন কোন দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন?

ক) রাশিয়া

খ) আমেরিকা

গ) কানাডা

ঘ) ফ্রান্স

সঠিক উত্তর: (খ)

২৫.নির্বাচনি কর্মকর্তা, কর্মচারিগণ কর্তৃক কতিপয় নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য কারও বিরুদ্ধে আদালতের মামলা করা যাবে না কোনটির অনুমোদন ছাড়া?

ক) আদালতের

খ) জাতীয় সংসদের

গ) নির্বাচন কমিশনের

ঘ) সচিবালয়ের

সঠিক উত্তর: (গ)

২৬.রাজনৈতিক দল আন্দোলন গড়ে তোলার কারণ কী?

ক) নাগরিকদের ন্যায্য অধিকার আদাযের লক্ষ্যে

খ) দলের স্বার্থে

গ) সরকারের বিরোধিতা করতে

ঘ) দেশপ্রেমমূলক মনোভাব ব্যক্ত করতে

সঠিক উত্তর: (ক)

২৭.কোন দল ১৯৭০ সালের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে?

ক) মুসলিম লীগ

খ) আওয়ামী লীগ

গ) পিপলস পার্টি

ঘ) যুক্তফ্রন্ট

সঠিক উত্তর: (খ)

২৮.নির্বাচনি আচরণবিধির ক্ষেত্রে কোনটির গুরুত্ব বেশি?

ক) নির্বাচনি প্রচারণা

খ) নির্বাচনকে অপশক্তি থেকে প্রভাবমুক্ত রাখা

গ) ভোটকেন্দ্রে প্রবেশাধিকার

ঘ) নির্বাচনি অনিয়ম

সঠিক উত্তর: (ক)

২৯.সরকার ব্যবস্থা হিসেবে একটি ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার ফল হলো –

  1. গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা
  2. গণতন্ত্রের মানোন্নয়ন

iii. গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i

খ) ii

গ) iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (ক)

৩০.রাজনৈতিক দল গঠিত হয় –

  1. একক নেতৃত্বের সমন্বয়ে
  2. একদল বিশিষ্ট বা সৃজনশীল নেতৃত্বের সমন্বয়ে

iii. জনপ্রচেষ্টায়

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii

খ) ii ও iii

গ) i ও iii                      ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (ক)

৩১.“আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন কার্যত রাজনৈতিক দলের শাসন” – উক্তিটি করেছেন কে>

ক) উইলোবী

খ) ফাইনার

গ) গেটেল

ঘ) ম্যাকাইভার

সঠিক উত্তর: (খ)

৩২.রাজনৈতিক দল জনসমর্থন সৃষ্টি করে –

  1. সভা সমিতির মাধ্যমে
  2. টকশোর মাধ্যমে

iii. ভয় দেখিয়ে

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii

খ) ii ও iii

গ) i ও iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (ক)

৩৩.নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্বাচন অনুষ্ঠান সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু হয় কখন?

ক) নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পূর্বে

খ) নির্বাচনি তারিখ ঘোষণার পূর্বে

গ) নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পরে

ঘ) নির্বাচনি তফসলি ঘোষণার মুহূর্তে

সঠিক উত্তর: (গ)

৩৪.কোন ধারণাটি বর্তমান সময়ে সরকার পরিচালনার সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?

ক) গণতান্ত্রিক

খ) রাজতান্ত্রিক

গ) সামন্ততান্ত্রিক

ঘ) একনায়কতান্ত্রিক

সঠিক উত্তর: (ক)

৩৫.জনগণ দ্বারা নির্বাচিত সরকার ব্যবস্থায় প্রমাণিত হয় –

  1. জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস
  2. রাজতন্ত্র জনগণের ইচ্ছায় টিকে থাকে না

iii. জনমতের সাথে শাসকদলের কোনো সম্পর্ক নেই

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i

খ) ii

গ) i ও iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (ক)

৩৬.কী ধরনের শাসন জনগণের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দেয়?

ক) সমাজতন্ত্র

খ) অভিজাততন্ত্র

গ) গণতন্ত্র

ঘ) রাজতন্ত্র

সঠিক উত্তর: (গ)

৩৭.প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার বলতে কী বোঝায়?

ক) মৌলিক সরকার

খ) সাধারণ সরকার

গ) বহুদলের সরকার

ঘ) দলীয় সরকার

সঠিক উত্তর: (ঘ)

৩৮.‘ইলেক্ট্ররাল কলেজ’ অর্থ কী?

ক) শাসক

খ) প্রতিনিদি

গ) সরকার

ঘ) নির্বাচকমন্ডলি

সঠিক উত্তর: (ঘ)

৩৯.মধ্যযুগে ইউরোপে অনেক সময় চলে গেছে –

  1. ধর্ম ও রাজার দ্বৈত শাসনে
  2. স্বৈরতান্ত্রিক শাসনে

iii. সামন্ততান্ত্রিক শাসনে

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii

খ) ii ও iii

গ) i ও iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (ঘ)

৪০.কোন ধরনের নির্বাচন পদ্ধতি বাংলাদেশে চালু আছে?

ক) প্রত্যক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি

খ) পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি

গ) প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন পদ্ধতি

ঘ) সরাসরি নির্বাচন পদ্ধতি

সঠিক উত্তর: (ক)

৪১.নির্বাচনি জনসভা করতে হলে কার অনুমতি লাগে?

ক) পুলিশ সুপারের

খ) জেলা প্রশাসকের

গ) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের

ঘ) নির্বাচন কমিশনের

সঠিক উত্তর: (গ)

৪২.১৯৭৫ সালের পর বাংলাদেশ কত বছর সেনা শাসনের অধীনে ছিল?

ক) ১০

খ) ১২

গ) ১৫

ঘ) ১৮

সঠিক উত্তর: (গ)

৪৩.রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা কীভাবে মনোনীত হন?

ক) স্থায়ীভাবে                 খ) প্রাথমিকভাবে

গ) ক্ষণস্থায়ীভাবে

ঘ) নির্দিষ্ট সময়ের ভিত্তিতে

সঠিক উত্তর: (খ)

৪৪.নির্বাচনি আচরণ লঙ্ঘিত হয় –

  1. জাল ভোট বা ছদ্মনামে ভোট দিলে
  2. প্রার্থীর প্রতীক সম্পর্কে মিথ্যা বললে

iii. ভোটদানে বাঁধা সৃষ্টি করলে

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii

খ) ii ও iii

গ) i ও iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (ঘ)

৪৫.নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী নির্বাচনি প্রচারণা করা হবে –

  1. দল বা প্রার্থী নির্বিশেষে প্রচারণার ক্ষেত্রে সবাই সমান সুযোগ ভোগ করে
  2. কেউ কারও সভা ও মিছিলে বাধা প্রদান না করে

iii. রাস্তার ওপর নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপন না করে

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii

খ) ii ও iii

গ) i ও iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (ঘ)

৪৬.উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হলে পাকিস্তানে কেমন শাসনব্যবস্থা গৃহীত হয়?

ক) পার্লামেন্টারি

খ) প্রেসিডেন্সিয়াল

গ) এরিস্টক্রেসী

ঘ) কমিউনিজম

সঠিক উত্তর: (ক)

৪৭.“যে শাসন ব্যবস্থায় জনগণ সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগে অংশ নেওয়ার অধিকারী তা-ই গণতন্ত্র।” – উক্তিটি কে করেছেন?

ক) আব্রাহাম লিংক

খ) জর্জ ওয়াশিংটন

গ) গেটেল

ঘ) জন এফ কেনেডি

সঠিক উত্তর: (গ)

৪৮.জনগণ চাইলে পূর্ববর্তী সরকার ও দলকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে?

ক) নির্বাচন

খ) ধর্মঘট

গ) বিদ্রোহ

ঘ) বিরোধিতা

সঠিক উত্তর: (ক)

৪৯.নির্বাচন কমিশনের কাজ হচ্ছে –

  1. নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা
  2. নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা

iii. নির্বাচনে পক্ষপাতিত্ব করা

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii

খ) ii ও iii

গ) i ও iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (ক)

৫০.নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করে –

  1. স্বাধীনভাবে
  2. স্বতন্ত্রভাবে

iii. নিরপেক্ষভাবে

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii

খ) ii ও iii

গ) i ও iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (ঘ)

৫১.আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান কোন শাসন ব্যবস্থায়?

ক) সামন্ততান্ত্রিক

খ) রাজতান্ত্রিক

গ) গণতান্ত্রিক

ঘ) একনায়কতান্ত্রিক

সঠিক উত্তর: (গ)

৫২.কোনটির ওপর মনোনয়নপত্র বাছাই সংক্রান্ত দায়িত্ব ন্যস্ত?

ক) দুর্নীতি দমন কমিশন

খ) নির্বাচন কমিশন

গ) শিক্ষা কমিশন

ঘ) রাজনৈতিক দল

সঠিক উত্তর: (খ)

৫৩.গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে –

  1. জনগণের আত্মবিকাশের সুযোগ বৃদ্ধি পায়
  2. সরকার দায়িত্ব পালনে সচেতন হয়

iii. শাসন ব্যবস্থায় নিপীড়নমূলক আচরণ বৃদ্ধি পায়

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii

খ) ii ও iii

গ) i ও iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (ক)

৫৪.বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করে তার মধ্যে অন্যতম হলো –

  1. স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স তৈরি
  2. ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন

iii. রাজনৈতিক দল পুনর্গঠন

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii

খ) ii ও iii

গ) i ও iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (ক)

৫৫.১৯৭২ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন সরকারের উল্লেখযোগ্য সফল কর্মকান্ড ছিল –

  1. ২৪০টি দেশের স্বীকৃতি লাভ
  2. জাতিসংঘ ও ওআইসি’র সদস্যপদ লাভ

iii. নতুন সংবিধান তৈরি

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii

খ) ii ও iii

গ) i ও iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (খ)

৫৬.১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর জাতীয় সংসদে সকল দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধানের কততম সংশোধনী প্রণীত হয়?

ক) অষ্টম

খ) নবম

গ) দশম

ঘ) দ্বাদশ

সঠিক উত্তর: (ঘ)

৫৭.গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলো গুরুত্ব দেয় –

  1. জনগণের সমস্যা, অভাব, অভিযোগ
  2. জনগণের সুবিধা, অসুবিধা

iii. অন্য দলগুলোর সাথে বিরোধিতা

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii

খ) ii ও iii

গ) i ও iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (ক)

৫৮.আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র প্রচলনের কারণ কী?

ক) জনগণের শিক্ষা ও মানোন্নয়ন

খ) প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র অসম্ভব বলে

গ) রাষ্ট্রের বিশালতা ও অধিক জনসংখ্যা

ঘ) গণতন্ত্র সর্বজন স্বীকৃত

সঠিক উত্তর: (গ)

৫৯.১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হয়ে –

  1. সংসদকে শক্তিশালীকরণের পদক্ষেপ নেয়
  2. পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি সম্পাদন করে

iii. বিভিন্ন নির্বাচনে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি করে

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii

খ) ii ও iii

গ) i ও iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (ঘ)

৬০.পাকিস্তানে প্রথম সামরিক শাসন জারি হয় কত সালে?

ক) ১৯৪৮

খ) ১৯৫২

গ) ১৯৫৬

ঘ) ১৯৫৮

সঠিক উত্তর: (ঘ)

৬১.গণতন্ত্রকে মূর্খ ও অযোগ্যের শাসনব্যবস্থা বলেছেন –

  1. প্লেটো
  2. এরিস্টটল

iii. কার্ল মার্কস

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii

খ) ii ও iii

গ) i ও iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (ক)

৬২.কোন ধরনের গণতন্ত্র প্রচলন রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিস্তৃতির কারণে প্রায় অসম্ভব?

ক) বিশুদ্ধ গণতন্ত্র

খ) পরোক্ষ গণতন্ত্র

গ) প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র

ঘ) জনমতের গণতন্ত্র

সঠিক উত্তর: (ক)

৬৩.গণতন্ত্র কী ধরনের শাসন ব্যবস্থা?

ক) অনিয়ন্ত্রিত

খ) পরিকল্পনাহীন

গ) দায়িত্বশীল

ঘ) স্বৈরাচারী

সঠিক উত্তর: (গ)

৬৪.গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত জনগণের সরকার – উক্তিটি কার?

ক) গেটেলের

খ) আব্রাহাম লিংকনের

গ) রুজভেল্টের

ঘ) উড্রো উইলসনের

সঠিক উত্তর: (খ)

৬৫.গণতন্ত্র কী ধরনের সরকার?

ক) স্বৈচ্ছাচারী

খ) নিয়ন্ত্রণমূলক

গ) জনকল্যাণমূলক

ঘ) দমনমূলক

সঠিক উত্তর: (গ)

৬৬.তত্ত্বাবধায়ক সরকার ড. ফখরুদ্দিন আহমদের সময়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো –

  1. অনেকগুলো অধ্যাদেশ জারি
  2. দুর্নীতির বিচারে বিশেষ ট্রাইবুন্যাল গঠন

iii. সেনা হস্তক্ষেপ

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii

খ) ii ও iii

গ) i ও iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (ঘ)

৬৭.গণতান্ত্রিক সরকারের গ্রহণযোগ্যতার কারণ হচ্ছে –

  1. সরকারের কাজের জবাবদিহিতার জন্য
  2. স্বৈরাচারী ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের জন্য

iii. ব্যক্তি ও বাক স্বাধীনতার স্বীকৃতির জন্য

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii

খ) ii ও iii

গ) i ও iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (ঘ)

৬৮.রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য –

  1. রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাসমূহ চিহ্নিত করা ও তার সমাধানে কর্মসূচি ও নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা
  2. রাষ্ট্রের উন্নয়নমূলক নীতিমালা ও পরিকল্পনা জনগণের নিকট পেশ করে জনসমর্থন সৃষ্টি

iii. বৈধ ও নিয়মমাফিক নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের শাসনভার গ্রহণ

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii

খ) ii ও iii

গ) i ও iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (ঘ)

৬৯.কোন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান এ যাবতকাল সবচেয়ে বেশি সময় ক্ষমতায় ছিলেন?

ক) ইয়াজউদ্দিন আহম্মদ

খ) সাহাবুদ্দিন আহমদ

গ) জেনারেল মঈন উ আহমেদ

ঘ) ড. ফখরুদ্দিন আহমদ

সঠিক উত্তর: (ঘ)

৭০.রাজনৈতিক দল বিচারে স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে কয়টি রাজনৈতিক প্রশাসন এসেছে?

ক) দুইটি

খ) তিনটি

গ) চারটি

ঘ) পাঁচটি

সঠিক উত্তর: (খ)

৭১.গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ –

  1. জনস্বার্থ বিরোধী সরকারকে প্রত্যাখ্যান করা যায়
  2. জনগণের স্বার্থবিরোধী দলকে প্রত্যাখ্যান করা যায়

iii. জনগণের প্রতি সরকারের আচরণের জবাব দেওয়া যায়

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii

খ) ii ও iii

গ) i ও iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (ঘ)

৭২.প্রধান নির্বাচন কমিশনারের চাকরির মেয়াদ কত বছর?

ক) ৩

খ) ৪

গ) ৫

ঘ) ৬

সঠিক উত্তর: (গ)

৭৩.বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের অবদান হলো –

  1. জাতিসংঘের সদস্যপদ প্রাপ্তি
  2. সার্ক প্রতিষ্ঠান উদ্যোগ

iii. প্রশাসনিক ব্যবস্থার উন্নয়ন

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii

খ) ii ও iii

গ) i ও iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (গ)

৭৪.ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে কে?

ক) সংসদীয় কমিটি

খ) জাতীয় সংসদ

গ) সংসদ সচিবালয়

ঘ) নির্বাচন কমিশন

সঠিক উত্তর: (ঘ)

৭৫.প্রাচীন গ্রিসের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অসুবিধা কী?

  1. রাষ্ট্রের সকলেই নাগরিকত্বের সম্মান পেত না
  2. বিচারকার্যে নাগরিকগণ অংশগ্রহণ করতে পারতো না

iii. নাগরিকের ধারণা সীমাবদ্ধ ছিল

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii

খ) ii ও iii

গ) i ও iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (গ)

৭৬.“যারা কতকগুলো সুনির্দিষ্ট নীতির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং সাংবিধানিক উপায়ে সরকার গঠন করতে চেষ্টা করে তাকে রাজনৈতিক দল বলে।” – উক্তিটি কার?

ক) ম্যাকাইভারের

খ) গেটেলের

গ) উইলোবীর

ঘ) বার্টন্ড রাসেলের

সঠিক উত্তর: (ক)

৭৭.ইউরোপে গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ ঘটে কোন শতাব্দীতে?

ক) দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ

খ) সপ্তদশ ও অষ্টাদশ

গ) চতুর্দশ ও পঞ্চদশ

ঘ) ষষ্ঠদশ ও সপ্তদশ

সঠিক উত্তর: (খ)

৭৮.পরোক্ষ গণতন্ত্রকে কী বলা হয়?

ক) সাধারণ গণতন্ত্র

খ) অসম্পূর্ণ গণতন্ত্র

গ) প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র

ঘ)  বিরোধী গণতন্ত্র

সঠিক উত্তর: (গ)

৭৯.গণভোট বলতে কী বুঝায়?

ক) সর্বসাধারণের ভোট

খ) আবালবৃদ্ধবনিতার ভোট

গ) জনমত যাচাইয়ের জন্য ভোট

ঘ) জনগণের জন্য ভোট

সঠিক উত্তর: (গ)

* উদ্ধৃত অংশটুকু পড় এবং নিচের ২টি প্রশ্নের উত্তর দাও:

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর দেশে এক বিশেষ ধরনের অগণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। দল ভাঙা, দলগড়া, ভোট কারচুপি ও অকার্যকর নির্বাচন কমিশন প্রভৃতি ছিল এ শাসন ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য। ১৫ বছর পর এ শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটে।

৮০.ওপরের অংশে কোন শাসনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে?

ক) জিয়া শাসন

খ) এরশাদ শাসন

গ) সেনা শাসন

ঘ) তত্ত্বাবধায়ক শাসন

সঠিক উত্তর: (গ)

৮১.এ ধরনের শাসন অবসান আন্দোলনে কাদের প্রধান ভূমিকা ছিল?

ক) ছাত্রদের

খ) ছাত্র ও জনগণের

গ) শ্রমিকদের

ঘ) সাধারণ জনগণের

সঠিক উত্তর: (খ)

Download From Google Drive

Download

আরো পড়ুনঃ-

Download From Yandex

Download