নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় দ্বিতীয় অধ্যায়ের সকল প্রশ্ন উত্তর

0
21

নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় দ্বিতীয়

অধ্যায়ের সকল প্রশ্ন উত্তর

নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

দ্বিতীয় অধ্যায় : স্বাধীন বাংলাদেশ

প্রশ্ন-১। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কী নামে আখ্যা দেয়া হয়েছে?

উত্তরঃ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে গণযুদ্ধ বা জনযুদ্ধ নামে আখ্যা দেয়া হয়েছে।

প্রশ্ন-২। বাংলাদেশ কত সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভ করে?

উত্তরঃ বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভ করে।

প্রশ্ন-৩। ইয়াহিয়া খান কত তারিখে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেন?

উত্তরঃ ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেন।

প্রশ্ন-৪। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ কোথায় ঐতিহাসিক ভাষণ দেন?

উত্তরঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।

প্রশ্ন-৫। ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ বা বাঙালির ওপর নৃশংস হত্যাকাণ্ড পরিচালনার নীলনকশা কারা তৈরি করে?

উত্তরঃ ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ বা বাঙালির ওপর নৃশংস হত্যাকাণ্ড পরিচালনার নীলনকশা টিক্কা খান, রাও ফরমান আলী তৈরি করে।

প্রশ্ন-৬। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কখন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন?

উত্তরঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।

প্রশ্ন-৭। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ কখন শুরু হয়?

উত্তরঃ ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ অপারেশন সাচ লাইট শুরু হয়।

প্রশ্ন-৮। সংবিধানের কত নম্বর অনুচ্ছেদে ন্যায়পাল পদ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে?

উত্তরঃ বাংলাদেশ সংবিধানে ৭৭ নম্বর অনুচ্ছেদে ন্যায়পাল পদ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে।

প্রশ্ন-৯। মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী কে ছিলেন?

উত্তরঃ মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী।

প্রশ্ন-১০। কত সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল?

উত্তরঃ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।

প্রশ্ন-১১। পাকিস্তানের জন্ম হয় মূলত কীসের ভিত্তিতে?

উত্তরঃ পাকিস্তানের জন্ম হয় মূলত দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে।

প্রশ্ন-১২। জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয় কত তারিখে?

উত্তরঃ জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয় ১৫ আগস্ট।

প্রশ্ন-১৩। ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিসংগ্রামে চীনের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে চীনের ভূমিকা ছিল নেতিবাচক। বাংলাদেশের সঙ্গে তখন চীনের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। চীন ভারত-রাশিয়ার বিরোধী অবস্থানে ছিল। তখন পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের সুসম্পর্ক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। এ কারণে গণচীন আমাদের মুক্তিসংগ্রামে পাকিস্তানকে সর্বাত্মক সাহায্য করে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২১ আগস্ট জাতিসংঘের সদস্য পদ প্রদানের প্রস্তাবে চীন ভেটো প্রদান করে। তাই দেখা যায় যে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে চীন বাংলাদেশের শত্রুপক্ষকে সাহায্য করে নেতিবাচক ভূমিকা পালন করে।

প্রশ্ন-১৪। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে গ্রেট ব্রিটেনের ভূমিকা কী ছিল? ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ মুক্তিযুদ্ধের সময় গ্রেট ব্রিটেনের অবস্থান ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে। ব্রিটেনের মূলধারার গণমাধ্যমগুলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সংগ্রামে পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতা প্রচার করে বিশ্বব্যাপী জনমত সৃষ্টিতে ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়া ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীশিবিরের অবস্থা, বাঙালিদের সংগ্রাম ও যৌক্তিকতা তুলে ধরে। এ সময় ব্রিটেনের জনগণ বাংলাদেশকে অকুণ্ঠ সমর্থন দান করে। ব্রিটেন ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সংগ্রামের পক্ষে বিশ্বব্যাপী প্রচার ও জনমত সৃষ্টির প্রধান ঘাঁটি।

প্রশ্ন-১৫। জেনারেল এরশাদ কীভাবে শাসন ক্ষমতা লাভ করেন?

উত্তরঃ ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান একদল সামরিক কর্মকর্তার হাতে নির্মমভাবে নিহত হওয়ার পর সংবিধান অনুযায়ী উপ-রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ সময় সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। বিচারপতি সাত্তারের দুর্বল নেতৃত্ব, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সীমাহীন দুর্নীতি, দলীয় কোন্দল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, অর্থনৈতিক সংকটের কারণ দেখিয়ে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সামরিক আইন জারি করে রাষ্ট্রের সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

প্রশ্ন-১৬। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ পাকিস্তান আমলের চব্বিশ বছরে বাঙালির স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট সব আন্দোলনে গৌরবোজ্জল ভূমিকা পালন করেছে এদেশের ছাত্রসমাজ। ১৯৪৮-১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ ও ১৯৬৪ সালের শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফার আন্দোলন, ১৯৬৮ সালের ১১ দফার আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ এর নির্বাচন ও ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে বঙ্গবন্ধুর অসহযোগ আন্দোলনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে ছাত্রসমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ছাত্রসমাজের একটি বিশাল অংশ মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়। মুক্তিবাহিনীতে একক গোষ্ঠী হিসেবে ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। মুক্তিযুদ্ধের একপর্যায়ে মুজিব বাহিনী গঠিত হয়েছিল মূলত ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়েই। তাই বলা যায় মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজের ভূমিকা ছিল অসীম।