Home সাধারণ জ্ঞান বাংলাদেশের সর্বকালের সবচেয়ে দর্শকপ্রিয় সেরা দশ বাংলা ছবি । The top ten...

বাংলাদেশের সর্বকালের সবচেয়ে দর্শকপ্রিয় সেরা দশ বাংলা ছবি । The top ten most popular Bengali films of all time in Bangladesh

0
587

বাংলাদেশের সর্বকালের সবচেয়ে দর্শকপ্রিয় সেরা দশ বাংলা ছবি ||

সেরা বাংলাদেশী চলচ্চিত্র

বাংলা সিনেমার রয়েছে প্রাচীন ও গৌরবময় ইতিহাস। ১৯২৭ সালে ঢাকার নবাব পরিবারের তরুনদের অনুপ্রেরণায় তৈরি নির্বাক ছবি “সুকুমারি”-র মাধ্যমে বাংলা ছবির যাত্রা শুরু হয়। এর পর ১৯৩১ সালে বাংলাদেশের পূর্ণদৈর্ঘ্যের বাংলা ছবি “দ্য লাস্ট কিস্‌” মুক্তিপায়। ১৯২৭ সালে বাংলাদেশের বাংলা ছবির যাত্রা শুরু হলেও ১৯৫৭ সালে আব্দুল জাব্বার খানের পরিচালনায় ‘মুখ ও মুখোশ’ নামে প্রথম সবাক সিনেমা নতুন ইতিহাস রচনা করে। তারপর আর এ অগ্রযাত্রা থেমে থাকেনি। সময়ের আবর্তনে বাংলা সিনেমার মুকুটে যুক্ত হয়েছে অসংখ্য সোনালী পালক। আর সেইসব সোনালী পালক থেকে সেরা ১০ খুঁজে বের করে আনা খড়ের গাঁদায় সুই খোঁজার মতই তবুও চেষ্টা করতে ক্ষতি কি! বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা দশ বাংলা ছবি
১. তিতাস একটি নদীর নাম
তিতাস একটি নদীর নাম
মুক্তিলাভ -১৯৭৩
পরিচালকঃ ঋত্বিক ঘটক
অভিনয়ে- গোলাম মোস্তাফা,করবী
কাহিনী সংক্ষেপে- তিতাস একটি নদীর নাম সিনেমাটি মল্লবর্মনের বিখ্যাত উপন্যাস “অদ্বৈত” অবলম্বনে নির্মিত। তিতাস নদী ও নদী পাড়ের মানুষের জীবন চিত্র উঠে এসেছে এই বাংলা ছবিতে। ছবিটি ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউটের জরিপে দর্শক ও সমালোচক দুই শ্রেনীতেই প্রথম স্থান অধিকার করে ।
২. চিত্রা নদীর পারে
চিত্রা নদীর পাড়ে (১৯৯৯)
মুক্তিলাভ -১৯৯৯
পরিচালকঃ তানভীর মোকাম্মেল
অভিনয়ে- মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, আফসানা মিমি, রওশন জামিল।
কাহিনী সংক্ষেপে- এই বাংলা ছবিটি ১৯৪৭ এর সমসাময়িক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তৈরি করাহয়েছে। তৎকালিন দেশ ভাগের একটি চিত্র ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। ধর্মের পরিচয়ে বিভক্ত বিপুল মানুষের দেশবদল, তাদের আবেগ, আশা ও অনিশ্চয়তাকে পরিচালক অসাধারণ একটি শৈল্পিকতায় বন্দী করেছেন।
৩. সীমানা পেরিয়ে
সীমানা পেরিয়ে (১৯৭৭)
মুক্তিলাভ -১৯৭৭
পরিচালকঃ আলমগীর কবির
অভিনয়ে- বুলবুল আহমেদ, জয়শ্রী কবির
কাহিনী সংক্ষেপে- ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও সামুদ্রিক জলোচ্ছাসে এক তরুন আর এক ধনীর দুলালী তরুনী ভাসতে ভাসতে এসে পৌঁছায় জনমানবহীন এক দ্বীপে। সেখানে শুরু হয় তাদের বেঁচে থাকার সংগ্রাম। এবং এই আবে চলতেচলতে এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে দুজনের প্রতি ভালবাসা তৈরী হয় তারপর কাহিনী নেয় নতুন মোড়। একটি জনপ্রীয় রোমান্টিকতায় মোড়া এই বাংলা মুভি। এই ছবির “মেঘ থম থম করে” গানটি একটি এপিক গান হিসাবে ধরা হয়।
৪. বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না
বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না (১৯৮৯)
মুক্তিলাভ -১৯৮৯
পরিচালকঃ – তোজাম্মেল হক বকুল
অভিনয়ে-  অঞ্জু ঘোষ এবং ইলিয়াস কাঞ্চন।
কাহিনী সংক্ষেপে-বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম ব্যবসাসফল ছায়াছবি।ধনী গরীবের ভালবাসাই ছবিটির উপজীব্য। ছবিটির প্রতিটি গান আজো মানুষকে আলোড়িত করে। চলচ্চিত্রটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও পুননির্মাণ করে মুক্তি দেওয়া হয়।
৫. সাত ভাই চম্পা
মুক্তিলাভ -১৯৬৮
পরিচালকঃ – তোজাম্মেল হক বকুল
অভিনয়ে-  অঞ্জু ঘোষ এবং ইলিয়াস কাঞ্চন।
কাহিনী সংক্ষেপে- সাত ভাই চম্পা বা সাত ভাই চাম্পা হলো বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় রূপকথার গল্প। ১৯০৭ সালে দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের ঠাকুরমার ঝুলি নামক রূপকথার বইয়ে প্রথম প্রকাশ হয়েছিল। সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই বইয়ের ভূমিকা লিখেছিলেন। সাত ভাই চম্পার গল্পকে উপজীব্য করে বেশ কয়েকটি বাংলা সিনেমা নির্মিত হয়েছিল। ১৯৬৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সাত ভাই চম্পা চলচ্চিত্রটিকে ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট সর্বকালের সেরা দশটি বাংলা চলচ্চিত্রের মধ্যে স্থান দিয়েছে।
৬. জীবন থেকে নেয়া
জীবন থেকে নেয়া
মুক্তিলাভ -১৯৭০
পরিচালকঃ – জহির রায়হান
অভিনয়ে-  রাজ্জাক, সুচন্দা, রোজী সামাদ, খান আতাউর রহমান, রওশন জামিল, আনোয়ার হোসেন, প্রমুখ
কাহিনী সংক্ষেপে- ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি প্রথমবারের মত কোন ছবিতে দেখানো হয়, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হওয়ার গৌরব অর্জন করে । তৎকালীন সময়ে বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনকে অসাধারণ রুপকতায় ফুটিয়ে তুলেছেন। আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো গানটি জহির রায়হান সরাসরি একুশের প্রভাত ফেরি থেকে ধারন করেন
৭. ছুটির ঘন্টা (১৯৮০)
ছুটির ঘন্টা (১৯৮০)
মুক্তিলাভ -১৯৮০
পরিচালকঃ – আজিজুর রহমান
অভিনয়ে-  সুমন, রাজ রাজ্জাক, শাবানা, সুজাতা, শওকত আকবর, এবং এ টি এম শামসুজ্জামান
কাহিনী সংক্ষেপে- এই ছবিটি একটি সত্য ঘটনার উপর নির্মিত। ঈদের ছুটি ঘোষনার দিন সবার অলক্ষ্যে স্কুলের বাতরুমে আটকা পরে বারো বছরের এক ছাত্র। আটক থেকে মুক্তি পাওয়ার আকুতি, অমানবিক কষ্টের স্বরূপ পরিচালক তাঁর দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলেছেন।
৮. নবাব সিরাজউদ্দৌলা
নবাব সিরাজউদ্দৌলা
মুক্তিলাভ -১৯৬৭
পরিচালকঃ – খান আতাউর রহমান
অভিনয়ে-  আনোয়ার হোসেন। এছাড়া অন্যান্য ভূমিকায় অভিনয় করেন আনোয়ারা, আতিয়া চৌধুরী, এবং খান আতাউর রহমান।
কাহিনী সংক্ষেপে- বাংলাদেশের পটভূমিতে নির্মিত প্রথম ঐতিহাসিক গল্পের চলচ্চিত্র। পলাশীর প্রান্তরে মীরজাফরের কূটচালে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর কাছে পরাজিত হন । সেই সাথে বাঙালির সৌভাগ্যের সূর্য্যও অস্থমিত হয়। সেই ঘটনাই আনোয়ার হোসেন দক্ষ অভিনয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন। যার প্রতিটি সংলাপ আজো মানুষের মুখে মুখে।
৯. রূপালী সৈকতে
মুক্তিলাভ -১৯৭৯
পরিচালকঃ – আলমগীর কবির
অভিনয়ে-  বুলবুল আহমেদ, জয়শ্রী কবির,আনোয়ার হোসেন,শর্মিলী, অঞ্জনা রহমান,রোজী সামাদ,উজ্জল
কাহিনী সংক্ষেপে- ছবিটির মূল উপজীব্য হচ্ছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহ পরিচালক অসীম সাহসীকতায় ফিতায় বন্দি করেছেন।
 
১০. ধীরে বহে মেঘনা
ধীরে বহে মেঘনা
মুক্তিলাভ -১৯৭৩
পরিচালকঃ – আলমগীর কবির
অভিনয়ে-  বুলবুল আহমেদ, ববিতা, গোলাম মুস্তাফা, আনোয়ার হোসেন, খলিল উল্লাহ খান প্রমুখ
কাহিনী সংক্ষেপে- এটি আলমগীর কবির পরিচালিত প্রথম ফিচার চলচ্চিত্র। ভারতের সাথে যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচিত্র ধীরে বহে মেঘনা।
 
ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট ২০০৭ সালে দুইটি ক্যাটাগরীতে বাংলাদেশের সেরা দশটি চলচ্চিত্রের দুটি তালিকা তৈরী করে ।
সর্বকালের সেরা বাংলাদেশী চলচ্চিত্রঃ চলচ্চিত্র বোদ্ধা ও সমালোচকদের দৃষ্টিতে –
১। তিতাস একটি নদীর নাম – ঋত্বিক ঘটক (১৯৭৩)
২। চিত্রা নদীর পারে – তানভীর মোকাম্মেল (১৯৯৯)
৩। নদীর নাম মধুমতি – তানভীর মোকাম্মেল (১৯৯৪)
৪। সীমানা পেরিয়ে – আলমগীর কবির (১৯৭৭)
৫। বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না – তোজাম্মেল হক বকুল (১৯৮৯)
৬। সূর্য দীঘল বাড়ী – শেখ নিয়ামত আলী ও মসীউদ্দীন শাকের (১৯৭৯)
৭। ধীরে বহে মেঘনা – আলমগীর কবির (১৯৭৩)
৮। রূপালী সৈকতে – আলমগীর কবির (১৯৭৯)
৯। শ্রাবণ মেঘের দিন – হুমায়ুন আহমেদ (১৯৯৯)
১০। সাত ভাই চম্পা – দীলিপ সোম (১৯৬৮)
সর্বকালের সেরা বাংলাদেশী চলচ্চিত্রঃ দর্শকদের দৃষ্টিতে ও ভোটে –
১। তিতাস একটি নদীর নাম – ঋত্বিক ঘটক (১৯৭৩)
২। সীমানা পেরিয়ে – আলমগীর কবির (১৯৭৭)
৩। চিত্রা নদীর পারে – তানভীর মোকাম্মেল (১৯৯৯)
৪। উত্তরা – বুদ্ধদেব দাসগুপ্ত (১৯৯৯)
৫। সাত ভাই চম্পা – দীলিপ সোম (১৯৬৮)
৬। রূপালী সৈকতে – আলমগীর কবির (১৯৭৯)
৭। লালসালু – তানভীর মোকাম্মেল (২০০১)
৮। ধীরে বহে মেঘনা – আলমগীর কবির (১৯৭৩)
৯। সুপ্রভাত – কবীর আনোয়ার (১৯৭৬)
১০। জীবন থেকে নেয়া – জহির রায়হান (১৯৭০)

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

auto ads
error: Content is protected !!