প্রমিত বাংলা বানানের উদাহরণ সহ ১০টি নিয়ম

0
390

প্রমিত বাংলা বানানের উদাহরণ সহ ১০টি নিয়ম

প্রমিত বাংলা বানান কি / প্রমিত বাংলা বানান কাকে বলে?

প্রমিত শব্দের অর্থ একটি মানে উন্নীত করা হয়েছে এমন। সর্বজনগ্রাহ্য তথা মানসম্মত বাংলা বানানের রূপকেই প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম বলা হয়।

প্রমিত বাংলা বানানের ১০ টি নিয়ম লেখ :

১। তৎসম শব্দসমূহ যথাযথ ও অপরিবর্তিত অবস্থায় থাকবে। যেমন: কারণ, রামায়ণ।

২। যেসব তৎসম শব্দে ই/ঈ এবং উ/ঊ উভয় শুদ্ধ সেসব শব্দে কেবল ই বা উ কার ব্যবহৃত হবে। যেমন: কিংবদন্তি, হাতি, চিৎকার, পাণ্ডিত্য, পদবি।

৩। রেফ এর পরে ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না। যেমন: অর্চনা, অর্জন, অর্থ, কর্দম, কর্তন, সূর্য।

৪। সন্ধিগঠিত শব্দে যদি ক, খ, গ, ঘ পরে থাকে, এসব শব্দের অন্তস্থিত ‘ম’ স্থানে ‘ং’ বসবে।

(ক) প্রত্যয় ও বিভক্তিহীন শব্দে ং বসে। যেমন: অহংকার, ভয়ংকর,   সংগীত,শুভংকর, হৃদয়ংগম।

(খ) প্রত্যয়, বিভক্তি ও স্বরধ্বনিযুক্ত থাকলে ‘ম’ ‘ঙ’ হবে।  এছাড়া ‘ক্ষ’ এ পূর্বে সর্বদা ‘ঙ’ বসে। যেমন: বাঙালি, ভাঙা, আকাঙ্ক্ষা।

৫। পদের শেষে বিসর্গ বসবে না। যেমন: প্রথমত, সাধারণত। তবে অর্থ বিভ্রান্তির সম্ভবনা থাকলে বিসর্গ থাকবে। যেমন: উঃ বাঃ।

৬। ভাষা, প্রাণী, জাতি, বস্তু, বিদেশি, ভাববাচক, কর্মবাচক, পেশাবাচক, কর্তৃবাচক, অতৎসম শব্দে ‘ই’ কার ব্যবহৃত হয়। যেমন:

ভাষা: হিন্দি, আরবি।

প্রাণি: হাতি, মুরগি।

জাতি: বাঙালি, জাপানি।

বিদেশি: ইমান, ইনসান।

৭। তৎসম শব্দে বানানে ণ-ত্ব বিধি এর নিয়ম ও শুদ্ধতা রক্ষা করা হবে। তদ্ভব, দেশি, বিদেশি, মিশ্র, শব্দের বানানে ণ-ত্ব বিধি মানা হবে না। যেমন: অঘ্রাণ, ইরান, কান, কোরান, ঝরনা, সোনা।

৮। তৎসম শব্দের বানানে ষ-ত্ব বিধির নিয়ম মানা আবশ্যক কিন্তু অতৎসম শব্দের ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধি মেনে চলার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। যেমন: শখ, শৌখিন, মসলা, স্টাইল।

৯। ইংরেজি ও ইংরেজির মাধ্যমে আগত বিদেশি ‘S’ বর্ণ বা ধ্বনির জন্য ‘স’এবং sh-sion, ssion, tion প্রভৃতি বর্ণ বা ধ্বনির জন্য ‘শ’ ব্যবহৃত হবে। যেমন: Institutions – ইন্সটিটিউশন।

১০। ‘আনো’ প্রত্যয়ান্ত শব্দের শেষে ‘ো’ – কার যুক্ত করা হবে। যেমন : করানো, বলানো, খাওয়ানো, পাঠানো।