নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অধ্যায়-১৩ বহুনির্বাচনি ও সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

0
121

নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অধ্যায়-১৩

বহুনির্বাচনি ও সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

অধ্যায় – ১৩: বাংলাদেশ সরকারের অর্থব্যবস্থা ও ব্যাংক

১.কোন ব্যাংক দেশের অন্যান্য ব্যাংককে নিয়ন্ত্রণ করে?

ক) বাণিজ্যিক ব্যাংক

খ) কেন্দ্রীয় ব্যাংক

গ) শিল্প ব্যাংক

ঘ) গ্রামীণ ব্যাংক

সঠিক উত্তর: (খ)

২.কোনটি ব্যক্তিগত আয়ের ওপর ধার্যকৃত কর?

ক) বাণিজ্য শুল্ক

খ) আবগারি শুল্ক

গ) মূল্য সংযোজন কর

ঘ) আয়কর

সঠিক উত্তর: (ঘ)

৩.কোনটি নিরাপদে এবং দ্রুত টাকা স্থানান্তর করে?

ক) বাণিজ্যিক ব্যাংক

খ) বাংলাদেশ ব্যাংক

গ) বিশেষায়িত ব্যাংক

ঘ) অর্থলগ্নিকারী ব্যাংক

সঠিক উত্তর: (ক)

৪.দলিলপত্র নিবন্ধন করার জন্য কোনটি দিতে হয়?

ক) উকিল ফি

খ) কোর্ট ফি

গ) রেজিষ্ট্রেশন ফি

ঘ) বিচারপতির ফি

সঠিক উত্তর: (গ)

৫.কোন ব্যাংক দেশের কাগজি মুদ্রা প্রচলনের একমাত্র অধিকারী?

ক) শিল্প ব্যাংক

খ) অগ্রণী ব্যাংক

গ) কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ঘ) রূপালী ব্যাংক

সঠিক উত্তর: (গ)

৬.কোন ব্যাংককে ‘নিকাশ ঘর’ বলা হয়?

ক) বাণিজ্যিক ব্যাংক

খ) কেন্দ্রীয় ব্যাংক

গ) শিল্প ব্যাংক

ঘ) গ্রামীণ ব্যাংক

সঠিক উত্তর: (খ)

৭.কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংকের মধ্যে আন্তঃব্যাংক দেনা-পাওনা মিটিয়ে থাকে কোনটির মাধ্যমে?

ক) ড্রাফট                      খ) হুন্ডি

গ) চেক                         ঘ) বন্ড

সঠিক উত্তর: (গ)

৮.কোনটি মূল্যবান অলঙ্কার, দলিলপত্র প্রভৃতি নিরাপদে গচ্ছিত রাখে?

ক) বাণিজ্যিক ব্যাংক

খ) কেন্দ্রীয় ব্যাংক

গ) বিশেষায়িত ব্যাংক

ঘ) গ্রামীণ ব্যাংক

সঠিক উত্তর: (ক)

৯.কোন আমানতের ওপর ব্যাংক কোনো সুদ দেয় না?

ক) অস্থায়ী আমানত

খ) চলতি আমানত

গ) সঞ্চয়ী আমানত

ঘ) স্থায়ী আমানত

সঠিক উত্তর: (খ)

১০.সরকার একটি বিমান ক্রয় করেছে এটা সরকারের কোন ধরনের ব্যয়?

ক) প্রতিরক্ষা ব্যয়

খ) বেসামরিক প্রশাসন ব্যয়

গ) বিবিধ ব্যয়

ঘ) উন্নয়ন ব্যয়

সঠিক উত্তর: (ঘ)

১১.ন্যাশনাল ব্যাংক কী ধরনের ব্যাংক?

ক) কেন্দ্রীয় ব্যাংক

খ) বিশেষায়িত ব্যাংক

গ) বাণিজ্যিক ব্যাংক

ঘ) বিশেষ আর্থিক প্রতিষ্ঠান

সঠিক উত্তর: (গ)

১২.বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ের প্রধান খাত কোনটি?

ক) প্রতিরক্ষা

খ) শিক্ষা

গ) বেসরকারি প্রশাসন

ঘ) বৈদেশিক বিষয়াবলি

সঠিক উত্তর: (ক)

১৩.অর্থ তরল সম্পদ কেন?

ক) স্থানান্তরযোগ্য

খ) চাহিদার গ্রাহককে প্রদানের ক্ষমতা

গ) সহজে সঞ্চয় করা যায়

ঘ) মূল্যের পরিমাপক বলে

সঠিক উত্তর: (খ)

১৪.বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক কোন ধরনের ঋণ প্রদান করে?

ক) দীর্ঘমেয়াদি

খ) স্বল্পমেয়াদি

গ) মধ্যমেয়াদি

ঘ) স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি

সঠিক উত্তর: (ক)

১৫.সপ্তাহে এক বা দুইবার অর্থ তোলা যায় কোন আমানত থেকে?

ক) চলতি

খ) সঞ্চয়ী

গ) স্থায়ী

ঘ) বিশেষ

সঠিক উত্তর: (খ)

১৬.কোন ব্যাংক দরিদ্র পুরুষ ও মহিলাদের বিনা জামানতে ব্যাংকিং সুবিধা প্রদান করে?

ক) গ্রামীণ ব্যাংক

খ) শিল্প ব্যাংক

গ) কৃষি ব্যাংক

ঘ) সোনালী ব্যাংক

সঠিক উত্তর: (ক)

১৭.সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির পরিধি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে কেন?

ক) সরকারের উন্নয়নের জন্য

খ) সামাজিক উন্নয়নের জন্য

গ) দেশের সামষ্টিক উন্নয়নের

ঘ) অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য

সঠিক উত্তর: (গ)

১৮.কোনটি দেশের অর্থ-বাজার, মুদ্রাব্যবস্থা এবং অন্যান্য ব্যাংকে তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ করে?

ক) গভর্নর

খ) অর্থমন্ত্রী

গ) কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ঘ) বিশেষ ব্যাংক

সঠিক উত্তর: (গ)

১৯.কোনটি কর বহির্ভূত আয়ের অন্তর্ভুক্ত?

ক) চিনি

খ) ভূমি

গ) টেলিফোন

ঘ) মাদক

সঠিক উত্তর: (গ)

২০.কোনটির ওপর ভিত্তি করে ব্যাংক টিকে থাকে?

ক) সুদ

খ) মুনাফা

গ) ঋণ

ঘ) সঞ্চয়কারীর আমানত

সঠিক উত্তর: (খ)

২১.কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মালিকানা ধরন হলো –

  1. সম্পূর্ণ সরকারি
  2. আংশিক সরকারি

iii. সরকারি অথবা বেসরকারি

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii

খ) ii ও iii

গ) i ও iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (ক)

২২.বাংলাদেশে অবস্থিত লয়েড ব্যাংক, চাটার্ড ব্যাংক, ব্যাংক অব চায়না প্রভৃতি কোন ধরনের ব্যাংক?

ক) বাণিজ্যিক ব্যাংক

খ) বিনিময় ব্যাংক

গ) সঞ্চয়ী ব্যাংক

ঘ) আন্তর্জাতিক ব্যাংক

সঠিক উত্তর: (খ)

২৩.কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে?

ক) রাষ্ট্রের

খ) সরকারের

গ) অন্যান্য ব্যাংকের

ঘ) জামানতকারীর

সঠিক উত্তর: (খ)

২৪.ব্যাংকের অভিভাবক হিসেবে কাজ করে কোন ব্যাংক?

ক) আন্তর্জাতিক ব্যাংক

খ) শিল্প ব্যাংক

গ) কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ঘ) বিনিময় ব্যাংক

সঠিক উত্তর: (গ)

২৫.গ্রামীণ ব্যাংক কোন ধরনের ব্যাংক?

ক) বিশেষ ঋণদানকারী সংস্থা

খ) সরকারি ব্যাংক

গ) কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ঘ) বাণিজ্যিক ব্যাংক

সঠিক উত্তর: (ক)

২৬.কোনটি পূর্ত কাজ?

ক) মেডিকেল কলেজ স্থাপন

খ) রাস্তাঘাট নির্মাণ

গ) কর্মচারীকে বেতন প্রদান

ঘ) স্কুল কলেজ নির্মাণ

সঠিক উত্তর: (খ)

২৭.মোট অর্থের পরিমাণ বেড়ে গেলে কী ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে?

ক) দুর্নীতি বাড়তে পারে

খ) মুদ্রাস্ফীতি

গ) পণ্যের দাম কমতে পারে

ঘ) পণ্যের দাম বাড়তে পারে

সঠিক উত্তর: (খ)

২৮.সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করে –

  1. জনকল্যাণ সাধনে
  2. প্রশাসন পরিচালনায়

iii. আর্থসামাজিক উন্নয়নে

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii

খ) ii ও iii

গ) i ও iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (ঘ)

২৯.বাণিজ্যিক ব্যাংকের দ্বিতীয় প্রধান কাজ কী?

ক) হুন্ডি বাট্টা করা

খ) সঞ্চয় বৃদ্ধি করা

গ) অর্থ স্থানান্তর করা

ঘ) ঋণদান করা

সঠিক উত্তর: (ঘ)

৩০.কোনটি বাংলাদেশের দরিদ্র পুরুষ ও মহিলাদের বিনা জামানতে ব্যাংকিং সুবিধা প্রদান করে?

ক) ইসলামী ব্যাংক

খ) সোনালী ব্যাংক

গ) গ্রামীণ ব্যাংক

ঘ) উত্তরা ব্যাংক

সঠিক উত্তর: (গ)

৩১.বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রা সংকোচন ও মুদ্রাস্ফীতি এড়ানোর লক্ষ্যে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে?

ক) মুদ্রা কম ছাপায়

খ) ঋণ নিয়ন্ত্রণ করে

গ) বাণিজ্যিক ব্যাংককে চাপে রাখে

ঘ) বার্ষিক বাজেটের সমালোচনা করে

সঠিক উত্তর: (গ)

৩২.বাংলাদেশ ব্যাংক নিজ দেশে যেসব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করে –

  1. সরকারের প্রতিনিধি
  2. আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভান্ডারের প্রতিনিধি

iii. বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii

খ) ii ও iii

গ) i ও iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (খ)

৩৩.বাণিজ্যিক ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য –

ক) ঋণদান করা

খ) হুন্ডি বাট্টা করা

গ) বিনিময়ের মাধ্যম সৃষ্টি করা

ঘ) অর্থ জমা রাখা

সঠিক উত্তর: (ঘ)

৩৪.কোনটি বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ের গুরুত্বপূর্ণ খাত?

ক) প্রতিরক্ষা

খ) শিক্ষা

গ) স্বাস্থ্য

ঘ) কৃষি

সঠিক উত্তর: (খ)

৩৫.কর বহির্ভূত রাজস্ব কোনটি?

ক) ভূমি রাজস্ব

খ) আয়কর

গ) বন

ঘ) যানবাহন কর

সঠিক উত্তর: (গ)

৩৬.আমদানি শুল্ক বা আবগারি শুল্ক বা ভ্যাট আরোপের পরও অতিরিক্ত আরোপিত শুল্ককে কী বলে?

ক) সম্পূরক শুল্ক

খ) আয়কর

গ) কর রাজস্ব

ঘ) বাণিজ্য শুল্ক

সঠিক উত্তর: (ক)

৩৭.বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে –

  1. বিভিন্ন উৎস থেকে সরকারের পাওনা
  2. মূল্যবান মুদ্রার প্রচলন

iii. বিভিন্ন খাতে সরকারের দেনা পরিশোধ

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii

খ) ii ও iii

গ) i ও iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (গ)

৩৮.কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কাজ কোনটি?

ক) ঋণদান করা

খ) বিনিময় হার ঠিক করা

গ) অর্থ স্থানান্তর করা

ঘ) মুদ্রা প্রচলন করা

সঠিক উত্তর: (ঘ)

৩৯.যানবাহন নিবন্ধনের জন্য কোন ধরনের কর দিতে হয়?

ক) আবগারি শুল্ক

খ) যানবাহন কর

গ) আয়কর

ঘ) মূল্য সংযোজন কর

সঠিক উত্তর: (খ)

৪০.বাণিজ্যিক ব্যাংক কোন ঋণ প্রদান করে থাকে?

ক) স্বল্পমেয়াদি

খ) দীর্ঘমেয়াদি

গ) অতি স্বল্পমেয়াদি

ঘ) অতি দীর্ঘমেয়াদি

সঠিক উত্তর: (ক)

৪১.সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো –

  1. উৎপাদনশীল খাতে ব্যয় বৃদ্ধি
  2. অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় বৃদ্ধি

iii. অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii

খ) ii ও iii

গ) i ও iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (গ)

৪২.বাংলাদেশ সরকার কোন ধরনের সেবা প্রদানের জন্য বিভিন্ন প্রকার ‘ফি’ আদায় করে?

ক) স্বাস্থ্য

খ) শিক্ষা

গ) আর্থিক

ঘ) প্রশাসনিক

সঠিক উত্তর: (ঘ)

৪৩.কোন আমানতের জন্য ব্যাংক আমানতকারীকে অল্প সুদ প্রদান করে?

ক) চলতি

খ) সঞ্চয়ী

গ) স্থায়ী

ঘ) বিশেষ

সঠিক উত্তর: (খ)

৪৪.বাংলাদেশ ব্যাংকের কাজ হলো –

  1. সরকারকে ঋণ প্রদান
  2. আর্থিক সংকটকালে বাণিজ্যিক ব্যাংককে ঋণ প্রদান

iii. ব্যবসা করার জন্য ঋণ প্রদান

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii

খ) ii ও iii

গ) i ও iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (ক)

৪৫.বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে –

  1. আর্থিক সংকটে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ঋণ দান করে
  2. বিভিন্ন উৎস থেকে সরকারের পাওনা আদায় করে

iii. ক্রিয়ারিং হাউস হিসেবে কাজ করে

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii

খ) ii ও iii

গ) i ও iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (ঘ)

৪৬.কোন আমানত একটি নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর তোলা যায়?

ক) চলতি

খ) সঞ্চয়ী

গ) স্থায়ী

ঘ) বিশেষ

সঠিক উত্তর: (গ)

৪৭.কোন খাতে প্রায়ই ঘাটতি থাকে?

ক) রেলওয়ে

খ) ডাক

গ) ব্যাংকিং

ঘ) সমবায়

সঠিক উত্তর: (ক)

৪৮.কোন আমানতের ওপর অপেক্ষাকৃত বেশি হারে সুদ দেওয়া হয়?

ক) চলতি আমানত

খ) সঞ্চয়ী আমানত

গ) স্থায়ী আমানত

ঘ) সাধারণ আমানত

সঠিক উত্তর: (গ)

৪৯.কোন ব্যাংককে স্বল্পমেয়াদি ঋণের ব্যবসায়ী বলা হয়?

ক) ইসলামী ব্যাংক

খ) বাণিজ্যিক ব্যাংক

গ) কৃষি ব্যাংক

ঘ) সমবায় ব্যাংক

সঠিক উত্তর: (খ)

৫০.কোনটি ঋণ গ্রহীতার প্রদেয় সুদ ও সঞ্চয়কারীর প্রাপ্ত সুদের পার্থক্য নির্দেশ করে?

ক) সুদ

খ) মুনাফা

গ) ঋণ

ঘ) আমানত

সঠিক উত্তর: (খ)

৫১.জনসাধারণের অর্থ জমা রাখা ও ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে কী বলে?

ক) ব্যাংক

খ) বীমা কোম্পানি

গ) মহাজনি ব্যবসা

ঘ) এনজিও

সঠিক উত্তর: (ক)

৫২.সরকারি অর্থ ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত থাকে রাষ্ট্রের –

  1. সব ধরনের আয়-ব্যয়
  2. ঋণ ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত সমস্যা

iii. ঋণ ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের উপায়

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii

খ) ii ও iii

গ) i ও iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (ঘ)

৫৩.ব্যাংককে কী বলা হয়?

ক) সুদের কারবারি

খ) মুনাফার কারবারি

গ) ঋণের কারবারি

ঘ) লেনদেনের কারবারি

সঠিক উত্তর: (গ)

৫৪.আবগারি শুল্ক ধার্য করা হয় –

  1. দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত দ্রব্যের ওপর
  2. দেশের অভ্যন্তরে ব্যবহৃত দ্রব্যের ওপর

iii. আমদানি ও রপ্তানিকৃত দ্রব্যের ওপর

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii

খ) ii ও iii

গ) i ও iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (ক)

৫৫.যে আমানত একটি নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত হবার পর তোলা যায় তাকে কী ধরনের আমানত বলে?

ক) চলতি আমানত

খ) অস্থায়ী আমানত

গ) সঞ্চয়ী আমানত

ঘ) স্থায়ী আমানত

সঠিক উত্তর: (ঘ)

৫৬.অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা কোনটি?

ক) কৃষি ব্যবস্থা

খ) সরকারি অর্থব্যবস্থা

গ) ব্যাংক ব্যবস্থা

ঘ) শিল্প প্রতিষ্ঠান

সঠিক উত্তর: (খ)

৫৭.কোন ব্যাংক সর্বশেষ পর্যায়ের ঋণদাতা হিসেবে কাজ করে?

ক) সমবায় ব্যাংক

খ) কৃষি ব্যাংক

গ) কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ঘ) শিল্প ব্যাংক

সঠিক উত্তর: (গ)

৫৮.কোন ব্যাংক বিশেষ ঋণদানকারী সংস্থা?

ক) সোনালী ব্যাংক

খ) জনতা ব্যাংক

গ) গ্রামীণ ব্যাংক

ঘ) অগ্রণী ব্যাংক

সঠিক উত্তর: (গ)

৫৯.কর্মক্ষম মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র‌্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?

ক) ব্যাংক

খ) বিমা

গ) সরকার

ঘ) যুব মন্ত্রণালয়

সঠিক উত্তর: (ক)

৬০.কোনটি দেশীয ব্যাংকের উদাহরণ?

ক) অগ্রণী ব্যাংক

খ) বাংলাদেশ ব্যাংক

গ) সাহুকার

ঘ) গ্রামীণ ব্যাংক

সঠিক উত্তর: (গ)

৬১.কোনটি সরকারের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের হিসাব-নিকাশ করে?

ক) কেন্দ্রীয় ব্যাংক

খ) প্রাইম ব্যাংক

গ) বাণিজ্যিক ব্যাংক

ঘ) গ্রামীণ ব্যাংক

সঠিক উত্তর: (ক)

৬২.ব্যাংক আমানতকারীকে কোনো সুদ প্রদান করে না কোন আমানতের জন্য?

ক) চলতি

খ) সঞ্চয়ী

গ) স্থায়ী

ঘ) বিশেষ

সঠিক উত্তর: (ক)

৬৩.কত সালে বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়?

ক) ১৯৭২

খ) ১৯৭৩

গ) ১৯৭৪

ঘ) ১৯৭৫

সঠিক উত্তর: (ক)

৬৪.জনাব ‘ক’ একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। তার ব্যাংক আর্থিক সংকটে আছে, তিনি কার কাছ থেকে ঋণ নেবেন?

ক) শিল্প ব্যাংকের কাছ থেকে

খ) বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে

গ) সোনালী ব্যাংকের

ঘ) আইএমএফের

সঠিক উত্তর: (খ)

৬৫.কোনটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিনিময়ের মাধ্যম সৃষ্টি করে?

ক) ব্যাংক ড্রাফট

খ) নোট প্রচলন

গ) বৈদেশিক ঋণের হিসাব করা

ঘ) ঋণ নিয়ন্ত্রণ

সঠিক উত্তর: (ক)

৬৬.জনাব মিজান একজন বেসরকারি চাকরিজীবী। তিনি তার হিসাব থেকে সপ্তাহে এক অথাব দুবার টাকা তোলেন। তার হিসাবটি –

  1. চলতি হিসাব
  2. সঞ্চয়ী হিসাব

iii. স্থায়ী হিসাব

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i

খ) ii

গ) iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (খ)

৬৭.বিনিময়ের মাধ্যম সৃষ্টি করা কোনটির কাজ?

ক) বাংলাদেশ ব্যাংকের

খ) বাণিজ্যিক ব্যাংকের

গ) বিশেষায়িত ব্যাংকের

ঘ) ঋণদানকারী সংস্থার

সঠিক উত্তর: (খ)

৬৮.বাণিজ্যিক মুনাফা ব্যাংকসমূহ লাভের উদ্দেশ্যে কোনটি প্রদান করে?

ক) দীর্ঘমেয়াদি ঋণ

খ) মধ্যমেয়াদি ঋণ

গ) স্বল্পমেয়াদি ঋন

ঘ) বার্ষিক সঞ্চয়পত্র

সঠিক উত্তর: (গ)

৬৯.কোনটি ব্যবসা বাণিজ্যের প্রাণ?

ক) কেন্দ্রীয় ব্যাংক

খ) বাণিজ্যিক ব্যাংক

গ) গ্রামীণ ব্যাংক

ঘ) সমবায় ব্যাংক

সঠিক উত্তর: (খ)

৭০.মুদ্রার অভ্যন্তরীণ ও বহির্মূল্য স্থিতিশীল রাখার দায়িত্ব কোনটির ওপর ন্যস্ত?

ক) সরকারের

খ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

গ) বাণিজ্যিক ব্যাংকের

ঘ) ব্যবসায়ীদের

সঠিক উত্তর: (খ)

৭১.মামলা মোকদ্দমার জন্য কোনটি প্রদান করতে হয়?

ক) উকিল ফি

খ) কোর্ট ফি

গ) রেজিষ্ট্রেশন

ঘ) বিচারপতির ফি

সঠিক উত্তর: (খ)

৭২.বাংলাদেশ গৃহ নির্মাণ ঋণদান সংস্থার অনুমোদিত মূলধন কত?

ক) ১০ কোটি টাকা

খ) ১৫ কোটি টাকা

গ) ২০ কোটি টাকা

ঘ) ২৫ কোটি টাকা

সঠিক উত্তর: (ক)

৭৩.“বাণিজ্যিক ব্যাংককে জনসাধারণের সঞ্চিত অর্থের সুদ মূলত জনসাধারণই দিয়ে থাকে –

  1. ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার মাধ্যমে
  2. ব্যাংককে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে

iii. ব্যাংককে জরিমানা প্রদানের মাধ্যমে

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i

খ) ii

গ) iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (ক)

৭৪.নিচের কোন কাজটি সোনালী ব্যাংকের?

ক) বিদেশ থেকে গাড়ি আমদানিতে অর্থ দেওয়া

খ) বৈদেশিক ঋণের হিসাব রাখা

গ) জমিতে সেচের নলকূপ স্থাপনে অর্থ দেওয়া

ঘ) বিনা জামানতে ব্যাংকিং সুবিধা প্রদান করা

সঠিক উত্তর: (ক)

৭৫.বাংলাদেশের ১ ও ২ টাকার নোট কোন ধরনের মুদ্রা?

ক) ব্যাংক মুদ্রা

খ) আদিষ্ট মুদ্রা

গ) অসীম মুদ্রা

ঘ) ঐচ্ছিক মুদ্রা

সঠিক উত্তর: (খ)

৭৬.সঞ্চয়ী আমানত সপ্তাহে কতবার উঠানো যায়?

ক) এক

খ) দুই

গ) তিন

ঘ) চার

সঠিক উত্তর: (খ)

৭৭.কোনটি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে আর্থিক সংকটের হাত থেকে রক্ষা করে?

ক) সরকার

খ) রাষ্ট্র

গ) বাংলাদেশ ব্যাংক

ঘ) জনসাধারণ

সঠিক উত্তর: (গ)

৭৮.মারুফ সাহেব কৃষি ব্যাংক থেকে সার, বীজ, কীটনাশক প্রভৃতি ক্রয় এবং ফসল নিড়ানো, কাটা, মাড়াই ইত্যাদি কাজের ব্যয় নির্বাহের জন্য কৃষিঋণ তোলেন। তার এ ঋণ হলো –

  1. স্বল্পমেয়াদি
  2. মধ্যম মেয়াদি

iii. দীর্ঘমেয়াদি

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i

খ) ii

গ) iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (ক)

৭৯.বাণিজ্যিক ব্যাকে সাধারণত কত প্রকার হিসাব খোলা যায়?

ক) দুই

খ) তিন

গ) চার

ঘ) পাঁচ

সঠিক উত্তর: (খ)

৮০.কোনটির প্রদত্ত ঋণ দেশের মোট মুদ্রার যোগানের অন্তর্ভুক্ত?

ক) বাংলাদেশ ব্যাংক

খ) বাণিজ্যিক ব্যাংক

গ) বিশেষায়িত ব্যাংক

ঘ) ঋণদানকারী সংস্থা

সঠিক উত্তর: (খ)

৮১.আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান করে –

  1. অনুন্নত দেশসমূহকে
  2. উন্নয়নশীল দেশসমূহকে

iii. উন্নত, অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসমূহকে

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i

খ) ii

গ) iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (গ)

৮২.আবগারি শুল্ক ধার্য করা হয় যে ধরনের দ্রব্যর –

  1. চিনির ওপর
  2. লবণের ওপর

iii. তামাকের ওপর

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii

খ) ii ও iii

গ) i ও iii

ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: (গ)

৮৩.বাংলাদেশ কী ধরনের দেশ?

ক) উন্নত

খ) অনুন্নত

গ) উন্নয়নশীল

ঘ) নিম্ন আয়ের

সঠিক উত্তর: (গ)

৮৪.হুন্ডির মাধ্যমে ব্যবসায়িক লেনদেন হওয়ার কারণ –

  1. নগদ অর্থের অভাব
  2. বৈদেশিক মুদ্রার সংকট

iii. সহজ ও নিরাপদ লেনদেনের তাগিদ

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i

খ) ii

গ) iii

ঘ) ii ও iii

সঠিক উত্তর: (গ)

৮৫.বাণিজ্যিক ব্যাংক কোন ক্ষেত্রে মূল্যবান সম্পত্তি বন্ধক রাখে?

ক) জামানতের

খ) ঋণ প্রদানের

গ) অর্থপ্রাপ্তির

ঘ) কর্মকর্তা নিয়োগের

সঠিক উত্তর: (খ)

* উদ্ধৃত অংশটুকু পড় এবং নিচের ২টি প্রশ্নের উত্তর দাও:

রহমান সাহেব কাপড়ের ব্যবসা করেন। এ কাজে প্রয়োজনে তিনি ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করেন। কখনো কখনো কাপড় বেশি বিক্রি হলে তিনি উদ্বৃত্ত টাকা উক্ত ব্যাংকে জমা রাখেন।

৮৬.রহমান সাহেবের লেনদেনকৃত ব্যাংকটি কী ধরনের ব্যাংক?

ক) কেন্দ্রীয় ব্যাংক

খ) বাণিজ্যিক ব্যাংক

গ) বিশেষায়িত ব্যাংক

ঘ) সমবায় ব্যাংক

সঠিক উত্তর: (খ)

৮৭.উক্ত ব্যাংকের স্বল্পকালের ঋণ প্রদানের কারণ –

  1. চাওয়া মাত্র আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে হয়
  2. ঋণের ঝুঁকি হ্রাসের জন্য

iii. স্বল্পকালীন ঋণে বেশি মুনাফা অর্জিত হয়

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i

খ) ii

গ) iii

ঘ) i ও ii

সঠিক উত্তর: (ক)

 

 

 

 

বোর্ড ও সেরা স্কুলের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন- ১  সুষম বাজেট নিচে একটি কাল্পনিক বাজেট দেওয়া হলো (অর্থ বছর ২০০৭-০৮) :

আয় (হাজার কোটি টাকা) ব্যয় (হাজার কোটি টাকা)

রাজস্ব প্রাপ্তি ৫০ প্রতিরক্ষা  ৫০

কর রাজস্ব ৪০ বেঃ প্রশাসন ৪০

কর ব্যতীত প্রাপ্তি ২০ শিক্ষা ২০

বৈদেশিক অনুদান ৩০ অপ্রত্যাশিত ব্যায় ৩০

[স. বো. ’১৬]

ক. বাজেট কী? ১

খ. চলতি বাজেট ও মূলধন বাজেটের মধ্যে পার্থক্য কী? ২

গ. ছকে বর্ণিত বাজেটটি কী ধরনের বাজেট? বিশ্লেষণ কর। ৩

ঘ. ছকে উল্লিখিত বাজেটটির কোন খাতে অধিক পরিমাণ ব্যয় বরাদ্দ করা উচিত বলে তুমি মনে কর? ৪

উত্তরঃ- ক আয় ও ব্যয়ের সুবিন্যস্ত হিসাবই বাজেট।

উত্তরঃ- খ চলতি বাজেটে সরকারের চলতি আয় ও চলতি ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়। চলতি আয় সংগৃহীত হয় কর রাজস্ব ও কর বর্হিভ‚ত রাজস্ব হতে। চলতি বাজেটের ব্যয়ের খাতগুলো যেমন : শিক্ষা, জনপ্রশাসন, বিচারবিভাগ, পুলিশ প্রশাসন ইত্যাদি। অন্যদিকে সরকারের মূলধন আয় ও ব্যয়ের হিসাব যে বাজেটে দেখানো হয় তাকে মূলধন বাজেট বলে। এ বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো দেশের ও জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন সাধন করা। এ লক্ষ্যে সরকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়ন করে এবং বাস্তবায়নের জন্য অর্থসংস্থান করে।

উত্তরঃ- গ ছকে বর্ণিত বাজেটটি হলো সুষম বাজেট। কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সরকারের প্রত্যাশিত আয় এবং সম্ভাব্য ব্যয়ের পরিমাণ সমান হলে তাকে সুষম বাজেট বলে। এ বাজেটে আয়ের সাথে সঙ্গতি রেখে ব্যয় করা হয় বলে দেশে মুদ্রাস্ফীতি বা দ্রব্যের দাম দ্রæত বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম থাকে। ফলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। তবে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে বেকারত্ব দূর করতে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে এবং জরুরি অবস্থা মোকাবেলা করতে এটি সহায়ক নয়।

সুষম বাজেটের সূত্র :

সুষম বাজেট = মোট আয়-মোট ব্যয় = ০

অর্থাৎ, মোট আয় = মোট ব্যয়

উদ্দীপকের অর্থবছর ২০০৭-২০০৮ এর কাল্পনিক বাজেটেও দেখা যায়, মোট আয় = (৫০ + ৪০ + ২০ + ৩০) হাজার কোটি টাকা বা ১৪০ হাজার কোটি টাকা। আবার বিভিন্ন খাতে মোট ব্যয় = (৫০ + ৪০ + ২০ + ৩০) হাজার কোটি টাকা বা ১৪০ হাজার কোটি টাকা।

অর্থাৎ কাল্পনিক বাজেটটিতে মোট আয় ও মোট ব্যয় সমান। সুতরাং নিঃসন্দেহে ছকে বর্ণিত বাজেটটি একটি সুষম বাজেট।

উত্তরঃ- ঘ আমি মনে করি ছকে উল্লিখিত বাজেটটির শিক্ষা খাতে অধিক পরিমাণ ব্যয় বরাদ্দ করা উচিত। বিশেষ করে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে শিক্ষা খাতে অধিক পরিমাণ বাজেটে বরাদ্দ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ সরকার মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষার স¤প্রসারণ ও গুণগত মান উন্নয়ন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার, নারী শিক্ষার উন্নয়ন, ছাত্রছাত্রীদের মেধা বিকাশে বৃত্তি সংখ্যা ও হার বৃদ্ধি এবং উচ্চশিক্ষার প্রসারে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। শিক্ষার সাথে প্রযুক্তির সমাবেশ ঘটিয়ে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার প্রতি বছর তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে প্রচুর পরিমাণে অর্থ ব্যয় করে। ২০১১-১২ অর্থবছরে এ খাতে সরকারের ব্যয় হয়েছে ১৮৭৬৯ কোটি টাকা। আর এ ব্যয় বরাদ্দ ছিল সর্বোচ্চ। আমি এ বরাদ্দকে সমর্থন করি এবং মনে করি উন্নয়নশীল দেশে শিক্ষা খাতেই অধিক পরিমাণ ব্যয় বরাদ্দ হওয়া উচিত।

প্রশ্ন- ২  বাংলাদেশ সরকারের আয়ের উৎসসমূহ মি. এমরান একজন সফল উদ্যোক্তা। সিলেটে তার একটি চা কারখানা রয়েছে। তিনি তার উৎপাদিত পণ্যের ওপর প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কর প্রদান করেন। তার প্রতিবেশী আরও কয়েকজন শিল্পপতি আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যে নিয়োজিত এবং বিপুল সম্পদের মালিক। কিন্তু তারা কর ফাঁকি দেন। [স. বো. ’১৫]

ক. কর বহিভর্‚ত রাজস্ব কাকে বলে? ১

খ. উন্নয়নশীল দেশগুলো ঘাটতি বাজেট প্রণয়নে গুরুত্ব দেয় কেন? ব্যাখ্যা কর। ২

গ. মি. এমরান কোন ধরনের কর প্রদান করেন? ব্যাখ্যা কর। ৩

ঘ. মি. এমরান সাহেবের ন্যায় প্রতিবেশী ও অন্যান্যরাও সঠিকভাবে কর প্রদান করলে দেশ আত্মনির্ভরশীল হবেÑ বিশ্লেষণ কর। ৪

উত্তরঃ- ক কর ও শুল্ক ব্যতীত অন্যান্য উৎস থেকে অর্জিত সরকারের আয় বা রাজস্বকে কর বহিভর্‚ত রাজস্ব বলে।

উত্তরঃ- খ কোনো আর্থিক বছরে সরকারের প্রত্যাশিত আয় অপেক্ষা ব্যয়ের পরিমাণ বেশি হলে তাকে ঘাটতি বাজেট বলা হয়। উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির জন্য এ বাজেট সহায়ক। উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো কম মাথাপিছু আয়, অধিক বেকারত্ব, ভ‚মি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহারের অভাব, জনগণের জীবনযাত্রার নিম্নমান, অনুন্নত আর্থসামাজিক অবকাঠামো ইত্যাদি। এমতাবস্থায় ঘাটতি বাজেট প্রণীত হলে ঘাটতি দূর করার জন্য সরকার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ঋণ নেয়। ফলে প্রাকৃতিক সম্পদের পরিপূর্ণ ব্যবহার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়। এতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জন সহজতর হয়। আর তাই উন্নয়নশীল দেশগুলো ঘাটতি বাজেট প্রণয়নে গুরুত্ব দেয়।

উত্তরঃ- গ মি. এমরান কর রাজস্বের অন্তর্ভুক্ত আবগারি শুল্ক প্রদান করেন। দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত দ্রব্যের উপর যে কর ধার্য করা হয়, তাকে আবগারি শুল্ক বলা হয়। রাজস্ব সংগ্রহ ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষতিকর দ্রব্যের ভোগ হ্রাস করার উদ্দেশ্যেও আবগারি শুল্ক ধার্য করা হয়। বাংলাদেশে প্রধানত চা, সিগারেট, চিনি, তামাক, কোরোসিন, ওষুধ, স্পিরিট, দিয়াশলাই প্রভৃতি দ্রব্যের ওপর আবগারি শুল্ক ধার্য করা হয়। উদ্দীপকের সফল উদ্যোক্তা মি. এমরান সিলেটে তার চা কারখানায় উৎপাদিত পণ্য তথা চায়ের ওপর প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কর প্রদান করেন। সুতরাং নির্দ্বিধায় বলা যায়, মি. এমরান প্রদত্ত কর হচ্ছে আবগারি শুল্ক।

উত্তরঃ- ঘ উদ্দীপকে মি. এমরান একজন শিল্পপতি যিনি আবগারি শুল্কের আওতায় বিপুল পরিমাণ কর প্রদান করেন। অথচ তার প্রতিবেশী আরও কয়েকজন শিল্পপতি আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যে নিয়োজিত ও বিপুল সম্পদের মালিক হলেও কর ফাঁকি দেন। অথচ সবার নিয়মমতো কর প্রদানেই দেশ আত্মনির্ভরশীল হয়। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল জনকল্যাণকামী রাষ্ট্র। দেশটি উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথের যাত্রী। বাংলাদেশ সরকার দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, মানব সম্পদ উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, দেশ রক্ষা ও পরিচালনা এবং জনগণের সার্বিক কল্যাণের জন্য প্রতিবছর প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। গণতন্ত্রের উন্মেষ ও উন্নয়নের ফলে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের পরিধি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অউন্নয়ন বাজেটের পাশাপাশি দেশকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলার জন্য উন্নয়ন বাজেটে বরাদ্দ এবং খাতও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিকল্পিত উপায়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জন করে দেশকে আত্মনির্ভরশীল করতে তাই প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সরকারের আয়ের উৎস কর ও রাজস্ব খাতগুলোর বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এমতাবস্থায় দেশের জনগণের কর ফাঁকি দেওয়া উন্নয়নের পথে মারাত্মক অন্তরায়। নাগরিক হিসেবে সবারই উচিত নিয়মমাফিক কর দেওয়া। বস্তুত এ প্রেক্ষিতেই এ কথা সমর্থনযোগ্য যে, মি. এমরান সাহেবের ন্যায় প্রতিবেশী ও অন্যান্যরাও সঠিকভাবে কর প্রদান করলে তথা দেশের নাগরিক কর প্রদানে সচেতন হলে দেশ আত্মনির্ভরশীল হবে।

প্রশ্ন- ৩  বাংলাদেশ সরকারের বাজেট ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকারের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে সরকারি আয় ও ব্যয়ের পরিমাণ নিচে দেওয়া হলো :

মোট আয় ১,৮২,৯৫৪ কোটি টাকা

মোট ব্যয় ২,৫০,৫০৬ কোটি টাকা

আয়ের খাতসমূহ : এনবিআর কর রাজস্ব ১,৪৯,৭২০ কোটি টাকা

এনবিআর বহিভর্‚ত কর রাজস্ব ৫,৫৭২ কোটি টাকা

করবহিভর্‚ত রাজস্ব ২৭,৬৬২ কোটি টাকা

[খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ, খুলনা]

ক. বাজেট কী? ১

খ. বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ের প্রধান খাতটি ব্যাখ্যা কর। ২

গ. উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটটির প্রকৃতি ব্যাখ্যা কর। ৩

ঘ. সারণিতে প্রদর্শিত আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান পূরণে করণীয় কী হতে পারে? বিশ্লেষণ কর। ৪

উত্তরঃ- ক বাজেট হলো সরকারের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয়ের সুবিন্যস্ত হিসাব।

উত্তরঃ- খ বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ের প্রধান খাত হলো জনপ্রশাসন খাত। রাষ্ট্রের কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সরকারকে জনপ্রশাসন পরিচালনা করতে হয়। প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অফিস পরিচালনাবাবদ সরকারকে যে অর্থ ব্যয় করতে হয় তা এ খাতের অন্তর্ভুক্ত। ২০১১-১২ অথবছরে এ খাতে সরকারের ব্যয় হয় ৫৩,২৩৭ কোটি টাকা।

উত্তরঃ- গ উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটটি ঘাটতি বাজেট। কোনো আর্থিক বছরে সরকারের প্রত্যাশিত আয় অপেক্ষা ব্যয়ের পরিমাণ বেশি হলে তাকে ঘাটতি বাজেট বলা হয়। অন্যভাবে বলা যায়, সরকারের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি নির্ধারিত হলে তা ঘাটতি বাজেট অর্থাৎ ঘাটতি বাজেট = (মোট আয়-মোট ব্যয়) ০ = মোট আয়  মোট ব্যয়। ঘাটতি বাজেটের এ বৈশিষ্ট্য বিচারে উদ্দীপকের বাজেটটি ঘাটতি বাজেট। উদ্দীপকের ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকারের বাজেটের খণ্ডাংশ দেখানো হয়েছে। বাজেটটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাজেটটিতে মোট আয় ১,৮২,৯৫৪ কোটি টাকা এবং মোট ব্যয় ২,৫০,৫০৬ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এক্ষেত্রে ঘাটতি (২,৫০,৫০৬-১,৮২,৯৫৪) = ৬৭,৫৫২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এ বাজেটটিতে মোট আয় অপেক্ষা মোট ব্যয় বেশি ধরা হয়েছে। তাই বাজটটি ঘাটতি বাজেট।

উত্তরঃ- ঘ সারণিতে প্রদর্শিত সরকারি আয় ও ব্যয়ের ঘাটতি পূরণের জন্য বিকল্প উৎস থেকে অর্থ সংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশ আর্থসামাজিক উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দারিদ্র্যবিমোচন, দেশরক্ষা ও পরিচালনা এবং জনগণের সার্বিক কল্যাণের জন্য সরকারকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। সরকার কর রাজস্ব ও করবহিভর্‚ত খাত থেকে এ অর্থ সংগ্রহ করে। কিন্তু জাতীয় উন্নয়নের জন্য আয়ের তুলনায় বেশি ব্যয় নির্ধারণ করলে অর্থাৎ ঘাটতি বাজেট প্রণয়ন করলে বিকল্প খাত থেকে সরকারকে ঘাটতি পূরণ করতে হয়। উদ্দীপকে বাজেটে যে ৬৭,৫৫২ কোটি টাকার ঘাটতি লক্ষ করা যায় তা পূরণের জন্য বাংলাদেশ সরকার কর রাজস্ব ও করবহিভর্‚ত রাজস্ব ছাড়া আরো কিছু খাত চি‎িহ্নত করে। যেমন জনসাধারণের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ, নতুন অর্থ সৃষ্টি, কেন্দ্রীয় ব্যাংক হতে ঋণ গ্রহণ করতে পারে। এসব অভ্যন্তরীণ উৎস ছাড়া বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্য গ্রহণ করেও সরকার এ ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করবে। উপরিউক্ত আলোচনায় বলা যায়, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিকল্প উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে বাংলাদেশ সরকার বাজেটের ঘাটতি পূরণ করবে।

মাস্টার ট্রেইনার প্রণীত সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন- ৪  বাংলাদেশ সরকারের আয়ের উৎসসমূহ

মহিউদ্দিন খান সাহেব একটি অটোমোবাইলের মালিক। তিনি জার্মানি, আমেরিকা ও ইংল্যান্ড থেকে গাড়ি আমদানি করেন। গাড়িগুলোর দাম কম হলেও বাংলাদেশ সরকারকে একটি বিরাট অঙ্কের টাকা দিতে হয় বলে তার আমদানিকৃত গাড়ির দাম বেড়ে যায়। আর তার ভাইয়ের একটি সিগারেট কোম্পানি আছে। তিনিও বছরে একটি বড় অঙ্কের কর প্রদান করেন।

ক. বাংলাদেশ কোন ধরনের দেশ? ১

খ. রেলওয়ে খাতে মুনাফার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে কেন? ২

গ. মহিউদ্দিন খান সাহেবের প্রদত্ত করটি কী ধরনের কর? ব্যাখ্যা কর। ৩

ঘ. সামাজিক কারণে তার ভাইয়ের উৎপাদিত পণ্যের ওপর করারোপ করা হয়Ñ বিশ্লেষণ কর। ৪

উত্তরঃ- ক বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ।

উত্তরঃ- খ আধুনিকায়নের কারণে রেলওয়ে খাতে মুনাফার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ সরকার রেলওয়ে যাত্রীবহন ও দ্রব্যসামগ্রী পরিবহনের ভাড়া বাবদ আয় করে। গত কয়েক বছর ধরে রেলওয়ের উন্নয়নের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। রেলওয়ে খাতে আধুনিকায়ন করা হয়েছে এবং রেলওয়ে সেবাও সপ্রসারণ করা হয়েছে। তাই এটি এখন আয়ের বড় উৎসে পরিণত হয়েছে।

উত্তরঃ- গ মহিউদ্দিন খান সাহেবের প্রদত্ত করটি আমদানি শুল্ক। দেশের চাহিদা পূরণের জন্য অনেক পণ্য ও সেবা বিদেশ হতে আমদানি করতে হয়। এসব আমদানিকৃত পণ্য ও সেবার ওপর কর ধার্য হয়। এসব করকে আমদানি শুল্ক বলা হয়। এটি বাংলাদেশ সরকারের আয়ের অন্যতম উপায়। উদ্দীপকের আমদানিকারক মহিউদ্দিন সাহেব এ করই প্রদান করেন। তিনি জার্মানি, আমেরিকা ও ইংল্যান্ড হতে গাড়ি আমদানি করে বিক্রি করেন। তার এসব আমদানিকৃত গাড়ির ওপর তিনি সরকারকে বিরাট অঙ্কের টাকা কর হিসেবে প্রদান করেন যা আমদানি শুল্ক নামে পরিচিত। সুতরাং মহিউদ্দিন খান সাহেবের প্রদত্ত করটি আমদানি শুল্ক।

উত্তরঃ- ঘ রাজস্ব আদায় ছাড়াও সামাজিক ক্ষতির দিকটি বিবেচনা করে মহিউদ্দিন খান সাহেবের ভাইয়ের উৎপাদিত সিগারেটের ওপর আবগারি শুল্ক আরোপ করা হয়। দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত দ্রব্যের ওপর যে কর আরোপ করা হয়, তাকে আবগারি শুল্ক বলা হয়। চা, সিগারেট, চিনি, তামাক, কেরোসিন, ওষুধ, স্পিরিট, দিয়াশলাই প্রভৃতি দ্রব্যের ওপর এ শুল্ক ধার্য করা হয়। এ উৎস হতে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকার ১২৫১ কোটি টাকা আয় করে। শুধু রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য এ কর আরোপ করা হয় না। বরং এসব ক্ষতিকর দ্রব্যের ব্যবহার হ্রাস করে সামাজিক কল্যাণের উদ্দেশ্যেও এ কর আরোপ করা হয়। উদ্দীপকের মহিউদ্দিন খান সাহেবের ভাইয়ের একটি সিগারেট কোম্পানি আছে। তার কোম্পানির উৎপাদিত সিগারেট মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য তথা গোটা সমাজের জন্যই ক্ষতিকর। এজন্য দ্রব্যটি যত কম ব্যবহার করা যায়, ততই সমাজের জন্য মঙ্গল। এমতাবস্থায় এই ক্ষতিকর সিগারেটের ওপর কর আরোপ করলে এর দাম বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যবহার হ্রাস পাবে। সরকার তার কাছ থেকে কর নিয়ে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করলেও মূলত সামাজিক কল্যাণের কথা চিন্তা করে তার উৎপাদিত পণ্যের ওপর আবগারি শুল্ক ধার্য করেছে। পরিশেষে বলা যায়, সামাজিক কল্যাণের উদ্দেশ্যেই উদ্দীপকের মহিউদ্দিন খান সাহেবের ভাইয়ের উৎপাদিত সিগারেটের ওপর আবগারি শুল্ক ধার্য করা হয়েছে।

প্রশ্ন- ৫  বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ের খাতসমূহ

উদ্দীপক-১ : হারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি অনেক পুরাতন। বর্ষার সময় বৃষ্টির পানি পড়ে। তাই প্রধান শিক্ষকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২৮ লাখ টাকা বরাদ্দ হয় কম্পিউটার ক্রয় এবং নতুন ভবন তৈরির জন্য।

উদ্দীপক-২ : জমির মিয়া একজন হতদরিদ্র কৃষক। তিনি তার ২বিঘা জমিতে ঠিকমতো চাষাবাদ করতে পারেন না। এজন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরকারিভাবে সার-ওষুধের ব্যবস্থা করে দেন।

ক. আমাদের দেশে বাজেটকে সাধারণত কয় ভাগে বিভক্ত করে উপস্থাপন করা হয়? ১

খ. মূলধন বাজেটের মূল লক্ষ্য কী? ব্যাখ্যা কর। ২

গ. উদ্দীপক ১-এ চিত্রিত সরকারি ব্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা কর। ৩

ঘ. উদ্দীপকের ব্যয়ের খাতসমূহে পর্যাপ্ত বরাদ্দের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনেতিক উন্নয়ন সম্ভব কি? তোমার মতামত দাও। ৪

উত্তরঃ- ক আমাদের দেশে বাজেটকে সাধারণত দুই ভাগে বিভক্ত করে উপস্থাপন করা হয়।

উত্তরঃ- খ মূলধন বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জন করা। সরকারের মূলধন আয় ও ব্যয়ের হিসাব যে বাজেটে দেখানো হয় তাকে মূলধন বাজেট বলা হয়। এ বাজেটের মাধ্যমে দেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। কৃষি, শিল্প, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, মহিলা ও যুব উন্নয়ন, পরিবহন ও যোগাযোগ ইত্যাদি খাতের উন্নয়নে এ বাজেট প্রণীত হয়। সর্বোপরি দেশ ও জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নই মূলধন বাজেটের মূল লক্ষ্য।

উত্তরঃ- গ উদ্দীপক ১-এ চিত্রিত শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সরকারের ব্যয়ের কারণ হলো মানবসম্পদ তৈরি করা। বাংলাদেশের ন্যায় উন্নয়নশীল জনকল্যাণকামী রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য শিক্ষা ও প্রযুক্তির উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। একমাত্র এ খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ দিলেই কেবল উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় জনসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার এ লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা স¤প্রসারণ ও গুণগত মান উন্নয়ন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার, নারী শিক্ষার উন্নয়ন, ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি প্রদানের জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করছে। উদ্দীপক ১-এও এ দিকটিই লক্ষণীয়। উদ্দীপকের হারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কম্পিউটার ক্রয় ও নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সরকার অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। এটি বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত। সরকারের এ ব্যয়ের ফলে ঐ এলাকায় শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাবে। ফলে প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ তৈরি হবে। সুতরাং উদ্দীপক-১-এর সরকারি ব্যয়ের কারণ হলো দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা।

উত্তরঃ- ঘ উদ্দীপকের শিক্ষা ও প্রযুক্তি এবং কৃষি খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের মাধ্যমে বাংলাদেশের কাক্সিক্ষত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব বলে আমি মনে করি। বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল দেশ। দেশটির অর্থনীতি পুরোপুরি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এজন্য কৃষি খাতের উন্নয়ন ছাড়া দেশের সার্বিক উন্নয়ন প্রত্যাশা করা বৃথা। তাছাড়া বাংলাদেশ একটি জনবহুল রাষ্ট্র হলেও দক্ষ ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠী গড়ে ওঠেনি। এমতাবস্থায় দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে উদ্দীপকের খাতদ্বয়ে পর্যাপ্ত বাজেট জরুরি। উদ্দীপক ১-এ সরকারের শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের ব্যয় দেখানো হয়েছে। এখানে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিলে দেশে শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাবে। ফলে জনসংখ্যা বোঝা না হয়ে সম্পদে পরিণত হবে। আর দক্ষ জনগোষ্ঠী দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাকাকে গতিশীল করতে পারবে। অন্যদিকে উদ্দীপক ২-এ সরকারের কৃষি খাতের ব্যয় ফুটে ওঠেছে। এ খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করলে কৃষির আধুনিকায়ন সম্ভব হবে। দরিদ্র কৃষকদের বিনামূল্যে সার-ওষুধ ও ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করলে দেশের সার্বিক উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। ফলে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের কৃষি ও শিক্ষা খাতে ব্যয়ের পরিমাণ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন সাধন করা সম্ভব বলে আমি মনে করি।

প্রশ্ন- ৬  বাজেটের প্রকারভেদ নিচে ছকটি দেখে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

বাংলাদেশ সরকারের ২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেটের খণ্ডাংশ

ক খ

খাতের নাম ব্যয়ের পরিমাণ (কোটি) খাতের নাম ব্যয়ের পরিমাণ (কোটি)

শিক্ষা ১৮৭৬৯ পরিবহন ও যোগাযোগ ১০৪৮৬

জনপ্রশাসন ৫৩২৩৭ কৃষি ১৪৩৫৩

জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ৮৬০২ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ৭৯৫৭

জনস্বাস্থ্য ৮১৬৯ স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন ১২০০৯

ক. কত সাল থেকে ঠঅঞ চালু হয়েছে? ১

খ. রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে কেন? ২

গ. আয়-ব্যয়ের প্রকৃতির বিচারে উদ্দীপকে ‘ক’ পাশের খাতগুলো কোন বাজেটের অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা কর। ৩

ঘ. দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ‘ক’ অপেক্ষা ‘খ’ পাশের বাজেট জরুরিÑ বিশ্লেষণ কর। ৪

উত্তরঃ- ক ১৯৯১-৯২ সাল থেকে ঠঅঞ চালু হয়েছে।

উত্তরঃ- খ গণতন্ত্রের উন্নয়নের ফলে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের পরিধি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান বিশ্বে অধিকাংশ রাষ্ট্রই গণতান্ত্রিক এবং উন্নয়নশীল কল্যাণকামী রাষ্ট্র। রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের অংশগ্রহণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এজন্য দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্যবিমোচন, দেশ রক্ষা ও পরিচালনা এবং জনগণের সার্বিক কল্যাণসহ সরকারের রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উত্তরঃ- গ আয়-ব্যয়ের প্রকৃতি বিচারে উদ্দীপকের ‘ক’ পাশের খাতগুলো চলতি বাজেটের অন্তর্ভুক্ত। যে বাজেটে সরকারের চলতি আয় ও চলতি ব্যয় দেখানো হয় তাকে চলতি বাজেট বলা হয়। কর রাজস্ব ও করবহিভর্‚ত রাজস্বের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ সরকারের প্রশাসনিক কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও দেশ রক্ষার জন্য ব্যয় করা হয়। এ বাজেটের ব্যয়ের খাতগুলোর মধ্যে শিক্ষা, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উল্লেখযোগ্য। উদ্দীপকে ‘ক’ পাশে বাংলাদেশের ২০১১-১২ অর্থবছরের চলতি বাজেটের অন্তর্ভুক্ত ব্যয়ের খাতগুলো পরিলক্ষিত হয়। ছকের ‘ক’ পাশে শিক্ষা, জনপ্রশাসন, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা এবং জনস্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ের পরিমাণ দেখানো হয়েছে। আর এ খাতগুলো হলো সরকারের চলতি ব্যয়। প্রতিবছরই সরকারকে এ খাতে ব্যয় করতে হয়। দেশ পরিচালনার জন্য এগুলো অপরিহার্য। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ‘ক’ পাশের খাতগুলো আয়-ব্যয়ের প্রকৃতি বিচারে চলতি বাজেটের মধ্যে পড়ে।

উত্তরঃ- ঘ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জনে ‘ক’ পাশের চলতি বাজেটের চেয়ে ‘খ’ পাশের মূলধন বাজেট অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। সরকারের মূলধন আয় ও ব্যয়ের হিসাব যে বাজেটে দেখানো হয় তাকে মূলধন বাজেট বলা হয়। এ ধরনের বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো দেশের এবং জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন সাধন করা। এ লক্ষ্যে সরকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়ন করে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস হতে অর্থসংস্থান করে। এ বাজেটের আওতায় কৃষি, শিল্প, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, মহিলা ও যুব উন্নয়ন, পরিবহন ও যোগাযোগ, পল্লি উন্নয়ন ইত্যাদি খাতে অর্থ ব্যয় করা হয়। আর একটি দেশের কাক্সিক্ষত অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এ খাতগুলোর উন্নয়ন জরুরি। ছকের ‘ক’ পার্শ্বে চলতি বাজেট এবং ‘খ’ পার্শ্বে মূলধন বাজেট দেখানো হয়েছে। চলতি বাজেট শুধুমাত্র সরকারের প্রশাসনিক কার্য পরিচালনা ও দেশরক্ষার জন্য প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু মূলধন বাজেট দেশের জনগণের আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জনের উন্নয়নের জন্য প্রণীত হয়। উদ্দীপকের ‘খ’ পার্শ্বের পরিবহন ও যোগাযোগ, কৃষি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লি উন্নয়ন খাতগুলো অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। এ জন্য এ খাতগুলোর উন্নয়ন অত্যাবশ্যক। আলোচনা থেকে বলা যায়, অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে উদ্দীপকের চলতি বাজেট অপেক্ষা মূলধন বাজেট অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন- ৭  বাংলাদেশ সরকারের বাজেট নিচের ছকটি দেখে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

এক নজরে বাজেট ২০১৩-১৪

বিবরণ ব্যয়ের পরিমাণ (কোটি টাকা)

মোট আয় ১,৭৪,১২৯

মোট ব্যয় ২,২২,৪৯১

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ৬৫,৮৭০

জিডিপির শতকরা হার -৪.১

ক. ২০১১-১২ অর্থবছরে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় কত? ১

খ. বাংলাদেশে অনুন্নয়নমূলক খাতে সরকারি ব্যয় হ্রাস করা উচিত কেন? ২

গ. উদ্দীপকের বাজেটের সাথে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটের পরিবর্তনের ধারা ব্যাখ্যা কর। ৩

ঘ. বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উক্ত ছকের বাজেটটি কি মঙ্গলজনক? মতামত দাও। ৪

উত্তরঃ- ক ২০১১-১২ অর্থবছরে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় ১২,২৪০ কোটি টাকা।

উত্তরঃ- খ দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে অনুন্নয়নশীল খাতে ব্যয় হ্রাস করা উচিত। সরকারি হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে অনুন্নয়নমূলক ব্যয়ের খাত ৫৫টি এবং উন্নয়নমূলক ব্যয়ের খাত ১৮টি। ফলে উন্নয়নের গতি আশানুরূপ হচ্ছে না। এজন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধি করা দরকার। আর তাই উন্নয়নমূলক খাতে ব্যয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে অনুন্নয়নমূলক খাতে ব্যয় হ্রাস করা উচিত।

উত্তরঃ- গ ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বাজেটের তুলনায় উদ্দীপকের ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটটির আয়, ব্যয় ও উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দের পরিমাণ বেশি। বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল দেশ। অন্যান্য দেশের ন্যায় এদেশেও প্রতি বছর সরকারের আয়-ব্যয়ের প্রেক্ষিতে বাজেট প্রণয়ন করা হয়। দিন দিন বাজেটের পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ছকের বাজেটের সাথে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটের তুলনা করলে পরিবর্তনের এ ধারাটি সহজে অনুমান করা যায়। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটে মোট আয় ছিল ১,৭৪,১২৯ কোটি টাকা, মোট ব্যয় ছিল ২,২২,৪৯১ কোটি টাকা এবং ঘাটতি ছিল ৫৫,০৩২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এটি ঘাটতি বাজেট। অন্যদিকে ছকের ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটটিতে মোট আয় ছিল ২,৪৮,২৬৮ কোটি টাকা, মোট ব্যয় ছিল ৩,৪০,৬০৫ কোটি টাকা এবং ঘাটতি ছিল ৯২,৩৩৭ কোটি টাকা। এটিও ঘাটতি বাজেট। দেখা যাচ্ছে, এ বাজেটে আয়, ব্যয় ও ঘাটতি বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং দিন দিন বাংলাদেশের বাজেটের আয়তন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উত্তরঃ- ঘ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য উদ্দীপকের ঘাটতি বাজেটটি মঙ্গলজনক বলে আমি মনে করি। কোনো আর্থিক বছরে সরকারের প্রত্যাশিত আয় অপেক্ষা ব্যয়ের পরিমাণ বেশি হলে তাকে ঘাটতি বাজেট বলা হয়। এ বাজেটের ঘাটতি দূর করার জন্য সরকার জনসাধারণের কাছ থেকে ঋণ, নতুন অর্থ সৃষ্টি, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ, বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্য গ্রহণ করে। ফলে প্রাকৃতিক সম্পদের পরিপূর্ণ ব্যবহার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি সহজতর হয়। উন্নয়নশীল দেশে এ বাজেট তাই মঙ্গলজনক। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। এদেশে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক সম্পদ থাকলেও তার যথাযথ ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। আবার অধিকাংশ লোক বেকার, মাথাপিছু আয় কম। জীবনযাত্রার নি¤œমান ইত্যাদি সমস্যা বিদ্যমান। এমতাবস্থায় প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির জন্য ব্যয় বৃদ্ধি করা জরুরি। এক্ষেত্রে ঘাটতি বাজেট প্রণীত হলে গুরুত্বপূর্ণ খাতসমূহে বাড়তি বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়। ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়। পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের সার্বিক প্রেক্ষাপটে উদ্দীপকের ন্যায় ঘাটতি বাজেট মঙ্গলজনক।

প্রশ্ন- ৮  আয়-ব্যয়ের ভারসাম্যের ভিত্তিতে বাজেট

নিচের ছকটি দেখে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

‘ক’ রাষ্ট্রের বাজেট

বিবরণ পরিমাণ (মার্কিন ডলার)

মোট আয় ৯০,৫৭০

মোট ব্যয় ৯০,৫৭০

‘খ’ রাষ্ট্রের বাজেট

বিবরণ পরিমাণ (মার্কিন ডলার)

মোট আয় ৬০,৬৭০

মোট ব্যয় ৭৫,৫৯০

ক. বাংলাদেশে কোন মাসে বাজেট প্রণীত হয়? ১

খ. অউন্নয়ন বাজেটের মূল লক্ষ্য কী? ব্যাখ্যা কর। ২

গ. ‘ক’ রাষ্ট্রের বাজেটটি কী ধরনের বাজেট? ব্যাখ্যা কর। ৩

ঘ. উদ্দীপকের রাষ্ট্রদ্বয়ের বাজেটের মধ্যে বাংলাদেশের জন্য কোন বাজেটকে উপযুক্ত বলে তুমি মনে কর? মতামত দাও। ৪

উত্তরঃ- ক বাংলাদেশের জুন মাসে বাজেট প্রণীত হয়।

উত্তরঃ- খ আউন্নয়ন বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো দেশ রক্ষা ও দেশের প্রশাসন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা। বাজেটের যে অংশে সরকারের দৈনন্দিন চিরাচরিত আয়-ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয় এবং বাজেটের ব্যয়ের খাতগুলো সরাসরি উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত নয় তাকে অউন্নয়ন বাজেট বলা হয়। অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বা উন্নয়নের সাথে এর তেমন যোগসূত্র নেই। বরং সরকারের চলতি আয়-ব্যয়গুলোর জন্য এ বাজেট প্রণীত হয়।

উত্তরঃ- গ আয়-ব্যয়ের ভারসাম্যের ভিত্তিতে ‘ক’ রাষ্ট্রের বাজেটটি হলো সুষম বাজেট। কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সরকারের প্রত্যাশিত আয় ও ব্যয়ের পরিমাণ সমান হলে তাকে সুষম বাজেট বলা হয়। সূত্রের সাহায্যে বিষয়টি পরিষ্কার বোঝা যায়।

সুষম বাজেট = মোট আয় – মোট ব্যয় = ০

অর্থাৎ সম্ভাব্য আয়ের সাথে সঙ্গতি রেখে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। এক্ষেত্রে আয় ও ব্যয়ের পরিমাণ সমান হয়। উদ্দীপকের ‘ক’ রাষ্ট্রের বাজেটটি এ রকম একটি বাজেট। উদ্দীপকের ‘ক’ রাষ্ট্রের বাজেটের মোট আয় ও মোট ব্যয়ের পরিমাণ যথাক্রমে ৯০,৫৭০ কোটি মার্কিন ডলার এবং ৯০,৫৭০ কোটি মার্কিন ডলার। অর্থাৎ দেশটির আয় ও ব্যয় সমান। তাই সার্বিক দিক বিবেচনায় আয়-ব্যয়ের ভারসাম্যের ভিত্তিতে ‘ক’ দেশটির বাজেটটিকে সুষম বাজেট বলে ধরে নেওয়া যায়।

উত্তরঃ- ঘ উদ্দীপকের রাষ্ট্রদ্বয়ের বাজেটের মধ্যে ‘ক’ রাষ্ট্রের ঘাটতি বাজেটটি বাংলাদেশের জন্য উপযুক্ত বলে আমি মনে করি। কোনো আর্থিক বছরে সরকারের প্রত্যাশিত আয় অপেক্ষা ব্যয়ের পরিমাণ বেশি হলে তাকে ঘাটতি বাজেট বলা হয়। উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির জন্য এ বাজেট সহায়ক। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্যও এ বাজেট মঙ্গলজনক। উদ্দীপকের ‘খ’ রাষ্ট্রের বাজেটে ঘাটতি রয়েছে। এ ধরনের বাজেট বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন। বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো কম মাথাপিছু আয়, অধিক বেকারত্ব ভ‚মি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহারের অভাব, জনগণের জীবনযাত্রার নি¤œমান, অনুন্নত আর্থসামাজিক অবকাঠামো ইত্যাদি। এমতাবস্থায় ঘাটতি বাজেট প্রণীত হলে ঘাটতি দূর করার জন্য সরকার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ঋণ নেয়। ফলে প্রাকৃতিক সম্পদের পরিপূর্ণ ব্যবহার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়। এতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জন সহজতর হয়। কিন্তু ‘ক’ রাষ্ট্রের সুষম বাজেট প্রণীত হলে বাংলাদেশ সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে এবং জরুরি অবস্থা মোকাবিলা করতে পারবে না। আলোচনায় এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, বাংলাদেশের জন্য ঘাটতি বাজেটই বেশি উপযোগী।

প্রশ্ন- ৯  বাংলাদেশ সরকারের বাজেট : ঘাটতি বাজেট

‘ক’ একটি উন্নয়নশীল দেশ। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য বাজেট ঘোষণা করেছে দেশটির অর্থমন্ত্রী। মোট রাজস্ব আয় ৬৫,০০০ কোটি ডলার এবং মোট ব্যয় ৭৫,০০০ কোটি ডলার ধরা হয়েছে।

ক. আয়কর কী? ১

খ. মূল্য সংযোজন কর বলতে কী বোঝায়? ২

গ. উদ্দীপকে ‘ক’ দেশটির বাজেট কী ধরনের বাজেট? ব্যাখ্যা কর। ৩

ঘ. দেশটির জন্য বাজেটটি কি মঙ্গলজনক? তোমার মতামত দাও। ৪

উত্তরঃ- ক আয়কর হলো ব্যক্তির আয়ের ওপর ধার্যকৃত কর।

উত্তরঃ- খ মূল্য সংযোজন কর বলতে দ্রব্য বা সেবা উৎপাদনের বিভিন্ন স্তরে সংযোজিত মূল্যের ওপর আরোপিত করকে বোঝায়। উৎপাদন ক্ষেত্রে একটি পণ্য উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল থেকে চ‚ড়ান্ত দ্রব্য উৎপাদন পর্যন্ত কয়েকটি স্তর অতিক্রম করতে হয়। উৎপাদনের এসব স্তরে দ্রব্যের সাথে মূল্য সংযোজিত হয়। আর এ মূল্যের ওপর বাংলাদেশ সরকার ১৯৯১-৯২ অর্থবছর থেকে কর আরোপ করেছে। আর এ করকেই মূল্য সংযোজন কর (ঠধষঁব অফফবফ ঞধী-ঠধঃ) বলা হয়।

উত্তরঃ- গ উদ্দীপকের ‘ক’ দেশটির বাজেট ঘাটতি বাজেট। কোনো আর্থিক বছরে সরকারের প্রত্যাশিত আয় অপেক্ষা ব্যয়ের পরিমাণ বেশি হলে তাকে ঘাটতি বাজেট বলা হয়। অর্থাৎ, মোট আয় < মোট ব্যয়। এক্ষেত্রে সরকারের মোট ব্যয় আয়ের পরিমাণকে অতিক্রম করে। উদ্দীপকের ‘ক’ দেশটিতে এ ধরনেরই একটি বাজেট লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকের উন্নয়নশীল ‘ক’ রাষ্ট্রে অর্থমন্ত্রী বাজেট ঘোষণা করে। বাজেটটি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সরকারের মোট আনুমানিক ব্যয় মোট আয়কে অতিক্রম করে।

অর্থাৎ, মোট আয় < মোট ব্যয়।

= ৬৫,০০০ কোটি ডলার < ৭৫,০০০ কোটি ডলার।

এখানে মোট ঘাটতি হলো (৭৫,০০০  ৬৫,০০০) = ১০,০০০ কোটি ডলার।

সুতরাং আয়-ব্যয়ের ভারসাম্যের ভিত্তিতে উদ্দীপকের ‘ক’ রাষ্ট্রের বাজেটটি হলো ঘাটতি বাজেট।

উত্তরঃ- ঘ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উদ্দীপকের ‘ক’ রাষ্ট্রের বাজেটটি অত্যন্ত মঙ্গলজনক বলে আমি মনে করি। একটি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন প্রাকৃতিক সম্পদের সদ্ব্যবহার করা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি করা ইত্যাদি। এক্ষেত্রে ঘাটতি বাজেট প্রণীত হলে সরকার বাড়তি অর্থ সংগ্রহের জন্য বিকল্প পন্থা অবলম্বন করে। এতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি করে উন্নয়নমূলক কাজ করা সম্ভব হয়। উদ্দীপকের ‘ক’ রাষ্ট্রের জন্যও তাই ঘাটতি বাজেট কল্যাণকর। উদ্দীপকের ‘ক’ রাষ্ট্রে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের অভাব, মাথাপিছু আয় ও জীবনযাত্রার মান নি¤œ রয়েছে। তাই এসব ক্ষেত্রে উন্নতির জন্য বেশি বেশি উন্নয়নমূলক কর্মসূচি হাতে নেওয়া জরুরি। এমতাবস্থায় আয়ের তুলনায় দেশটির ব্যয় বেশি ধরা হলে উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বেশি গ্রহণ করা সম্ভব হবে। সরকারও বিকল্প পন্থা যেমন জনগণের কাছ থেকে ঋণ নতুন অর্থ সৃষ্টি, বৈদেশিক সাহায্য ও ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে ঘাটতি অর্থ সংগ্রহ করবে। ফলে দেশটিতে বেশি বেশি উন্নয়ন হবে। পরিশেষে বলা যায়, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ‘ক’ দেশের বিদ্যমান সমস্যার সমাধান এবং উন্নয়ন করার জন্য ঘাটতি বাজেটই উপযুক্ত বলে আমি মনে করি।

Download From Google Drive

Download

আরো পড়ুনঃ-

Download From Yandex

Download